এবারের জাতীয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছে না তিনটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে যখন গতি, ঘাম আর প্রতিযোগিতার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে, তখন দেশের তিন জেলার সাইক্লিস্টদের চোখে কেবলই হতাশা। জাতীয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে, কিন্তু বাগেরহাট, সিলেট ও নোয়াখালীর সাইক্লিস্টদের জন্য এই আসর যেন হয়ে উঠেছে অপূর্ণ এক গল্প।
২৩টি
ইভেন্টে ২২টি দলের ২২৪
জন পুরুষ ও মহিলা সাইক্লিস্ট
নিয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে তিন
দিনব্যাপী জাতীয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা। যুব ও ক্রীড়া
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল
হক
উদ্বোধন করেন এই আয়োজন।
দেশের সেরা সাইক্লিস্টরা নতুন
রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন নিয়ে
ট্র্যাকে নামলেও তিন জেলার প্রতিনিধিরা
রয়ে গেলেন গ্যালারির বাইরের মানুষ হয়ে।
ঘটনার
সূত্রপাত নিবন্ধন প্রক্রিয়া ঘিরে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের শেষ সময় ছিল
২৯ এপ্রিল। বাগেরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থা
কিছুটা অতিরিক্ত সময় চাইলেও তা
মঞ্জুর করেনি বাংলাদেশ
সাইক্লিং
ফেডারেশন। পরে দল
নিয়ে উপস্থিত হয়েও আর সুযোগ
পায়নি তারা।
২৩টি ইভেন্টে ২২টি দলের ২২৪ জন পুরুষ ও মহিলা সাইক্লিস্ট নিয়ে শুরু হয়েছে জাতীয় সাইক্লং প্রতিযোগিতা। ছবি : সংগৃহীত
বাগেরহাট
জেলা ক্রীড়া সংস্থার ম্যানেজার এস
এম
ঈমাম
হোসেন
সোহাগ
জানান, শেষ মুহূর্তে দল
নিবন্ধনের রেওয়াজ আগে ছিল। সেই
অভিজ্ঞতা থেকেই তারা আশাবাদী ছিলেন।
কিন্তু এবার নিয়মের কঠোর
দেয়ালে আটকে যায় তাদের
অংশগ্রহণ।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু
হেনা
মোস্তফা
কামাল
স্পষ্ট করে দেন, সময়সীমা
পেরিয়ে যাওয়ার পর আর কাউকে
অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ ছিল
না। এমনকি মজার ছলে তিনি
বলেন, “এসে মার্চপাস্ট করে
চলে যাও।”
শুধু
বাগেরহাট নয়, একই সমস্যায়
পড়ে সিলেট ও নোয়াখালী জেলা
ক্রীড়া সংস্থাও। ফলে দেশের বিভিন্ন
প্রান্তের সাইক্লিস্টরা যখন ট্র্যাকে নিজেদের
সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন এই তিন
জেলার খেলোয়াড়দের ভূমিকা কেবল দর্শকের।
তবে
প্রতিযোগিতার উত্তাপ কমেনি। মাসের পর মাস কঠোর
অনুশীলনের পর তরুণ সাইক্লিস্টরা
এবার ট্র্যাকে নামছেন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে। নতুন জাতীয় রেকর্ড
গড়ার স্বপ্নে উজ্জীবিত অনেকেই। তাই প্রতিযোগিতাটি শুধু
একটি চ্যাম্পিয়নশিপ নয়—এটি দেশের
সাইক্লিংয়ের ভবিষ্যৎ তারকাদের উত্থানের মঞ্চও।
কিন্তু সব উত্তেজনার মাঝেও
একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—কিছু প্রশাসনিক জটিলতা
কি তিন জেলার সাইক্লিস্টদের
স্বপ্ন কেড়ে নিল?
আরকে/প্রবা