প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ২২:২৮ পিএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩১ পিএম
প্রথম দল, প্রথম টুর্নামেন্ট, প্রথম জয়, এশিয়ান গেমসের মূলপর্ব নিশ্চিতের পর এবার বাছাইপর্বের ফাইনালে উঠে আরেকটি ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দল। ছবি : এশিয়ান হকি ফেডারেশন
প্রথমবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রেখেই যেন রূপকথার গল্প লিখছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দল। একের পর এক চমক দেখিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার বড় আসরের দোরগোড়ায়। হংকং চায়নাকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে খেলার টিকিট নিশ্চিত করার পরও থামেনি এই যাত্রা- সেমিফাইনাল জিতে এখন তারা ফাইনালে!
মঙ্গলবার
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় বাছাইপর্বের প্রথম সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল সিঙ্গাপুর নারী
হকি দল। ম্যাচের জয়ের নায়িক আইরিন আক্তার রিয়া। তার অনবদ্য হ্যাটট্রিকে ৩-১
গোলে জিতে ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের
শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। অষ্টম মিনিটেই আইরিনের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে বেশিক্ষণ
সেই লিড ধরে রাখা যায়নি, ১২ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে চিয়া চেরিলের গোলে
সমতায় ফেরে সিঙ্গাপুর।
এরপর
ম্যাচ যেন আটকে যায় মাঝমাঠের লড়াইয়ে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ার্টারে সুযোগ তৈরি করেও গোলের
দেখা পায়নি লাল-সবুজরা। একাধিক পেনাল্টি কর্নারও কাজে লাগাতে পারেননি নাদিরা বা অধিনায়ক
অর্পিতা পাল। প্রতিপক্ষ গোলকিপারের দৃঢ়তায় বারবার থেমে যায় বাংলাদেশের আক্রমণ।
কিন্তু
শেষ কোয়ার্টারে বদলে যায় দৃশ্যপট। ম্যাচ শেষ হতে যখন আর মাত্র চার মিনিট বাকি, তখন
আবারও হাজির আইরিন। দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে এগিয়ে দেন দলকে। সিঙ্গাপুর ভিডিও রেফারেল
নিলেও গোল বহাল থাকে। এরপর ৫৮ মিনিটে নিজের তৃতীয় গোল করে ম্যাচটি নিজের করে নেন তিনি।
হ্যাটট্রিকের সঙ্গে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়। জিবিকে হকি মাঠে প্রথম তিন কোয়ার্টারে
বাংলাদেশকে বেশ ভুগিয়েছে সিঙ্গাপুর। কিন্তু জয়ের হাসি হাসে বাংলাদেশই। হ্যাটট্রিক করে
ম্যাচসেরার পুরস্কার পান আইরিন।
এই
জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়-এটা বাংলাদেশের নারী হকির জন্য এক নতুন সূচনা। দেশের
পুরুষ হকির দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও নারী হকি এতদিন ছিল অনেকটাই আড়ালে। এবার সেই চিত্র
বদলাতে শুরু করেছে।
মজার
বিষয়, এত বড় সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল বেশ নীরবে। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন দলটিকে
বিদেশে পাঠালেও আয়োজন করেনি কোনো জাঁকজমকপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন। যেন চাপহীন এক যাত্রাই
এনে দিল ইতিহাস।
এই
দলের পেছনেও আছে পরিশ্রমের গল্প। শুরুতে ৩৭ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে ক্যাম্প শুরু হয় বিকেএসপিতে।
ধাপে ধাপে সেটি কমে দাঁড়ায় ২৬ জনে, এরপর চূড়ান্ত ১৮ সদস্যের স্কোয়াড।
ম্যাচসেরার পুরস্কার নিচ্ছেন অনবদ্য হ্যাটট্রিক করা আইরিন আক্তার রিয়া। ছবি : এশিয়ান হকি ফেডারেশন
দলের
বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই (১৪ জন) এসেছে বিকেএসপি থেকে, সঙ্গে বাইরে থেকে সুযোগ পাওয়া কয়েকজন
প্রতিভা। মাত্র দুই মাসের প্রস্তুতি-আর সেই প্রস্তুতিতেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে এমন সাফল্য!
ফাইনালে
উঠেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা- এই দল দেখিয়ে দিয়েছে, সুযোগ পেলে
মেয়েরাও পারে ইতিহাস লিখতে। হয়তো এটাই বাংলাদেশের নারী হকির সেই শুরু, যেখান থেকে একদিন
বড় স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ নেবে।
বাংলাদেশ
জাতীয় নারী হকি দল : অর্পিতা পাল, হিমাদ্রি
বড়ুয়া সুখ, নীলাদ্রি বড়ুয়া নীল, রিয়াশা আক্তার ঋষি, নিনিশেন রাখাইন, তন্নি খাতুন, ধানুচিং
মারমা, শারিকা সাফা রিমন, ফাতেমা তুজ-জোহরা, আইরিন আক্তার রিয়া, নাদিরা তালুকদার এমা,
কনা আক্তার, জাকিয়া আফরোজ লিমা, মহুয়া, সানজিদা আক্তার মনি, রিতু আক্তার, ফারদিয়া আক্তার
রাত্রি ও নাদিরা।
আরকে/প্রবা