সম্মানিত হলেন টিটি কিংবদন্তী লিনু
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০২ পিএম
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৫৩ এএম
কিংবদন্তী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনুকে “প্রাইড অব বাংলাদেশ টেবিল টেনিস” সম্মননায় ভূষিত করা হচ্ছে। ছবি : বিটিটিএফ
শতবর্ষ-আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস
খেলার ইতিহাসে দীর্ঘ এক যাত্রার প্রতীক। আর সেই বিশেষ দিনটিই (বিশ্ব টেবিল টেনিস দিবস)
বাংলাদেশে ধরা দিল এক আবেগঘন, অনুপ্রেরণাময় আয়োজন হিসেবে। যেন একই মঞ্চে মিলিত হলো
অতীতের গৌরব আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন
(বিটিটিএফ)। 
সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে ৮টি পদকজয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ টিটি দলের সঙ্গে ফটোসেশন। ছবি : বিটিটিএফ
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়াম সেদিন শুধু একটি অনুষ্ঠানস্থল ছিল না-এটি পরিণত হয়েছিল
প্রজন্মের মেলবন্ধনে। একপাশে কিংবদন্তি
জোবেরা রহমান লিনু, অন্যপাশে সদ্য আন্তর্জাতিক আসর মাতানো তরুণরা।
ভারতের শিমলায় সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ
টেবিল টেনিসে পদক জিতে ফেরা খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন লিনু নিজেই। মুহূর্তটি
ছিল প্রতীকী, যেন সাফল্যের মশাল এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া।
কেক কেটে বিশ্ব টেবিল টেনিস দিবস উদযাপন করা হয়। ছবি : বিটিটিএফ
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ণ ছিল সম্প্রতি
স্বাধীনতা পদকে ভূষিত কিংবদন্তী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনুকে “প্রাইড অব
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস” সম্মননায় ভূষিত করা।
এরপর শুরু হয় গল্প-সংগ্রামের, সাহসের,
আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির। ১৬ বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানো
এই কিংবদন্তি ফিরে যান তার শৈশবে। চট্টগ্রামের কাপ্তাইয়ে ৯ বছর বয়সে শুরু করা পথচলা
মোটেও সহজ ছিল না। সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে মেয়েদের খেলাধুলা করা তখনও ছিল
সামাজিক বাধার মুখে।
কিন্তু তার পাশে ছিলেন প্রগতিশীল
বাবা শেখ আবদুর রহমান। সেই সমর্থনই পথ দেখায় লিনু ও তার বোন মনিরা মোর্শেদ হেলেনকে।
তরুণদের উদ্দেশে লিনুর সরল কিন্তু শক্ত বার্তা-শৃঙ্খলা ছাড়া সাফল্য অসম্ভব, আর শর্টকাট
বলে কিছু নেই।
সম্মাননা স্মারক হাতে হাস্যোজ্জ্বল জীবন্ত টিটি কিংবদন্তী জোবেরা রহমান লিনু। ছবি : বিটিটিএফ
অনুষ্ঠানে উঠে আসে আন্তর্জাতিক
অভিজ্ঞতার কথাও। ১৯৮০ সালে কলকাতায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের একটি স্মৃতি শোনান তিনি,
যেখানে এক জাপানি খেলোয়াড় কোচের নির্দেশনায় হারতে বসা ম্যাচ ঘুরিয়ে জিতেছিলেন। সেই
প্রসঙ্গ টেনে লিনু আক্ষেপ করেন, তার সময় এমন কোচিং সুবিধা ছিল না।
বর্তমানে বাংলাদেশ টেবিল টেনিসে
বিদেশি কোচ থাকলেও প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি, এ নিয়ে হতাশা থাকলেও আশাবাদ ছাড়েননি তিনি।
নতুন জাপানি কোচের হাত ধরে দেশের টেবিল টেনিসে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে-এমনটাই বিশ্বাস
তার।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে ভবিষ্যতের কথাও
উঠে আসে জোরালোভাবে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ টেবিল টেনিস অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান
লিনু। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের জন্য সরকারি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে অনুষ্ঠিত
প্রধান অতিথি ছিলেন মাহবুব-উল-আলম।
তার সামনে টেবিল টেনিসের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক
ক্যাপ্টেন এএম মাকসুদ আহমেদ সনেট।
একটি দিন, একটি মঞ্চ কিন্তু সেখানে
ছিল শত বছরের ইতিহাস, সংগ্রাম, আর আগামীর স্বপ্নের স্পন্দন।
আরকে/প্রবা