বাফুফের কাছে ছয়টি দাবি জানিয়ে আবেদনপত্র দিয়েছে ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি। ছবি: ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সৌজন্যে
বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলা চলমান থাকলেও মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ফুটবলারদের আন্দোলন। বুধবার দুপুরে ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির ব্যানারে প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানীয় ফুটবলার বাফুফে ভবনে সমবেত হয়ে তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তারা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনের কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন। মূলত লিগে চালু থাকা সার্ক কোটা বাতিল বা পুনর্বিবেচনার দাবিতেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একটি
ক্লাবে সার্কভুক্ত পাঁচজন এবং সার্কের বাইরের তিনজন বিদেশি ফুটবলার খেলানোর সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া একাদশে একজন অনূর্ধ-২০ ফুটবলার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আন্দোলনকারী ফুটবলারদের
অভিযোগ, এই নিয়মের কারণে দেশীয় খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।
তারা মনে করছেন, বিদেশি ও সার্ক খেলোয়াড়ের আধিক্য দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের উন্নয়নে নেতিবাচক
প্রভাব ফেলতে পারে।
এই আন্দোলনে দেশের শীর্ষ ক্লাব
আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবলারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। যদিও
এই দুই দলে বর্তমানে কোনো সার্ক অঞ্চলের খেলোয়াড় নেই, তবুও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিষয়টিকে
আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
অন্যদিকে, ব্রাদার্স ইউনিয়নের
সাম্প্রতিক সাফল্যও এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফেডারেশন কাপে তারা আবাহনীকে
পেছনে ফেলে গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান দখল করেছে। এমনকি একটি ম্যাচে পাকিস্তানি এক ফুটবলারের
গোলে জয় পাওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। অনেকের মতে, সার্ক অঞ্চলের খেলোয়াড়দের কার্যকর
ব্যবহারের কারণেই ব্রাদার্স ইউনিয়নের এই সাফল্য।
বাফুফে ভবনের সামনে নিজেদের দাবির পক্ষে গণমাধ্যমে কথা বলছেন ফুটবলাররা। ছবি: সংগৃহীত
ফুটবলারদের দেওয়া স্মারকলিপিতে
আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশীয় খেলোয়াড়দের
জন্য বেশি সুযোগ নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, লিগে দলের সংখ্যা
বৃদ্ধি, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা কমানো।
ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির
প্রধান সমন্বয়ক আবুল হোসেন বলেন, তাদের দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। তার মতে, সার্ক কোটা
কমানো না হলে অনেক স্থানীয় ফুটবলারকে বেঞ্চে বসে থাকতে হবে, যা তাদের জীবিকা নির্বাহের
ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে
এসে বাংলাদেশের ফুটবল এখন দ্বৈত চাপে রয়েছে-একদিকে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অন্যদিকে মাঠের
বাইরের আন্দোলন। এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতিতে বাফুফে কী সিদ্ধান্ত নেয়।
আরকে/প্রবা