রুমেল খান
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৫৫ এএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:০০ এএম
ট্রফি মাঝে রেখে দুই অধিনায়ক- বাংলাদেশের মিঠু চৌধুরী (বাঁয়ে) ও ভারতের সুরুজ সিং। ছবি: সাফ
আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশের ক্রীড়াঙ্গনে
আসতে পারে একটি সাফল্যের সমাচার। সেটা বাংলাদেশ অনুর্ধ-২০ জাতীয় ফুটবল দলের মাধ্যমে।
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সাফ অনুর্ধ-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে
তারা মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ভারতের। নিজ নিজ সেমিফাইনাল ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট
কেটেছে প্রতিবেশী দেশ দুটি। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়।
ফাইনালের আগে গ্রুপেও মুখোমুখি
হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে জেতেনি কেউ। এবার চতুর্থবারের মতো
বয়সভিত্তিক সাফের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। এর আগে ২০১৯ সালে অনুর্ধ-১৮, ২০২২ সালে
অনুর্ধ-২০ ও ২০২৫ সালে অনুর্ধ-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন
বয়সের ক্যাটাগরিতে সাতবার হয়েছে বয়সসভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এর মধ্যে চারবার চ্যাম্পিয়ন
হয়েছে ভারত, দুইবার নেপাল। আর ২০২৪ সালে অনুর্ধ-২০ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছিল
বাংলাদেশ।
সাফের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে
নিয়মিতই খেলে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে প্রথম অংশ নিয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল তারা।
এরপর থেকে অনুর্ধ-১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ে মোট সাতবার খেলেছে। অন্য ছয়বারের মধ্যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে
রানার্সআপই হয়েছে চারবার!
প্রায় তিন বছর পর আবারও অনুর্ধ-২০
চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে ভারতকে হারাতে হবে তাদের।
নিজ নিজ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে
পাকিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। বাংলাদেশ ২-০ গোলে এবং ভারত ৩-০ গোলে পাকিস্তানকে
হারায়। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। টুর্নামেন্টের প্রথম
সেমিফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। পক্ষান্তরে অন্য সেমিতে ভুটানকে ৫-০ গোলে
বিধ্বস্ত করে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারত
উভয় দলই ফাইনালের আগে শেষবারের মতো অনুশীলনে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়। দুই দলের কোচ ও অধিনায়কদের
নিয়ে মনোরম পরিবেশে সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হয় এক ফটোসেশন, যেখানে প্রধান আকর্ষণ ছিল
ফাইনালের সুদৃশ্য ট্রফি। কে জিতবে এই ট্রফি?
বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ
মার্ক অ্যাডওয়ার্ড কক্স বলেন, ‘অবশ্যই ভারত অনেক শক্তিশালী দল। আমরা তাদের সমীহ করি।
কিন্তু আমরাও ফেলনা নই। আমাদেরও সামর্থ্য আছে তাদের হারিয়ে শিরোপা জেতার। যে কয়দিন
ধরে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে কাজ করছি, তাতে বুঝেছি এই দেশে খেলাটির ভীষণ জনপ্রিয়তা আছে
এবং দেশটির মানুষরা ফুটবল পাগল।’
মার্ক আরও যোগ করেন, ‘আমি মনে
করি ফাইনাল ম্যাচটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং কঠিন হবে। দু’দলেরই চ্যাম্পিয়ন
হওয়ার যোগ্যতা-সামর্থ্য আছে। আমি জানতে পেরেছি যে ফুটবলে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী
হচ্ছে ভারত (ক্রিকেট এবং হকির বেলাতেও একই কথা প্রযোজ্য), ফলে এই ম্যাচের গুরুত্ব ও
আকর্ষণ অনেক। শুধু বাংলাদেশ-ভারতই নয়, এই সাফ অঞ্চলে এই দুটো দেশের সঙ্গে পাকিস্তান
ও শ্রীলঙ্কার নামটিও নিতে হবে। আমি ব্রিটিশ, আমাদের ওখানেও এমন রাইভাল চারটি দেশ আছে-ইংল্যান্ড,
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড।’
ফাইনালের আগে কিভাবে নিজ দলের
ফুটবলারদের উজ্জীবিত করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্ক বলেন, ‘আমরা মালদ্বীপে খেলতে
এসেছি। এখানকার চমৎকার পরিবেশ, আবহাওয়া, নয়নাভিরাম নীল আকাশ, মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকত,
দারুণ মাঠ … এগুলোই
তো একজন ফুটবলারকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে যথেষ্ট।’
আজকের ফাইনালে নির্ধারিত ৯০
মিনিটের মধ্যে ফল নিষ্পত্তি না হলে সরাসরি টাইব্রেকার হবে। এজন্য বাংলাদেশ দল কতটা
প্রস্তুত? মার্কের ভাষ্য, ‘একজন ইংলিশম্যান হিসেবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয়
রাউন্ডে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়াটা আজও আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়।
সে কথা স্মরণে রেখে বলবো, কালকের ফাইনালটা টাইব্রেকার পর্যন্ত গড়াক, সেটা চাই না। চাইব
বাংলাদেশ যেন ৯০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের ফল বের করে নিতে পারে।‘
বাংলাদেশ অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী
বলেন, ‘দেশে থাকতে বলেছিলাম-ভারতের বিপক্ষে খেলতে সবসময়ই ভালো লাগে এবং তাদের হারিয়েই
আমরা ট্রফি জিততে চাই। তো, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটা এখন আমাদের সামনে এসেছে। কালকের
ফাইনালটা আমাদের জন্য ডু আর ডাই। আমরা প্রস্তুত। রেজাল্ট নিয়ে আগেভাগেই কিছু বলতে চাই
না। ম্যাচের পরেই সবকিছু বলবো। শুধু দেশবাসীকে বলবো আপনার আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
মিঠু আরও বলেন, ‘এখানকার মাঠকে
নিজেদের দেশের মাঠ বলেই মনে হচ্ছে। কেননা এখানে প্রচুর বাংলাদেশি দর্শক আমাদের সমর্থন
করছেন, আমাদের খেলা ও অনুশীলন দেখতে মাঠে আসছেন। আশাকরি ফাইনালেও তারা আসবেন এবং আমাদের
সাপোর্ট করবেন। তাদের সমর্থনেই আমরা উজ্জীবিত হয়ে মাঠে নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা
করব।‘
মিঠু বলেন, ‘বিগত কয়েকটি আসরের
ফাইনালে আমরা ভারতের কাছে হেরেছি। এটা আমাদের মাথায় আছে। তাদের সাথে ফাইনালে আমরা জানবাজি
লাগিয়ে খেলব। সতীর্থদের টুর্নামেন্টের শুরুতেই একটা বার্তা দিয়েছিলাম-আমরা এখানে এসেছি
দেশের হয়ে খেলতে, বাংলাদেশকে আমরা রিপ্রেজেন্ট করি, জার্সিতে বুকের ওপর একটা ফ্ল্যাগ
থাকে, দেশের মর্যাদাকে রক্ষার জন্য আমরা খেলতে নামি। আমরা সবাই দেশের জন্য এক হয়ে লড়ব
এবং জিতব।’
আরকে/প্রবা