প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০১ পিএম
‘সর্বপ্রথম আল্লাহতায়ালার কাছে লাখ
লাখ শুকরিয়া, আমরা ফাইনালে যেতে পেরেছি। এই ম্যাচসেরার পুরস্কারটা উৎসর্গ করছি আমার
অসুস্থ মা-কে। সবাই দোয়া করবেন আমরা যেন ফাইনাল জিতে ট্রফি নিয়ে দেশে যেতে পারি।’ কথাগুলো
মোহাম্মদ মানিকের, যার দেওয়া একমাত্র গোলে (১-০) সাফ অনুর্ধ-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বুধবার (১ এপ্রিল) প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। অপর সেমিতে ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ভারত।
ফাইনালে
উঠায় বাংলাদেশ দলকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দলের এই লড়াকু পারফরম্যান্স
এবং ১০ মিনিটে করা মানিকের জয়সূচক গোলের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। মাঠের এই দুর্দান্ত
লড়াই পুরো জাতিকে গর্বিত করেছে বলে প্রতিমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী
আরও বলেন যে, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের যুবাদের এই শৃঙ্খলা ও জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা
দেশের ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দেয়। জয়ের এই ধারা অব্যাহত রেখে খেলোয়াড়রা
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মান আরও বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চূড়ান্ত
লড়াইয়ে জয়ের ব্যাপারে গভীর আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ফুটবলাররা
শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করে শিরোপা নিয়েই দেশে ফিরবে। ফাইনাল ম্যাচে খেলোয়াড়দের সাফল্যের
জন্য তিনি দেশবাসীর দোয়া ও শুভকামনা প্রত্যাশা করি।’
গত আসরে বাংলাদেশ-নেপাল ছিল ফাইনালিস্ট।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে নেপালকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে শিরোপাটা নিজেদের করে নিয়েছিল
লাল-সবুজ বাহিনী। এবার ভেন্যু বদলেছে, সময়ও গড়িয়েছে। তবে দুই দলের লড়াইয়ের রেজাল্ট
কিন্তু বদলায়নি। মালে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সেমির ম্যাচ উপভোগ করতে হাজির ছিলেন উল্লেখযোগ্য
সংখ্যক বাংলাদেশি দর্শক। তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন বৃথা যায়নি। খেলার প্রথমার্ধেই জয়সূচক
গোলটি করেন মানিক। সেই লিড বাংলাদেশ ধরে রেখেছে শেষ পর্যন্ত।
খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল
খেলে বাংলাদেশ। কয়েকটি গোল প্রচেষ্টা নসাৎ হলে কিছুটা হতাশা বাড়ে। তবে মানিকের গোল
সেই হতাশাকে নিমিষেই পরিণত করে উল্লাসে। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার কিছুটা কমে গেলে
নিজেদের জাল ঠিকই অক্ষত রাখতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
যদিও ম্যাচের আগে বেশ অস্বস্তিতে ছিল
বাংলাদেশ। ডিফেন্ডার আশিকুর রহমানের চোট, ভারত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় নেপালের বিপক্ষে
ম্যাচে বাংলাদেশের ডাগআউটে হেড কোচ মার্ক কক্সের অনুপস্থিতি … সব মিলিয়ে
বেশ দুশ্চিন্তাই ভর করেছিল বাংলাদেশ শিবিরে। তবে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু পরিস্থিতি
সামাল দেন দক্ষতার সঙ্গেই। 
ম্যাচে ৩ মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণ
শাণান রোনান সুলিভান। বলে দৌড়ের সময় ভারসাম্য ঠিক রাখতে না পারায় শট হয়নি ঠিকঠাক, হাওয়ায়
ভেসে যাওয়া বল গ্লাভসে জমান নেপাল গোলকিপার। ষষ্ঠ মিনিটে ভালো জায়গা থেকে নাজমুল হুদা
ফয়সাল পোস্টের বাইরে শট নিয়ে হতাশা বাড়ান।
পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে ১০ মিনিটে এগিয়ে
যায় বাংলাদেশ। তিন জন নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া নেওয়া করে মুর্শেদ আলি চিপ বাড়ান বক্সে,
নিখুঁত হেডে জাল খুঁজে নেন মোহাম্মদ মানিক (১-০)। এই গোলের রেশ থাকতেই রোনান জালে বল
জড়িয়েছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে পাননি গোল।
১৭ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগটি পায় গ্রুপসেরা
হওয়া সেমিফাইনালে উঠে আসা নেপাল। তবে সুভাস বমের শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় আটকে বাংলাদেশের
ত্রাতা গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। এর একটু পর ফয়সালের আরেকটি হেড হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট।
২১ মিনিটে আবারও হতাশ হতে হয় ফয়সালকে।
বক্সে বুক দিয়ে বল রিসিভ করে রোনান বাড়িয়ে দেন ডান দিকে থাকা মুর্শেদকে, তার ক্রসে
ফয়সালের হেড আটকান গোলকিপার। বাকি সময়ে ব্যবধান বাড়াতে না পারলেও এগিয়ে থেকেই বিরতিতে
যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে নেপালের
রক্ষণে চাপ দিতে থাকে বাংলাদেশ। ৫৪ মিনিটে সতীর্থের লং পাসে ছুটে গিয়ে ভালো জায়গায়
থেকেও পা ছোঁয়াতে পারেননি জয় আহমেদ। ছয় মিনিট পর নেপালের বিজ্ঞান খাদকার ফ্রি কিক উপরের
জাল কাঁপায়।
এরপর থেকে বাংলাদেশের আক্রমণের ধার
কমে কিছুটা। সমতায় ফিরতে মরিয়া নেপালের আক্রমণ সামলে পাল্টা আক্রমণে মনোযোগী হয় দল।
৮০তম মিনিটে সুযোগও এসেছিল, কিন্তু সতীর্থের কাটব্যাক গোলমুখে পাওয়ার পর ডিফেন্ডারের
চার্জে ভারসাম্য হারিয়ে শটই নিতে পারেননি স্যামুয়েল রাকস্যাম।
৮৭তম মিনিটে বদলি নামেন ডেকলান সুলিভান।
লাল-সুবজের জার্সিতে ভাই রোনানের অভিষেক হয়েছিল আগেই, এবার ডেকলানেরও হলো। একটু পরই
অনুভব পুরির দুরপাল্লার জোরাল শট শুয়ে পড়ে আটকে বাংলাদেশকে স্বস্তিতে রাখেন ডিফেন্ডার
ইউসুফ আলি।
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে রোনানের
পাসে গোলমুখ থেকে সুমন সরেনের শট নেপাল গোলকিপার ফেরালে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। কিন্তু
স্বস্তির জয়ে ফাইনালে ওঠার আনন্দে ঠিকই মেতে ওঠে বাংলাদেশ।
আরকে/প্রবা