প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ ২২:২৪ পিএম
আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬ ২২:২৬ পিএম
কথায় আছে, ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।’
কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য শেষটা আর ভালো হলো না। যদিও ম্যাচে তারা বেশ
ভালোই খেলেছিল। কিন্তু গোলের খেলা ফুটবলে গোল না পেলে যা হয়, তাই হয়েছে লাল-সবুজ বাহিনীর
বেলায়। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই
অভিযান শেষ করেছে বাংলাদেশ।
গ্রুপ সি-তে ৬ ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট
৫। ৬ ম্যাচে কেবল একটিই জয় পেয়েছেন হামজা চৌধুরীরা, সেটা ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে।
বাংলাদেশের হার তিনটি আর ড্র দুটি।
ধারণা করা হচ্ছে, এটাই ছিল জাভিয়ের
ক্যাবরেরার বাংলাদেশের কোচ হিসেবে শেষ ম্যাচ। কেননা ৩১ মার্চ পর্যন্তই ছিল তার চুক্তির
মেয়াদ। বাফুফে সেই চুক্তি নবায়ন করবে না বলেই জোর গুঞ্জন আছে ফুটবলাঙ্গনে।
শেষ ম্যাচের একাদশে দুটি পরিবর্তন করেন
ক্যাবরেরা। ভিয়েতনামের সঙ্গে খেলা প্রীতি ম্যাচের
একাদশ থেকে বাদ দেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ ও ফরোয়ার্ড মিরাজুল ইসলামকে। তাদের
জায়গায় ফেরান মিতুল মারমা ও শেখ মোরসালিনকে।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে
প্রথম দুই ম্যাচে হারেনি বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মাঠে হারল তারা। বাংলাদেশ
সেরা সুযোগটা পায় ১৪ মিনিটে। ডান দিক দিয়ে দারুণ ওয়ান-টু খেলার পর সাদ উদ্দিন বক্সে
চমৎকার এক ক্রস পাঠান। সেখানে একেবারে ফাঁকায় বল পান শমিত সোম। তবে তার হেড চলে যায়
ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
হ্যারিস স্টুয়ার্টের গোলে ৩১ মিনিটে
এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। পাল্টা আক্রমণে কুয়েহর নেওয়া জোরালো শটটি মিতুল মারমা ঠেকালেও
বল চলে যায় ইখসান ফান্দির পায়ে। সেখান থেকে ইখসান বুদ্ধিদীপ্ত পাসে লক্ষ্যভেদ করেন
স্টুয়ার্ট। সেটাই হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্যনির্ধারক মুহূর্ত।
৩৯ মিনিটেও সমতায় ফেরার ভালো সুযোগ
পেয়েছিল বাংলাদেশ। বক্সের ভেতর শেখ মোরসালিনের শট ব্লক করে দেন বাহারুদ্দিন। তবে সেই
বল দখলে নিতে মাটিতে পড়ে যান ফাহিম। বাংলাদেশ পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারি তাতে
সাড়া দেননি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে সিঙ্গাপুর
গ্লেন কুয়ের পরিবর্তে মাঠে নামায় ইলহান ফান্দিকে। তাতে মাঠে একসঙ্গে খেলছেন তিন ভাই।
ইখসান ফান্দি ও ইরফান ফান্দি আগে থেকেই ছিলেন সেরা একাদশে।
বিরতির পর প্রেসিং ফুটবলে আক্রমণের
ধার বাড়ায় বাংলাদেশ। দুই প্রান্ত দিয়ে একের পর এক আক্রমণ করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল
না কোনোভাবে। ৬১ মিনিটে ফাহিমের জায়গায় শাহরিয়ার ইমন আর ৭২ মিনিটে ফাহমিদুল ও মোরাসালিনের
বদলে মাঠে আসেন বিশ্বনাথ ঘোষ ও মিরাজুল ইসলাম। তাতেও কাজ হয়নি।
ভাগ্যও সঙ্গে ছিল না বাংলাদেশের। ৭৯
মিনিটে হামজা চৌধুরীর দারুণ ক্রস পেয়েছিলেন মিরাজুল। তার শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে।
‘সি’ গ্রুপ থেকে সিঙ্গাপুর আগেই মূল
পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছিল, তাই এই ম্যাচটি ছিল আনুষ্ঠানিকতার। তবে ঘরের মাঠে খেলায়
তারা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই নেমেছিল। প্রথমার্ধে এক গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধে তারা খুব
বেশি ঝুঁকি নেয়নি।
গত জুনে ঢাকায় প্রথম লেগেও দারুণ লড়াই
করে সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এ নিয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পাঁচবারের
দেখায় তিনটিতেই হারল লাল-সবুজরা, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
আরকে/প্রবা