কাল স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি বাংলাদেশ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬ ২৩:০১ পিএম
কাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে
নিজেদের শেষ ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ (ফিফা র্যাংকিং ১৮১)। গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে
তাদের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর (১৪৮)। ম্যাচটি শুরু হবে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময়
সন্ধ্যা ৬টায়।
বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বে পারফরম্যান্স
বেশ মিশ্র-তারা ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেশের মনে আশা জাগিয়েছে,
যা ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়ের প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হয়েছে। তবে সিঙ্গাপুরের
সঙ্গে খেলা ম্যাচে (২০২৫ সালের জুনে) বাংলাদেশ ২-১ গোলে পরাজিত
হয়েছিল, যেটা তাদের গ্রুপ টেবিলে অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে। ৫ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে
যেখানে গ্রুপে চার দলের মধ্যে তিনে, সেখানে সমান ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে।
সিঙ্গাপুর ইতোমধ্যেই এশিয়ান কাপের মূলপর্বের
যোগ্যতা অর্জন করেছে, ফলে তারা আত্মবিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে খেলায় যাবে। তবে আগেই
ছিটকে যাওয়া বাংলাদেশও শেষ ম্যাচে সব রকম ঝুঁকি নিয়ে খেলবে- শক্তিশালী মিডফিল্ড বিল্ড‑আপ,
দ্রুত কনট্রা আক্রমণ ও রক্ষণভাগে সংহত খেলা হবে তাদের মূল নির্ভরশীল অংশ।
বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা হবে প্রতিপক্ষের
দ্রুত গতিপূর্ণ খেলাকে সামলাতে এবং সুযোগ পেলেই গোলের চেষ্টা চালাতে। তিন পয়েন্ট জাতীয়
দলের এশিয়ান কাপ স্বপ্ন কে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমর্থকরা
উত্তেজনা ও আশায় অপেক্ষা করছে- সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে লড়াইটা হবে সময়ের সেরা প্রদর্শন
অংশ হতে পারে।
এই ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশ দলের তারকা
মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী বলেন, ‘অবশ্যই আমরা জেতার জন্য আত্মবিশ্বাসী। ইনশাল্লাহ
আমরা জিতব।’
কদিন আগে ভিয়েতনামের কাছে প্রীতি ম্যাচে
হেরে যায় বাংলাদেশ। এ নিয়ে সবাই হতাশ থাকলেও তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। সিঙ্গাপুরে
প্রবাসী সমর্থকরা মাঠের অনুশীলনে গিয়ে জামাল ভূঁইয়াদের নানাভাবে উজ্জীবিত করে যাচ্ছেন।
আবহ পরিবর্তনে সেটা প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কানাডা প্রবাসী ফুটবলার
শমিত সোম। বাফুফের ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘সব খেলোয়াড়দের সাথে আমার সম্পর্ক
অনেক ভালো। হোক সেটা মাঠে কিংবা বাইরে-দলকে সাহায্য করতে পারি। সব মিলিয়ে আমার ভালো
লাগছে।’
জাতীয় দলে খেলা চাপের কিনা এর উত্তরে
শমিত বলেছেন, ‘প্রেশার যদি সত্যি বলতে বলা হয়, ওরকম প্রেসার আমরা চিন্তা করছি না। আমরা
শুধু খেলি। আমরা হৃদয় ও কাজেমকে মিস করেছি। আর যারা আসে নাই- রাকিব আর তপু... একসময়
হয়তো হামজা, আমি খেলতে পারবো না যদি চোটগ্রস্ত হই। তখন কী হবে... পরে যারা আসবে দেখতে
হবে কেমন পারফরম্যান্স করে। ফুটবল ১১ জন নয়, পুরো দলের খেলা। সেভাবে দল উন্নতি করতে
পারবে।’
ভিয়েতনাম ম্যাচের হার নিয়ে শমিতের কথা,
‘এখন একটু আশ্বস্ত হয়েছি। দুই তিন দিন হয়েছে একটু স্থির হয়েছি। সবার একটু মন খারাপ
ছিল আগের ম্যাচ যেভাবে হয়েছে। এখন দৃষ্টি সামনের ম্যাচে। আশা করছি একটা ভালো পারফরম্যান্স
করতে পারবো। আর এখন অনুশীলন শুরু করেছি, যেন ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারি, ম্যাচ জিততে
পারি। অন্তত পয়েন্ট নিতে পারি।’
এখন দেখার বিষয়, আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ
জিততে পারে কি না।
আরকে/প্রবা