× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাসিক এক লাখ টাকা বেতন : খেলোয়াড়দের অনুভূতি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬ ২২:৪৩ পিএম

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬ ২২:৪৫ পিএম

ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ক্রীড়াবিদরা। ছবি : পিএমও

ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ক্রীড়াবিদরা। ছবি : পিএমও

ক্রিকেট, ফুটবলের বাইরে অন্য সকল খেলোয়াড়দের আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক। জীবন-জীবিকার জন্য খেলার পাশাপাশি অন্য কাজও করতে হয়। বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহারে খেলাকে পেশায় রুপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেটা বাস্তবায়ন সোমবার জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর মধ্যে এনেছে।

নির্বাচিত প্রত্যেক খেলোয়াড় প্রতি মাসে ভাতা পাবেন এক লাখ টাকা করে। ভাতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদকজয়ীদের জন্য এককালীন বিশেষ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণপদক বিজয়ীরা ৩ লাখ টাকা, রৌপ্য বিজয়ীরা ২ লাখ টাকা আর ব্রোঞ্জ পদক বিজয়ীরা পাবেন ১ লাখ টাকা। দলগত ইভেন্টে স্বর্ণপদক জয়ী দল ২ লাখ টাকা, রৌপ্য জয়ী দল ১.৫ লাখ টাকা আর ব্রোঞ্জ জয়ী দল পাবে ১ লাখ টাকা করে। বেতনের আওতায় আসা ক্রীড়াবিদদের প্রতি চার মাস পরপর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। পারফরম্যান্স বজায় থাকলে এই সুবিধাও অব্যাহত থাকবে তবে ঘাটতি দেখা দিলে তালিকা থেকে বাদ পড়বে নাম।

ক্রিকেট বোর্ড স্বচ্ছল এবং ক্রিকেটাররা ভালো সম্মানী পান। এজন্য ক্রিকেট বাদে অন্য সকল খেলার জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা মাসে ১ লাখ টাকা করে সম্মানী পাবেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আভাস দিয়েছিলেন ভাতার অঙ্ক বেশ আকর্ষণীয় হবে। এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ ক্রীড়াবিদকে বেতনকাঠামোর আওতায় আনা হবে। সরকারের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের ক্রীড়াবিদেরা। তাঁরা বলছেন, এ উদ্যোগের ফলে খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে যেমন প্রতিযোগিতা হবে, একইভাবে সবাই চাইবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভালো করতে। ক্রীড়া ভাতা অনুষ্ঠানে ১২৯  ক্রীড়াবিদ এই ভাতা পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। চলুন, শোনা যাক, খেলোয়াড়দের অনুভূতি।

খই খই সাই মারমা (টিটি খেলোয়াড়) : আসলে ভাবতে পারিনি মাসে এত বেতন পাব। এটা প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য খুশির ব্যাপার। তিন চার মাস পর যেহেতু পরিবর্তন হবে ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে। আমরা যারা এই পর্যায়ে আসছি, আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।

জাভেদ আহমেদ (টিটি খেলোয়াড়) : আমাদের অনেক দিনের চাওয়া ছিল পেশা হিসেবে খেলাকে নিতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটা ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে। ক্রীড়াঙ্গনের ফলাফল বদলে দেবে। আমরা এটা এখন পেশা হিসেবে নিতে পারব। আগে পিছু টান ছিল। এই জায়গাটা এখন আর থাকছে না।

হিমু বাছাড় (আরচার) : ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় কেউ আসতে চায় না। এখন ক্রীড়াবিদরা একটা ভাতার আওতায় আসায় অনেকেই তার পছন্দ অনুযায়ী খেলায় আসবে। বেশ দারুণ উদ্যোগ।

সাবিনা খাতুন (ফুটবলার) : এখন যে কেউ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। তাকে খেলার পাশাপাশি অন্য কোনো চিন্তা করতে হবে না। পরিবারও তাদের সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কায় থাকবে না।

শহীদ উল্লাহ (প্যারা অ্যাথলেট) : আমাদের জীবনযাপন অন্য রকম। চলাফেরা ও অনেক কিছুতেই খরচ বেশি। খেলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা রয়েছে। সরকার আমাদের ভাতা দিচ্ছে এজন্য অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগ সাধুবাদ জানাই।

মোহাম্মদ ইসমাইল (স্প্রিন্টার, সাবেক দ্রুততম মানব) : একজন অ্যাথলেটের ফিটনেস ঠিক রাখা, পুষ্টির চাহিদা মেটাতেই মাসে ৩০৪০ হাজার টাকা লাগে। আমরা পারফরম্যান্স করব নাকি টাকার টেনশন করব। সরকারের এই উদ্যোগ আমাদের জন্য খুবই কাজে দেবে। টাকার জন্য এখন আর কাউকে খেলা ছাড়তে হবে না। কেউ আর্থিক সমস্যা নিয়েও ভাববে না, সবার লক্ষ্য থাকবে কীভাবে ভালো পারফর্ম করা যায়।

আল-আমিন জুমার (শাটলার) : তরুণেরা এখন ব্যাডমিন্টনে আরও বেশি আগ্রহী হবে। আগে পরিবার থেকেও বাধা আসত, এখন সবাই খেলাধুলা দিয়েই ভবিষ্যৎ গড়তে চাইবে। তবে এটা আনন্দের পাশাপাশি দারুণ চ্যালেঞ্জিংও। কারণ, আমার জুনিয়র যে আছে, সে এখন চাইবে আমার জায়গায় আসতে, আমিও চাইব পারফরম্যান্স আরও ভালো করে এই জায়গাটা ধরে রাখতে।

‘ক্রীড়া কার্ড’-এর সুবিধা : ‘ক্রীড়া কার্ড’-এর আওতায় ক্রীড়াবিদরা পাবেন আন্তর্জাতিক মানের উন্নত প্রশিক্ষণ। পাশাপাশি থাকবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা। বিদেশি কোচের অধীনে প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় অর্থায়ন। এছাড়া খেলোয়াড়ি জীবন শেষে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তাও থাকবে।

প্রথম ধাপে আর্চারি, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, ভারোত্তলন, উশু, প্যারা অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক তাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল, ব্রিজ ও ফুটসালের ক্রীড়াবিদরা এই সুবিধা পাবেন। এই তালিকায় ক্রিকেটাররা নেই।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবউলআলম। এরপর ক্রীড়াবিষয়ক ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়। এতে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তাঁদের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর অবদান তুলে ধরা হয়।

আরকে/প্রবা 

 

 

 

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা