প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩৯ পিএম
সাফ অনূর্ধ-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ যেমন প্রত্যাশা করা হয়েছিল তেমনই হয়েছে। উত্তেজনা, রোমাঞ্চ, বিতর্ক ... প্রথমার্ধে এমন কিছু নেই যার দেখা মেলেনি। দ্বিতীয়ার্ধেও ব্যতিক্রম কিছু ছিল। তবু আলাদা করা যায়নি দুই দলকে। শনিবার (২৭ মার্চ) শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়েছে ম্যাচ।
মালদ্বীপের জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে লড়াইটা ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। পাকিস্তানকে হারিয়ে দুই দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আগেই। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে বাংলাদেশের জয়ের বিকল্প ছিল না।
শুর“ থেকে জমে ওঠে লড়াই। বাংলাদেশ চাপ দিতে থাকে ভারতের রক্ষণে। দ্বাদশ মিনিটে কর্নারে আশিকুর রহমানের হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।
১৭ মিনিটে কর্নার থেকে বিশাল যাদবের হেডে এগিয়ে যায় ভারত। বাংলাদেশও ম্যাচে ফেরার জন্য চেষ্টা করতে থাকে মরিয়া হয়ে। কিš‘ কিছুতেই দুইয়ে দুইয়ে চার হচ্ছিল না। একের পর এক কর্নার শুধু হতাশাই বয়ে আনে। নাজমুল হুদা ফয়সাল তেমন কাজেই লাগাতে পারছিলেন না কিছু।
বেশ কয়েকবার মাঠের ভেতর তর্ক দেখা গেলেও যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ডাগআউটে। এক ফাউলকে কেন্দ্র করে চতুর্থ রেফারির সঙ্গে তর্ক করে হলুদ কার্ড দেখেন ভারতীয় হেড কোচ মহেশ গাউলি। তবে এখানেই থামেনি তা। ভারতের গোলকিপিং কোচ সন্দীপ নন্দীর সঙ্গে তর্কে লিপ্ত থাকেন বাংলাদেশ কোচ মার্ক কক্স। রেফারি দুজনকে লাল কার্ড দেখাতে কোনো দ্বিধা বোধ করেননি।
যোগ করা সময়ের ১০ মিনিটে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। প্রথমে কর্নারটি ফয়সাল নিতে গেলেও পরে রোনান সুলিভান নিতে চাওয়ায় সরে আসেন তিনি। সুলিভানের নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত ভলিতে জাল কাঁপান রিয়াদ ফাহিম।
বিরতির পর গোল না হলেও আক্রমণ প্রতিআক্রমণ ছিল বেশ। ৬৩তম মিনিটে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাংলাদেশকে বাঁচালেন গোলকিপার ইসমাইল হোসেন। ভারতের ওমাং দোদুম দুই ডিফেন্ডারকে ছিটকে দিয়ে শট নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে বল কর্নার করে দেন ইসমাইল।
খেলার উত্তেজনার পারদ আরও বাড়ে যখন বক্সের ঠিক বাইরে স্যামসনকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফাহিম। তবে দোদুমের নেওয়া ফ্রি-কিক রক্ষণের দেয়ালে লেগে বাইরে চলে গেলে হাফ ছেড়ে বাঁচে বাংলাদেশ। শেষ দিকে বাংলাদেশ কিছু আক্রমণ করলেও কাজে লাগাতে পারেনি। ৮৭তম মিনিটে রোনানের শট পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়। বাকি সময়ে বাংলাদেশ পায়নি জয়সূচক গোলের দেখা।
এই ড্রয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। ১ এপ্রিল সেমিফাইনালে খেলতে হবে নেপালের বিপক্ষে। ২০২৪ সালে নেপালকে ৪-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। অর্থাৎ সেমিফাইনালেই বিদায় নিতে হবে গত আসরের দুই ফাইনালিস্টের একটিকে। একই দিনে হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। যাতে ভারত মুখোমুখি হবে ভুটানের।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১ এপ্রিল বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে নেপালের।
বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরিতে মাঠে গড়িয়েছে সাতবার। ভারত চার বার, নেপাল দুই এবং বাংলাদেশ একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতেই নেপালকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে সেরা হয়েছিল বাংলাদেশ।
আরকে/প্রবা