প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ ২২:০০ পিএম
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬ ২২:০৩ পিএম
কাঠমান্ডুতে পৌঁছার পর সানজিদাকে বরণ করে নিচ্ছেন ঝাপা এফসির এক কর্মকর্তা। ছবি : সানজিদা আক্তারের ফেসবুক পেজ
বাংলাদেশ নারী ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করলেন সানজিদা আক্তার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার তিনি পা রাখছেন নেপালের ক্লাব ফুটবলে-যা শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্যই একটি মাইলফলক। কাঠমান্ডুতে বুধবারই (১৮ মার্চ) তার নতুন যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে এই প্রথম কোনো নারী ফুটবলার
নেপালের ঘরোয়া লিগে খেলতে যাচ্ছেন। দেশের মাটিতে বিমানে ওঠার আগে সানজিদা নিজেই জানালেন
(নিজের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে), এই পথচলার প্রথম নামটি তারই। এর আগে তিনি খেলেছেন
ভারতের ঐতিহ্যবাহী ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে, সেখানেও তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রতিনিধি।
তবে নেপাল সানজিদার কাছে একেবারেই অপরিচিত
নয়। এই মাটিতেই তিনি দুইবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন।
সেই পরিচিত শহরে এবার ক্লাব ফুটবলার হিসেবে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা তার কাছে ভিন্ন এক
রোমাঞ্চ। নিজের ভাষায়, এটি তার ক্যারিয়ারের নতুন এক চ্যালেঞ্জ।
নেপালের লিগের মাঝপথে যোগ দিচ্ছেন তিনি।
ঝাপা ফুটবল ক্লাবের ঝাপা ফুটবল ক্লাবের হয়ে খেলবেন সানজিদা। ইতোমধ্যে ছয়টি ম্যাচ শেষ
হয়েছে, বাকি সময়টুকু জুড়েই তাকে মাঠে দেখা যাবে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে তিনি সাধারণত
৭ বা ১০ নম্বর জার্সি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে নতুন ক্লাবে সেই নম্বরগুলো না
পাওয়ায় তাকে বেছে নিতে হয়েছে ৬ নম্বর জার্সি। তাতে অবশ্য তার কোনো আক্ষেপ নেই-তার মতে, ‘জার্সির
নম্বর নয়, খেলাটাই আসল।’
ব্যস্ততার মাঝেই কেটেছে তার এবারের
ঈদ উপলক্ষে। বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ছুটতে হয়েছে এক চ্যানেল থেকে আরেক
চ্যানেলে। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার সুযোগ পাননি। টানা দুই বছর বাড়ির বাইরে ঈদ
কাটানোর আক্ষেপ তার কণ্ঠে স্পষ্ট। এবার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতিও ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই
নেপাল লিগে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় পরিকল্পনা বদলে যায়।
নেপাল লিগে প্রতিটি দলে চার বিদেশি
খেলোয়াড় রাখার সুযোগ রয়েছে। ঝাপা এফসিতে ইতোমধ্যে ভুটানের এক ফুটবলার রয়েছেন, সানজিদা
যোগ দিলে বিদেশি কোটার সংখ্যা দাঁড়াবে দুইয়ে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাবিনা খাতুনদের সঙ্গে
কোচ পিটার বাটলারের দ্বন্দ্বের সময় সানজিদা সতীর্থদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে
অনেকেই দলে ফিরলেও তিনি এখনো জাতীয় দলে ফেরেননি। তবে থেমে থাকেননি-নিজের পথ নিজেই
তৈরি করে নিচ্ছেন, আর নতুন ইতিহাস গড়ছেন নীরবে।
আরকে/প্রবা