আফ্রিকা কাপ অব নেশনস
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ ২০:১৯ পিএম
নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (ক্যাফ)
২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ফাইনাল ঘিরে নজিরবিহীন নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে। আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (ক্যাফ) এক আপিল রায়ে সেনেগালের জয় বাতিল করে ম্যাচটি ৩-০ ব্যবধানে মরক্কোর পক্ষে ঘোষণা করে। এর ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে শিরোপা যায় উত্তর আফ্রিকার দেশটির ঝুলিতে। ১৯৭৬ সালের পর দ্বিতীয়বার মহাদেশ সেরার স্বীকৃতি পেল মরক্কো, আর দ্বিতীয়বার শিরোপাটি জিতেও এখন হাতছাড়া হয়ে গেল সেনেগালের। ২০২১ সালে প্রথম এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।
ক্যাফ জানিয়েছে যে সেনেগাল দলের আচরণের কারণে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের নিয়মের ধারা ৮২ লঙ্ঘন হয়েছে এবং এর প্রভাব হিসেবে ধারা ৮৪ কার্যকর হয়েছে। ধারা ৮২ এ বলা হয়েছে যদি কোনো দল রেফারির অনুমতি ছাড়া খেলা প্রত্যাখ্যান করে বা নিয়মিত সময় শেষ হওয়ার আগে মাঠ ছেড়ে চলে যায়, তবে তাকে পরাজিত ধরা হবে এবং প্রতিযোগিতা থেকে বাতিল করা হবে। অন্য কথায়, ম্যাচের সময়কাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত খেলায় উপস্থিত থাকা এবং খেলার নিয়ম মেনে চলা প্রতিটি দলের বাধ্যবাধকতা। এই ধারা দলের আচরণের শৃঙ্খলা এবং খেলার সুবিন্যস্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৮৪ ধারাটি ধারা ৮২ কে সম্পূর্ণ করে। এর মাধ্যমে বলা হয়েছে, যেকোনো দল ধারা ৮২ লঙ্ঘন করবে, তাকে স্থায়ীভাবে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং ম্যাচটি ৩-০ ব্যবধানে হেরে ধরা হবে। অর্থাৎ, খেলার নিয়ম ভঙ্গের ফলে দল শুধু ওই ম্যাচেই নয়, পুরো প্রতিযোগিতার ফলাফলে শাস্তি ভোগ করবে।
গত ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফাইনালে প্রথমে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল সেনেগাল। তবে ম্যাচটি শেষ মুহূর্তে তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, যখন নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে গোলশূন্য অবস্থায় মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান, যা প্রায় ১৭ মিনিট খেলা বন্ধ রাখে। পরে তারা মাঠে ফিরে এলেও এই আচরণকে নিয়মবহির্ভূত হিসেবে বিবেচনা করে ক্যাফ।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়ে ইদ্রিসা গেয়ির হেড পোস্টে লাগার পর, ফিরতি বল হেডেই জালে পাঠান ইসমাইল সার। তবে এর আগেই বাজে ফাউলের বাঁশি। হেড করার আগে গেয়ি আশরাফ হাকিমিকে ধাক্কা মেরেছিলেন। ধাক্কাটি যদিও তেমন জোরে ছিল না। খানিক পর যা বিতর্কের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
খেলা পুনরায় শুরু হলে মরক্কোর পক্ষে নেওয়া পেনাল্টি কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রাহিম দিয়াজ। এরপর নির্ধারিত সময়ের পার হয়ে ইনজুরি সময়ের চতুর্থ মিনিটে গোল করে সেনেগালকে এগিয়ে দেন পাপ গেয় এবং সেখান থেকেই আসে তাদের জয়। কিন্তু ম্যাচ-পরবর্তী আপিলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়।
ম্যাচ চলাকালে দল মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার মাধ্যমে সেনেগাল আফকনের শৃঙ্খলা বিধির লঙ্ঘন করেছে। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দলকে পরাজিত ঘোষণা করা যায় এবং ম্যাচের ফল ৩-০ ধরা হয়। সেই ধারাই প্রয়োগ করে ফাইনালের ফল উল্টে দেওয়া হয়েছে।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেনেগালের শিরোপা বাতিলের পর সেনেগাল সরকার আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্যাফ-এর বিরুদ্ধে “সন্দেহভাজন দুর্নীতি” নিয়ে একটি স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
সেনেগাল সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, এই “নজিরবিহীন ও অত্যন্ত গুরুতর সিদ্ধান্ত” এসেছে নিয়মের স্পষ্ট ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে, যা চরমভাবে অবৈধ ও অন্যায়। তারা আরও জানিয়েছে, “সেনেগাল স্পষ্টভাবে এই অব্যবস্থিত শিরোপা ছিনিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করছে”।
এ সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনও। তারা এটিকে ‘অন্যায়, নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে খেলাধুলা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আপিলের লক্ষ্য কোনো দলের ক্রীড়া পারফরম্যান্সকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়, বরং এটি ছিল প্রতিযোগিতার নিয়মাবলি যথাযথভাবে প্রয়োগ করার অনুরোধ। তারা আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, ফেডারেশন নিয়ম মেনে চলা, প্রতিযোগিতার কাঠামোতে স্পষ্টতা বজায় রাখা এবং আফ্রিকান ফুটবলকে স্থিতিশীল রাখার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।