প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ২০:৫৩ পিএম
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে ১০৭ বলে ১০৭ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছেন তানজিদ তামিম। ছবি: বিসিবি
জাতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে রবিবার দুর্দান্ত ব্যাটিং করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন ২৫ বছর বয়সী বাঁ-হাতি এই ওপেনার। তার অসাধারণ ইনিংসে ওপর ভর করে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং উপহার দেন তানজিদ। ইনিংসের শুরুতে কিছুটা সতর্ক থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। পাকিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে একের পর এক চমৎকার শট খেলেন। কভার ড্রাইভ, পুল ও কাট শটে দর্শকদের মুগ্ধ করেন এই তরুণ ব্যাটার। সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বিশাল এক ছক্কায়। আড়াই বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তার।
এই ম্যাচের আগে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলে ৭৫ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যার মধ্যে পঞ্চাশের ছোঁয়া পেয়েছেন ১৬ বার। কিন্তু কোনোটিই নিতে পারেননি তিন অঙ্কে। একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের জন্য বিব্রতকরই বটে। অবশেষে সেই সেঞ্চুরি খরা ঘোচালেন তানজিদ। অবশেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে ১০৭ বলে ১০৭ রানের ইনিংস উপহার দিলেন তানজিদ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিতে তিনি চার মেরেছেন ৬টি, ছক্কা ৭টি। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে বেশি ছক্কার কীর্তি এটি। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও এটিই। ওয়ানডেতে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের কোনো ওপেনারের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড একটুর জন্য ছুঁতে পারেননি তানজিদ। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭৬ রানের ইনিংসে লিটন কুমার দাস ছক্কা মেরেছিলেন ৮টি।
এই সিরিজের প্রথম ম্যাচেও দুর্দান্ত ব্যাট করেছেন তানজিদ। সেদিন মাত্র ১১৫ রানের লক্ষ্যেই ৫ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত রয়ে যান তিনি। যদিও পরের ম্যাচে ভালো করতে পারেননি। সামর্থ্যের সেরা চেহারা মেলে ধরলেন শেষ ম্যাচে। তার এই শতরানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি খরাও কেটেছে। প্রায় ২৭ মাস ও ২৩ ম্যাচ পর এই সংস্করণে সেঞ্চুরি পেলেন বাংলাদেশের কোনো ওপেনার। সবশেষটি ছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌম্য সরকারের ১৬৯।
সিরিজ নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরু থেকেই তার ব্যাট থেকে ঠিকরে বেরিয়েছে আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই হারিস রউফকে চার ও ছক্কা মারেন তিনি। একটু পর রউফকেই আরেকটি ছক্কা মারেন চোখধাঁধানো আপার কাটে। সেই পথ ধরে এগিয়েই ফিফটিতে পা রাখেন তিনি ৪৭ বলে। তার সঙ্গী সাইফ হাসান অবশ্য স্বস্তিতে খেলতে পারছিলেন না। তানজিদের সৌজন্যে তবু শতরানের জুটি গড়ে ওঠে। দ্বিতীয় উইকেটে অর্ধশত রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে। তানজিদ একই গতিতে খেলে এগিয়ে যান শতরানের দিকে। ৯৪ থেকে সালমান আলি আগার বলে লং অফের ওপর দিয়ে ওই ছক্কায় পেয়ে যান প্রথম শতরানের অনির্বচনীয় স্বাদ। শতরান ছোঁয়ার পরও বাকি ছিল ১৭ ওভার।
কিন্তু তিনি আর ইনিংস টানতে পারেননি বেশিক্ষণ। আবরার আহমেদের বলে আলগা শটে হারান উইকেট। ভুল শটে আউট হয়ে বেশ হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে দেখা যায় তাকে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান তোলে।