প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬ ২১:০০ পিএম
ম্যাচের
শুরুতেই আক্রমণের তেজ দেখিয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ এফসি। দ্রুতগতির আক্রমণে তারা যেন ইঙ্গিত
দিয়েছিল আগ্রাসী ফুটবলের। কিন্তু সেই ধার বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে
খেলার গতি কমে আসে, ছন্দও কিছুটা হারিয়ে যায়। তবে দুই অর্ধের শেষ দিকে আবারও জমে ওঠে
লড়াই। সুযোগ তৈরি হয়েছিল বেশ কয়েকটি, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি কেউই। ফলে লিড
নেওয়ার পরও জয়ের হাসি ফুটল না পুলিশের মুখে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুবল লিগের ম্যাচে
মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ এফসি ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। শেষ পর্যন্ত ১-১
গোলের সমতায় শেষ হয় লড়াই। দিনের অন্য ম্যাচে (ভেন্যু মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট
লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম) রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি ৩-০
গোলে হারিয়েছে ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবকে। এই জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তিনে
উঠে এসেছে পুরান ঢাকার দলটি। ফকিরেরপুল ১০ পয়েন্ট নিয়ে আছে আটে। এই ড্রয়ের ফলে পুলিশ
ও মোহামেডানের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আলফাজ আহমেদের দল মোহামেডান ১১ ম্যাচে
১১ পয়েন্ট নিয়ে আছে ষষ্ঠ স্থানে। আর ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ঠিক এক ধাপ উপরে রয়েছে বাংলাদেশ
পুলিশ এফসি।
কুমিল্লার
ম্যাচে দুই গোলই হয়েছে প্রথমার্ধে। পুলিশের হয়ে দলকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড
পাউলো সান্তোস, আর মোহামেডানকে সমতায় ফেরান মুজাফফর মুজাফফরভ।
এই
মৌসুমে দুই দলের এটি ছিল দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। প্রথম ম্যাচটিও শেষ হয়েছিল ১-১ ড্রয়ে। আর
গত সেপ্টেম্বরে ফেডারেশন কাপের লড়াইয়ে পুলিশকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল সাদা-কালো জার্সিধারীরা।
ম্যাচের
শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল পুলিশ। চতুর্থ মিনিটেই তারা পেয়ে যায় সুবর্ণ সুযোগ। গোলমুখের
সামনে সতীর্থের কাটব্যাক থেকে শট নেন রাব্বি হোসেন রাহুল, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায়
হতাশ হতে হয় তাকে।
১৯
মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি করে পুলিশ। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দারুণ এক আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে
ক্রস দেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ওদো মোসেস। বল পেয়ে শট নেন পাউলো সান্তোস, কিন্তু সেটিও
লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার।
পরপর
দুটি সুযোগ হাতছাড়া করার পর কিছুটা গুটিয়ে যায় পুলিশ। ম্যাচের গতি তখন ধীর হয়ে আসে,
আক্রমণও কমে যায় দুই দলের।
তবে
৩৫ মিনিটের পর আবারও চাপে ফেলে পুলিশ। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢোকার সময় ওদো
মোসেসকে ফেলে দেন জাহিদ হাসান শান্ত। রেফারির বাঁশি-পেনাল্টি। ৩৯ মিনিটে
স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে পুলিশকে এগিয়ে দেন পাউলো সান্তোস।
কিন্তু
সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচে
ফেরে মোহামেডান। ৪১ মিনিটে বক্সের সামনে বল পেয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের
শক্তিশালী শটে জাল খুঁজে নেন মুজাফফর মুজাফফরভ। পুলিশের গোলরক্ষক রাকিবুল হাসানের কিছুই
করার ছিল না।
বিরতির
পর ম্যাচের শুরুতে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মোহামেডান। কর্নার থেকে সুমন রেজার হেড অল্পের
জন্য পোস্টের বাইরে চলে গেলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় তারা।
কিন্তু
এরপর আবারও ম্যাচের গতি কমে যায়। ৫০ থেকে ৭৫ মিনিট পর্যন্ত দুই দলের কেউই তেমনভাবে
প্রতিপক্ষের গোলমুখে বড় কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি।
৭৯
মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ পায় পুলিশ। বক্সের ডান দিক থেকে অপির উঁচু করা বলে
ফাঁকা জায়গায় হেড নেওয়ার সুযোগ পান পাউলো সান্তোস। কিন্তু এত কাছ থেকে নেওয়া সেই হেডও
লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, হতাশায় মাথায় হাত দেন তিনি।
৮৮
মিনিটে আবারও গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল পুলিশ। বাঁ দিক থেকে নেওয়া ফ্রি কিকে গোলমুখে
দারুণ হেড করেন ফোদে দার্বো। কিন্তু মোহামেডান গোলরক্ষক সুজন অসাধারণ প্রতিক্রিয়ায়
বলটি পোস্টের উপর দিয়ে কর্নারে পাঠিয়ে দেন।
যোগ
করা সময়ে দুই দলই আরেকটি করে সুযোগ পায়। বোয়াটেংয়ের নিচু শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন
পুলিশের গোলরক্ষক রাকিবুল হাসান। শেষ মুহূর্তে আমিরুলের হেডও লক্ষ্যে ছিল না।
ফলে
গোলমিসের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পুলিশকে। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
আরকে/প্রবা