প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ২২:২৮ পিএম
যেমনটা ভাবা হয়েছিল, তেমনটা আর হলো না। এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে প্রথমবারের মতো খেলতে গিয়ে আশা জেগেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করে আরেকটি ইতিহাস গড়ার। এজন্য সোমবার (৯ মার্চ) বি-গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ গ্রুপ ম্যাচে প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তানকে পেয়েছিল বাংলাদেশ। আসরের সেরা তিনটি ‘তৃতীয় স্থান অর্জনকারী’ (সব গ্রুপ মিলিয়ে) দল হতে বাংলাদেশকে জিততে হতো ৬-০ গোলে। কিন্তু কোথায় কি, উল্টো ৪-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হলো লাল-সবুজ বাহিনীকে। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অবস্থিত পার্থ র্যাক্টাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের প্রথমার্ধে বিজয়ী দল এগিয়েছিল ১-০ গোলে। বিজয়ী দলের নজিমোভা জোড়া গোল করেন (৬২ ও ৬৬ মিনিটে)। ১টি করে গোল করেন খাবিবুলায়েভা (১০ মিনিটে) ও কুদ্রাতোভা (৮৮ মিনিটে)।

হারলেও
প্রথমার্ধে বেশ ভালোই খেলেছে পিটার বাটলারের শিষ্যারা। ঋতুপর্ণা চাকমা, কোহাতি কিসকু,
তহুরা খাতুন গোল করার সুযোগও পান। কিন্তু ফিনিশিং করতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি
ভেঙে পড়ে তাদের রক্ষণদুর্গ। একের পর এক গোল হজম করে। শেষ পর্যন্ত হারতে হয় বড় ব্যবধানে।
প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার রোমাঞ্চটুকু নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে ঝরে পড়েন মিলি-আফঈদারা।
গ্রুপে চার দলের মধ্যে তলানিতে থেকে শেষ করল আসর। তিন ম্যাচে কোনো গোল নেই, হজম করেছে
১১ গোল।
তিন
গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ এবং তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুই দল পাবে কোয়ার্টার
ফাইনালের টিকেট। সেরা দুই তৃতীয় দলের একটি হওয়ার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প
ছিল না উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশের। দারুণ জয়ে সেই আশা বাঁচিয়ে রাখল উজবেকিস্তান; পারেনি
বাংলাদেশ।
এবারের
আসরে অংশ নেওয়া ১২ দলের মধ্যে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে নিচে থাকা দল ছিল বাংলাদেশ
(১১২)। নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে ২-০, তিন বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার কাছে
৫-০ গোলে হারে তারা প্রথম দুই ম্যাচে। 
লম্বা
শারীরিক গড়ন, শক্তি-সামর্থ্যে উজবেকিস্তান এগিয়ে থাকলেও তাদের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে প্রত্যাশা
বেশি ছিল বাংলাদেশের। দুটি পরিবর্তন এনে এ ম্যাচের একাদশ সাজান বাটলার। উত্তর কোরিয়া
ম্যাচে শুরু থেকে খেলা নবীরন খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রের বদলে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী
ও শিউলি আজিমকে রাখেন তিনি।
ম্যাচের
পর বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার বলেন, মাঝে মাঝে আমরা মনে হয়েছে যে, স্কোরলাইনে
আসলে খেলার প্রকৃত প্রতিফলন ছিল না। আমার মনে হয়েছে, ম্যাচে লম্বা সময় আমরা ভালো ফুটবল
খেলেছি। কিন্তু আমরা এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলছি যারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে
৬০, ৭০ ধাপ (আসলে ৬৩ ধাপ) উপরে এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী। আমরা অনেক সময় বল দখলে আধিপত্য
বিস্তার করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোল করতে পারিনি। আর যদি আপনি গোল করতে না পারেন,
তবে মূলত সেই সব ভালো কাজ বৃথা যায়। তাই কোনো অজুহাত নেই। যা হওয়ার তা হয়েছে।’
বাটলার
আরও বলেন, ‘আমি মনে করি গোল খেলা বদলে দেয়। তবে, এখানে বসে এটা-ওটা নিয়ে কান্নাকাটি
করতে চাই না। এটি তরুণ খেলোয়াড়দের দল যাদের গড় বয়স ১৯, সাড়ে ১৯ বছর। আমাদের অনেক
কিছু শেখার আছে এবং অনেক কিছু, যেমন পেছনে ফিরে দেখা এবং পরে উপলব্ধি করা। মেয়েদের
আরও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলা প্রয়োজন এবং আরও ক্যাম্প করা এবং উচ্চতর পর্যায়ে খেলা
প্রয়োজন, যেমন আমরা আজারবাইজানের বিপক্ষে খেলেছি এবং আমরা কিছু সত্যিই খুব কঠিন, উঁচু
র্যাঙ্কিংয়ের দলের বিপক্ষে খেলেছি। আর আমাদের এমন দলের বিপক্ষে জেতার কোনো সুযোগ
নেই।’
তবে
বাংলাদেশের বিদায়ে ফুটবলপ্রেমীরা প্রশ্ন তুলেছেন ‘একরোখা’ বাটলার যদি ‘বিদ্রোহী’ খ্যাত
সাবিনা-মাসুরাদের দলে নিতেন, বাংলাদেশ তাহলে ঠিকই শেষ আটে যেতে পারতো। তাছাড়া বর্তমান
দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই শুরু থেকেই ইনজুরি নিয়ে খেলেছে, ফলে যা হওয়া তাই হয়েছে। বাফুফেও
মেয়েদের এমন ফলের জন্য দায়ী। কেননা এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগে তারা দলের জন্য
কোন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেনি, কোনো ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলাতে পারেনি।
এই দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের গল্পটা অন্যরকমভাবেও লেখা হতো। দিন শেষে তাই আক্ষেপ রয়েই যায়!

আরকে/প্রবা