আজ উজবেকিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ
রুমেল খান
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ০২:৪৭ এএম
শেষ পরীক্ষার আগে অনুশীলনে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। ছবি: বাফুফে
এএফসি নারী এশিয়ান
কাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আজ সোমবার (৯ মার্চ) গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ
জাতীয় নারী ফুটবল দল। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অবস্থিত পার্থ র্যাক্টাঙ্গুলা স্টেডিয়ামে
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় লাল-সবুজদের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার
লড়াইয়ে ম্যাচটি দুই দলের জন্যই কার্যত “বাঁচা-মরার” সমীকরণ তৈরি করেছে।
গ্রুপ পর্বের প্রথম
দুই ম্যাচেই হারের স্বাদ পেয়েছে দুই দল। ফলে শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া সামনে এগোনোর বাস্তবসম্মত
পথ নেই কারও। তিনটি গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় হওয়া দুই দল পাবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
সেই সম্ভাবনাকে জীবিত রাখতেই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান।
বাংলাদেশ তাদের
প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী চীনের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ব্যবধান আরও বড় হয়েছে ৫–০। এই দুই ম্যাচের ফলাফল অবশ্য বাস্তবতা বোঝার সুযোগ
এনে দিয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। তার মতে, এই ম্যাচগুলো দলকে বুঝতে
সাহায্য করেছে যে তারা এশিয়ার কোন স্তরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হচ্ছে।
বাটলার বলেন,
‘উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল কঠিন অভিজ্ঞতা, তবে সেটি দলকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
সেই ম্যাচে কিছু ইতিবাচক মুহূর্তও ছিল, যেগুলো থেকেই আত্মবিশ্বাস খুঁজে নিতে চান তিনি।
কোচের ভাষায়, দল তাদের নিজস্ব স্টাইলের ফুটবল খেলতেই মাঠে নামবে-যেখানে প্রয়োজন হবে রক্ষণে দৃঢ়তা, আবার সুযোগ পেলেই থাকবে আক্রমণাত্মক
ফুটবলের চেষ্টা।’
বাটলার মনে করেন,
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি অনেকটা “ইঁদুর-বেড়াল” লড়াইয়ের মতো হতে পারে। শুরুতে দুই দলই হয়তো সতর্ক থাকবে, কারণ
ভুল করার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশের পরিকল্পনা রক্ষণে বসে থাকা নয়; বরং সুযোগ পেলে
প্রেসিং ফুটবল খেলেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবে তারা।
অন্যদিকে উজবেকিস্তানের
অবস্থাও বাংলাদেশের মতোই। তারা প্রথম ম্যাচে চীনের কাছে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার
কাছে একই ব্যবধানে ৩-০ গোলে হেরেছে। ফলে শেষ ম্যাচে
জয় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
উজবেকিস্তানের
কোচ ক্যাটরিনা কালবাইট মনে করেন, ম্যাচটি দুই দলের জন্যই নির্ণায়ক হয়ে উঠবে। তার মতে,
বাংলাদেশ একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং দ্রুতগতির দল। বিশেষ করে তাদের আক্রমণভাগে গতি রয়েছে,
যা উজবেকিস্তানের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
কুলবাইট জানান,
তার দলে ২৬ খেলোয়াড় রয়েছে এবং সবাই মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। টুর্নামেন্টের আগেই তিনি
একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছেন, যেখানে প্রতিটি খেলোয়াড় জানে কোন ম্যাচে তাদের
ভূমিকা কী হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী খেলোয়াড় পরিবর্তনও তার কৌশলের অংশ।
বাংলাদেশ দলের
অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানিয়েছেন, দল মাঠে কাজ করেই
নিজেদের প্রমাণ দিতে চায়। তাদের লক্ষ্য শুধু ভালো খেলা নয়, বরং ফলাফল আদায় করা।
উজবেকিস্তানের
খেলোয়াড় মিরোদি হোন্দাও বাংলাদেশের শক্তির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ
একটি তরুণ দল হলেও তাদের খেলায় গতি ও সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে কয়েকজন
দ্রুতগতির ফুটবলার আছে, যা ম্যাচটিকে কঠিন করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশ দলের
তরুণ গোলরক্ষক মিলি আক্তারের প্রশংসাও করেছেন হোন্দা। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মিলির পারফরম্যান্স
তাকে মুগ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও
উজবেকিস্তান বাংলাদেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছে ১১২ নম্বরে, আর
উজবেকিস্তানের অবস্থান ৪৯-এ। তবুও র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব ভুলে গিয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে
প্রস্তুত বাংলাদেশ।
এখন প্রশ্ন একটাই-উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে এবং অন্য ম্যাচগুলোর ফল অনুকূলে এলে
কি বাংলাদেশ ‘সেরা তৃতীয়’ দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাবে? যদি তা সম্ভব হয়,
তবে সেটি শুধু এই টুর্নামেন্টেই বড় অর্জন হবে না; বরং অলিম্পিক ফুটবলের বাছাইপর্বে
জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করবে। আর সেটিই হতে পারে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে
আরেকটি নতুন অধ্যায়।
আরকে/প্রবা