রুমেল খান
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬ ২৩:১৭ পিএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬ ০৪:৪১ এএম
একদিকে এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে তিন
বারের শিরোপাধারী, নবম ফিফা র্যাংকিংধারী ও ‘ইস্টার্ন অ্যাজালিয়াস’ খ্যাত উত্তর কোরিয়া।
অন্যদিকে এশিয়ার সর্বোচ্চ স্তরে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া, ১১২ ফিফা র্যাংকিংধারী
ও ‘বেঙ্গল টাইগ্রেস’ খ্যাত বাংলাদেশ। কাল শুক্রবার (৬ মার্চ) এই দুই দল এএফসি নারী এশিয়ান কাপে
বি-গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি
(বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায়)।
‘বি’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ
হারলেও জয় তুলে নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তারা প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে হারিয়েছে উজবেকিস্তানকে। এই
আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বর্তমান ও সর্বোচ ৯ বারের শিরোপাধারী শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে
২-০ গোলে হারলেও অসাধারণ খেলে ফুটবলবিশ্বকে চমকে দিয়েছে বাংলার বাঘিনীরা। তবে সেসব
মনে রেখে আত্নতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার।
ম্যাচের আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে
এসে বাটলার বলেন, ‘আমরা এখানে উত্তর কোরিয়ার মতো খুব শক্তিশালী একটি দলের মুখোমুখি
হতে যাচ্ছি। তারা টেকনিক্যালি দারুণ দক্ষ এবং সত্যিই খুব প্রতিভাধর একটি দল। আপনি যদি
তাদের ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাকান (৯ নম্বর, এশিয়ায় জাপানের পর দ্বিতীয়), তাহলে বুঝতে
পারবেন তারা সম্ভবত এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট।’
আজকের ম্যাচে একাদশে কিছু পরিবর্তনের
ইঙ্গিত দিয়েছেন বাটলার। এছাড়া তিনি পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘আমাদের একটি গেম প্ল্যান
আছে এবং মনে হয় পরিকল্পনাটি বেশ কার্যকর হবে। দিনের শেষে আমরা শুধু বসে থেকে বিপক্ষ
দলের আক্রমণ দেখব না। যদি আমরা গোল খাইও, সেটা হতেই পারে। কিন্তু আমি চাই আমাদের দল
সক্রিয়ভাবে খেলুক, শুধু রক্ষণাত্মক না হয়ে।’
বাটলার আরও বলেন, ‘আমরা এখানে আকাশকুসুম
কল্পনা নিয়ে আসিনি যে আমরা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে যাচ্ছি। এটা ভাবতে চাই যে প্রতিটি
ম্যাচে এই মেয়েরা উন্নতি করবে, তারা শিখবে। এটি তাদের জন্য শেখার একটি শিক্ষামূলক সুযোগ।
আমি শুধু চাই খেলোয়াড়েরা মাঠে গিয়ে তাদের সেরাটা দিক এবং সততা ও নিষ্ঠার সাথে খেলুক।’
সংবাদ সম্মেলনের একটি অংশ জুড়ে ছিল
বাফুফে সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণের বিতর্কিত মন্তব্য, যেখানে তিনি চীন দলকে নিয়ে নেতিবাচক
কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন, চীনের দলটা অনেক বেশি বয়স্ক। তারা মাঝে মধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে।
তারা ফর্মে নেই। বাংলাদেশের আসল পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার ম্যাচ। এ প্রসঙ্গে বাটলার বলেন,
‘আমি মনে করি বাফুফের একজন সদস্যের পক্ষে এভাবে প্রকাশ্যে এসে সমালোচনা করা এবং চীন
দলের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত ভুল ছিল। ওটা একটা শক্তিশালী দল। তাদের খেলোয়াড়েরা
নাসরিন স্পোর্টিংয়ের হয়ে খেলে না, তাদের খেলোয়াড়েরা পিএসজির হয়ে খেলে। তারা ফ্রান্সে
এবং চাইনিজ সুপার লিগে খেলে। এটি বেশ অসম্মানজনক এবং কিছুটা দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিল।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক আফঈদা
খন্দকার বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া অনেক শক্তিশালী দল, ভালো দল। আমরা গত ম্যাচে যে ভুলগুলা
করেছি, পরবর্তী ম্যাচে যেন আমরা সেই ভুলগুলা না করি কোচ আমাদের ওভাবেই দেখিয়ে দেবেন।
ইনশা আল্লাহ আমরা ভালো খেলব।’ আফঈদা আরও বলেন,
‘কোচের প্ল্যানই হচ্ছে আমাদের প্ল্যান। কোচ যেভাবে বলবে আমরা সেভাবেই করব। আমরা
অবশ্যই চেষ্টা করব যে আমরা ভালো খেলব। বাকিটা রেজাল্ট তো বলে দিবে যে কী হয় না হয়।’
বাংলাদেশ দলকে নিয়ে বেশ সতর্ক উত্তর
কোরিয়ার কোচ রি সন হো, ‘চীন বনাম বাংলাদেশ
ম্যাচটি দেখেছি। আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি
শক্তিশালী। তাদের আক্রমণভাগ অনেক দ্রুত। বিশেষ করে ট্রানজেকশন পিরিয়ডে (রক্ষণ থেকে
আক্রমণ) তারা বেশ দক্ষ এবং তীক্ষ্ণ। সাধারণভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশ খুব দ্রুতগতির
দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা গোল করার
কোনো সুযোগ না পায়। মূলত আক্রমণভাগের তিন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে বিশেষ
করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী (ঋতুপর্ণা চাকমা) নিয়ে আমি সতর্ক, যিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব
দ্রুত আক্রমণ করতে পারেন।’
এখন দেখার বিষয়, চীনের চেয়েও বেশি শক্তিধর
দল উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আজ কেমন খেলে বাংলার বাঘিনীরা। 
আরকে/প্রবা