প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬ ২৩:০১ পিএম
বাংলাদেশের
কিংবদন্তী টেবিল টেনিস (টিটি) খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনু ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পদকের
জন্য মনোনীত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের
নাম ঘোষণা করে। এ বছর লিনু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ মোট ২০ বিশিষ্ট
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এই সম্মানজনক পুরস্কারের
জন্য বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
১৯৬৫
সালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে জন্ম নেওয়া লিনু অল্প বয়সেই টেবিল টেনিসে নিজের প্রতিভার
পরিচয় দেন। বাবার অনুপ্রেরণায় সিলেটের শাহাজীবাজার অফিসার্স ক্লাবে মাত্র আট বছর বয়সে
টেবিল টেনিস খেলা শুরু করেন। ১৯৭৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে প্রথমবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন
হন। এরপর ১৯৭৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১৬ বার জাতীয় মহিলা সিঙ্গেলস চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের
টেবিল টেনিসে অনন্য এক রেকর্ড গড়েন। এই অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে
তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয় গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি বিমান বাংলাদেশ
এয়ারলায়েন্স স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে খেলেন। টিটিতে অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে তিনি জাতীয়
ক্রীড়া পুরষ্কার লাভ করেন।
আন্তর্জাতিক
পর্যায়েও তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৮০ সালে এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ানশিপে
পঞ্চম, ১৯৮২ সালে পেন্টাঙ্গুলার চ্যাম্পিয়নশিপে মিক্সড ডাবলসে রানার্সআপ হন। এছাড়া
১৯৭৭ ও ২০০০ সালে ইন্টারন্যাশনাল টেবিল টেনিস ফেডারেশন আয়োজিত বিশ্ব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
খেলোয়াড়ি
জীবন শেষে তিনি বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ সাইক্লিং
ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাথলেট কমিশনের চেয়ারম্যান
ছিলেন। 
লিনু
এখন ব্যক্তিগত সফরে নিউজিল্যান্ড অবস্থান করছেন। গণমাধ্যমকে লিনু জানান, 'সত্যি আমি
অভিভূত। দেশের সর্বোচ্চ পদক আমি পাচ্ছি। এই আনন্দ-অনুভূতি ভাষা হারিয়ে ফেলছি। বাকি
জীবন ক্রীড়াঙ্গন ও দেশের জন্য কাজ করে যাব।'
এর
আগে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন যেসব ক্রীড়াবিদ : ১৯৭৭-হাবিলদার মোস্তাক আহমেদ (অ্যাথলেটিক্স), ১৯৮১-আব্বাস
মির্জা (অ্যাথলেটিক্স), ১৯৮৬- মোশারফ হোসেন (সাঁতার), ১৯৮৯-নিয়াজ মোর্শেদ (দাবা), ১৯৯১-নায়েব
সুবেদার শাহ আলম (অ্যাথলেটিক্স), ১৯৯৩-কাজী আব্দুল আলীম (ক্রীড়া সংগঠক), ১৯৯৪-আতিকুর
রহমান (শুটিং), ১৯৯৫-জাকারিয়া পিন্টু (ফুটবল), ১৯৯৬-কাজী সালাউদ্দিন (ফুটবল), ১৯৯৮-শেখ
কামাল (ক্রীড়া সংগঠক, মরণোত্তর), ১৯৯৯-ব্রজেন দাস (সাঁতার), ২০০০-সুলতানা কামাল খুকী
(অ্যাথলেটিক্স, মরণোত্তর), ২০০১- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, ২০০৪-বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি,
২০২৪-ফিরোজা খাতুন (অ্যাথলেটিক্স)।
আরকে/প্রবা