প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬ ২০:০৪ পিএম
গোলের খেলা ফুটবল বলে এই খেলাটিতে স্বভাবতই আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন ফরোয়ার্ডরা। কিন্তু তাদের চেয়ে মোটেও কম গুরুত্বপূর্ণ নন একজন গোলরক্ষক। কেননা দল শুধু গোল করলেই জেতে না, জিততে হলে দরকার গোল বাঁচানোটাও। আর এই কাজটাই করে থাকেন গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ানো এক অতন্দ্র প্রহরী।
গত
কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের এক নম্বর বা অপরিহার্য গোলরক্ষক হচ্ছেন
রূপনা চাকমা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং নারী ফুটবল লিগের সেরা গোলরক্ষক তিনি। সর্বশেষ লিগে ১০ ম্যাচে গোল হজম করেননি একটিও। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি নারী এশিয়ান
কাপে তিনিই যে কোচ পিটার বাটলারের ‘অটোমেটিক চয়েস’ হবেন, এমনটাই অনুমেয় ছিল।
কিন্তু গত মঙ্গলবার
সিডনিতে অনুষ্ঠিত আসরের প্রথম গ্রুপ ম্যাচে প্রতিপক্ষ চীনের বিপক্ষে একাদশ ঘোষণা করে
সবাইকে চমকে দেন বাটলার। কেননা একাদশে ছিলেন না রূপনা! তার পরিবর্তে মাঠে দস্তানা পড়ে
মাঠে নামেন মিলি আক্তার, যা ছিল লাল-সবুজের জার্সিতে তার প্রথম ম্যাচ। র্যাংংকিয়ে
৯৫ ধাপ এগিয়ে থাকা শক্তিশালী চীনের কাছে বাংলাদেশ ‘হালি হালি’ গোল হজম করার যে আশঙ্কা
করেছিলেন ফুটবলাররা, সেটা অবিশ্বাস্যভাবে ভুল প্রমাণ করেন নান্দাইলের ১৯ বছরের তরুণী
মিলি। হাজারো সংকট, অসংখ্য সীমাবদ্ধতা নিয়েও
বাংলার বাঘিনীরা মাঠের সবুজ গালিচায় অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। ছড়ায়ে মুগ্ধতা,
আদায় করে প্রতিপক্ষ দলের সমীহ। প্রমাণ করে, সীমিত সামর্থ্য নিয়েও তারা কঠিন
প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়তে জানে। মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়ে তারা। বিশেষ করে গোলরক্ষক মিলি আক্তারের অভিষেক পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ
ছিলেন চীনের কোচও। আর বাটলার? তিনি জানান, রূপনাকে বসিয়ে মিলিকে খেলানোর সিদ্ধান্ত
নিতে তিনি ভয় পাননি। বরং মিলির ওপর তার শতভাগ আস্থা-ভরসা ছিল, সেটা মিলি দিতে পেরেছে।
মিলি এশিয়ান কাপের সবেচেয়ে সফল দল চীনের সামনেই দৃঢ়তা দেখালেন চীনের বিখ্যাত প্রাচীরের
মতো!
অবশ্য
বাটলার কিন্তু হঠাৎ করেই মিলিকে গোলপোস্ট সামলানোর গুরুদায়িত্ব নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত
নেননি। মিলিকে চীনের বিপক্ষে খেলানোর পরিকল্পনা ছিল নাকি দুই মাস আগের। চীনের শক্তিমত্তার
আর দূর্বলতার জায়গা বের করে মিলিকে তৈরি করেছেন বাংলাদেশ নারী দলের গোলকিপিং কোচ মাসুদ
আহমেদ।
চীনের
বিপক্ষে ম্যাচের পর বুধবার রিকভারি সেশন করে বাংলাদেশের মেয়েরা। গ্রুপপর্বে আফঈদা খন্দকারদের
সামনে এবার এশিয়ান কাপের আরেক পরাশক্তি উত্তর কোরিয়া। এই ম্যাচের আগে গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) রিকভারি সেশনে সংবামাধ্যমের মুখোমুখি হন বাংলাদেশের
গোলকিপিং কোচ। চীনের বিপক্ষে মিলিকে শুরুর একাদশে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি,
‘আসলে মিলিকে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা ছিল আরও দুই মাস আগে থেকেই। চীনের বিপক্ষে তাকে
শুরুর একাদশে খেলানোর সিদ্ধান্ত আমরা দুই মাস আগে প্রধান কোচের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত
করেছি। নারী লিগ চলাকালীন, আমাদের ঘরোয়া নারী লিগ ও অনুশীলন সেশনগুলোতেও আমরা সে অনুযায়ী
প্রস্তুতি নিয়েছি।’
চীনের
বিপক্ষে বাংলাদেশ ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার ম্যাচে ১১টি অন টার্গেট শটের মধ্যে ৮টি শটই
ঠেকিয়ে দেন মিলি। রূপনার চেয়ে মিলির উচ্চতা বেশি, যা তার জন্য ছিল প্লাস পয়েন্ট। এ
প্রসঙ্গে মাসুদ বলেন, ‘চীনের শক্তির জায়গাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখেছি, কোথায় মিলির উচ্চতাকে
কাজে লাগানো যায়। আর মিলি ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে, সে এই পর্যায়ে খেলতে সক্ষম।’
আরকে/প্রবা