প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬ ২১:২৬ পিএম
লাল-সবুজ বাহিনীর প্রথম প্রতিপক্ষ শক্তিশারী চীন। কিন্তু অনুশীলনে নির্ভার খেলোয়াড়দের দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই। ছবি : বাফুফে
বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল সিডনিতে
তাদের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। রবিবার (১ মার্চ) সকালে জুবিলি স্টেডিয়ামে আরেকটি মনোযোগী অনুশীলন
সেশন সম্পন্ন করেছে দলটি। দেড়ঘণ্টা পর্যন্ত গঠিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেশনে অনুশীলন
করে খেলোয়াড়রা। আসন্ন ম্যাচকে সামনে রেখে কৌশলগত সমন্বয় চূড়ান্ত করাই ছিল এ সেশনের
মূল লক্ষ্য। সামগ্রিকভাবে অনুশীলনের তীব্রতা ও শৃঙ্খলা দলের ক্রমবর্ধমান ম্যাচ প্রস্তুতির
প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
কয়েকটি সামান্য চোট ছাড়া সব খেলোয়াড়ই
সুস্থ আছেন। চোটপ্রাপ্তদের অবস্থা দলের ফিজিওথেরাপিস্ট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
দলে গুরুতর কোনো উদ্বেগ নেই।
এএফসি নারী এশিয়ান কাপ ফুটবলের পর্দা
উঠেছে গতকাল। এবারই প্রথম এই আসরে খেলছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে
নিজেদের প্রথম ম্যাচে পরাশক্তি চীনের বিপক্ষে মাঠে নামবে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক
এগিয়ে চীনের মেয়েরা। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা। এশিয়ান কাপে ১৫ বার অংশগ্রহণ
করে ৯ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চীন। এক কথায় এশিয়ান ফুটবলের পরাশক্তি তারা। তবে এ সব নিয়ে
চিন্তা করছে না বাংলাদেশ দল। নিজেদের নিয়েই বেশি ভাবছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
রবিবার অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের
মুখোমুখি হয়ে মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি অনেক দিন হয়েছে। এখানকার
আবহাওয়ার সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। এখানে ভালো অনুশীলন হচ্ছে। প্রতিদিনই আমাদের
উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছে।’
প্রতিপক্ষ চীন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
‘যেহেতু ওরা এশিয়ার মধ্যে সেরা, এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও, তো ওদের নিয়ে আমাদের
প্রত্যেক দিন মিটিং হয়। ভিডিও দেখানো হয়। ওরা কোন পজিশনে কীভাবে খেলে, আমাদের কীভাবে
দৌড়াতে হবে বা মাঠে কীভাবে খেলতে হবে, এগুলো মিটিংয়েও বলা হচ্ছে। আর আমরা মাঠেও সেটা
নিয়ে কাজ করছি।’
ফলাফল যাই হোক মাঠে সেরাটা দেবেন বলে
জানিয়েছেন মনিক, ‘আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ফল যা–ই হোক, আমরা
আমাদের সেরাটা দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজেদের
নিয়ে বেশি ভাবছি, কারণ, আমাদের এখানে পারফরম্যান্স করতে হবে। দেশের জন্য হোক, নিজের
জন্য হোক বা ফ্যামিলির জন্য, সবার জন্যই আমরা এখানে খেলতে এসেছি। আমরা আমাদের দেশের
জন্যই ভাবছি।’
কমব্যাংক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার চীনের
বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে উইমেন’স এশিয়ান কাপের ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের পথচলা শুরু করবে বাংলাদেশ।
এই প্রতিযোগিতা চীন রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে এই প্রথম এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের
সর্বোচ্চ আসরে পা রাখবে বাংলাদেশ।
মঞ্চ এবার একেবারেই আলাদা। সবশেষ নারী
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বাংলাদেশ গোল হজম করেছিল মাত্র ২টি।
কিন্তু এবার রূপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী মন্ডলদের মুখোমুখি হতে হবে চীন,
উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের। তাদের আক্রমণের ঝড় সামাল দিতে গোলরক্ষকেরা
প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্বল, ‘আমি লং রেঞ্জের
শটের প্র্যাকটিসটা অনেক আগে থেকেই করছি। গ্রুপিং হওয়ার পর থেকেই দেখেছি ওরা (চীন, উত্তর
কোরিয়া ও উজবেকিস্তান) কোথা থেকে অন টার্গেট শুটিং করে বা কোন কোন অ্যাঙ্গেল থেকে কিভাবে
ওরা ফিনিশিং টাচগুলো করে। তো ওগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। ওগুলো নিয়ে ভালো কাজ হয়েছে
এবং দূরপাল্লার শটে আমার মনে হয় না খুব একটা সাফার করবে গোলকিপাররা।’
উজ্জ্বল আরও বলেন, ‘সেট-পিসের … যেগুলো দেখানোর,
আমরা যেভাবে সামলায়, সেগুলো ওগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে। আগামীকাল হয়তো আমরা ডিফেন্ডিং সেট-প্লেগুলো
নিয়ে আরও বিশদভাবে কাজ করব। ইন্ডিভিজুয়াল ভূমিকায় কে যাচ্ছে, কে যাচ্ছে না এগুলো বুঝিয়ে
দেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার বলেন, ‘এশিয়ান কাপ খেলতে আমরা সিডনিতে আছি, এমন এক পর্যায়ে (খেলতে এসেছি), যেখানে বাংলাদেশ আগে কখনও প্রতিযোগিতা করেনি। এখানে আসাটা একটা বিশাল অর্জন। ফলাফল যাই হোক না কেন, আমরা কেবল আমাদের সেরাটা দিতে চাই, আসুন সামনের ৪ বছরের মধ্যে আরও এএফসি যোগ্যতা অর্জনের ভিত্তি স্থাপন করি বাংলাদেশের জন্য। আমাদের শিখতে হবে প্রস্তুতিই সবকিছু।’
আরকে/প্রবা