প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৮ পিএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৯ পিএম
সিডনিতে প্রথমবারের মতো মনমুগ্ধকর জুবিলি স্টেডিয়ামে অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। ছবি : বাফুফে
গত বৃহস্পতিবার ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্স ফুটবল ক্লাবের বিপক্ষে ক্লোজড-ডোর প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে সিডনি অধ্যায় শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও জানা গেছে ১-১ গোলে ড্র হয়েছে, এবং দলে থাকা ২৬ জন খেলোয়াড়ই মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। টানা চার দিনের অনুশীলনের পর এই ম্যাচটি ছিল প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পরদিন আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দলটি পূর্ণ রিকভারি ডে পালন করে-সুইমিং পুলে হালকা সেশন করে খেলোয়াড়রা শারীরিক পুনরুদ্ধারে মনোযোগ দেন।
অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর থেকে বাংলাদেশ অনুশীলন করে আসছে সিডনির ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে। তবে এবার তারা উঠেছে এএফসি বরাদ্দকৃত মূল অনুশীলন ভেন্যুতে। গত পরশু ছিল সিডনিতে তাদের পঞ্চম সেশন এবং প্রথমবারের মতো অফিসিয়াল গ্রাউন্ডে অনুশীলন। সিডনি সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্ক থেকে রওনা হয়ে সকাল ৯টায় জুবিলি স্টেডিয়ামে শুরু হয় দেড় ঘণ্টার অনুশীলন। টানা বৃষ্টি ও শীতল আবহাওয়া সত্ত্বেও সেশনের তীব্রতায় ঘাটতি ছিল না। ওয়ার্ম-আপের পর টেকনিক্যাল ড্রিল, বল দখলভিত্তিক অনুশীলন এবং শেষে নিজেদের মধ্যে ২০ মিনিটের ১১ বনাম ১১ ম্যাচ-সব মিলিয়ে প্রস্তুতিতে ছিল প্রতিযোগিতার আবহ।
দলের মেডিক্যাল টিম নিশ্চিত করেছে, স্কোয়াডে কোনো গুরুতর ইনজুরি নেই। সহকারী কোচ মাহমুদা আক্তার অনন্যা অনুশীলন শেষে জানান, জুবিলি স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা খেলোয়াড়দের ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে। তার ভাষায়, ‘এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুশীলন করতে পেরে ফুটবলাররা আরও বেশি সময় মাঠে থাকতে চেয়েছে।’ বিকেলে কোনো জিম সেশন রাখা হয়নি-অতিরিক্ত বিশ্রামই ছিল দিনের পরিকল্পনা। অনুশীলন শেষে দলটি পারামাট্টায় এএফসি নির্ধারিত হোটেলে ওঠে।
এবারের এএফসি নারী এশিয়ান কাপে অভিষেক হচ্ছে বাংলাদেশের। ৩ মার্চ সিডনিতে প্রথম ম্যাচেই তাদের সামনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন। এরপর ৬ মার্চ একই শহরে উত্তর কোরিয়া এবং ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবেন আফঈদা-মনিকারা।
চীনের কোচ আন্তে মিলিচিচ প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া এই কোচ ২০১৯ সালে ফিফা নারী বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া নারী দলকে শেষ ষোলোতে তুলেছিলেন; ২০২৪ সালে নেন চীনের দায়িত্ব। তার মতে, এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো সহজ প্রতিপক্ষ নেই-সব দলই আগের চেয়ে বেশি ফিট ও সংগঠিত। বাংলাদেশকে সম্মান দেখানোর কথাও স্পষ্টভাবে বলেছেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রস্তুতি অবশ্য খুব মসৃণ ছিল না। দেশে মেয়েদের লিগ হয়েছে টার্ফে, অথচ অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে হবে ঘাসের মাঠে। গ্রুপের অন্য দলগুলো ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেললেও বাংলাদেশ বিদেশি কোনো জাতীয় দলের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেনি। তবু আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না দল। ২০২৩ নারী বিশ্বকাপে খেলা চীনের সাম্প্রতিক ছন্দে কিছুটা ওঠানামা আছে-সেই জায়গায় সুযোগ খুঁজতে চায় বাংলাদেশ।
অভিষেক আসরে প্রথম ম্যাচেই কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু লক্ষ্য একটাই-লড়াই করা, নিজেদের সেরাটা তুলে ধরা। ভালো পারফরম্যান্স দিয়েই এশিয়ার মঞ্চে যাত্রা স্মরণীয় করতে চায় বাংলাদেশ নারী দল।
আরকে/প্রবা