প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৪১ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৫১ পিএম
এক বছরের নিষেধাজ্ঞা যেন হঠাৎ করেই থামিয়ে দিয়েছে কামরুন নাহার কলির এগিয়ে চলা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এই অভিজ্ঞ শুটার এখন লড়ছেন মাঠে নয়, প্রশাসনিক জটিলতার বিরুদ্ধে। নিজের ক্যারিয়ার ও সম্মান রক্ষায় তিনি দ্বারস্থ হয়েছেন রাষ্ট্রের ক্রীড়া অভিভাবকদের।
বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
আমিনুল হক এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজ্জামান খানের কাছে পাঠানো
এক চিঠিতে কলি তার ওপর আরোপিত এক বছরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানান। তার
দাবি, এই শাস্তি অযৌক্তিক এবং প্রতিশোধমূলক।
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক শুটিংয়ে বাংলাদেশের
মুখ উজ্জ্বল করা কলি বিশ্বকাপ শুটিংয়ে দেশের একমাত্র ফাইনালিস্ট। বর্তমানে তিনি অলিম্পিক
বৃত্তিপ্রাপ্ত খেলোয়াড় হিসেবেও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বড় আসরের জন্য। ঠিক এমন সময়ে জাতীয়
দল থেকে বহিষ্কারাদেশ তার প্রস্তুতি ও স্বপ্ন-দুটোকেই বড়
ধাক্কা দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত, বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস
ফেডারেশনের কিছু অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কর্মকর্তা জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে যৌন
হয়রানির অভিযোগ তোলাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তদন্ত কমিটি
গঠন করে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব
থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কিন্তু কলির ভাষ্য, অভিযোগ প্রমাণিত
হওয়ার পর পরিস্থিতি তার বিপরীতেই মোড় নেয়। সত্য প্রকাশ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান
নেওয়ার জেরেই ফেডারেশন তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাময়িক এবং পরে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়।
তিনি এটিকে সরাসরি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সামনেই এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস
ও অলিম্পিক গেমসের কোটা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। জাতীয় দলের ক্যাম্পে নিয়মিত অনুশীলন
ছাড়া এসব আসরের প্রস্তুতি নেওয়া প্রায় অসম্ভব। এদিকে, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের
সাম্প্রতিক এক সভায় শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস উপস্থিত না থাকায়
সভাটি বাতিল হয়—ফলে সংকট নিরসনের প্রক্রিয়াও থমকে আছে।
এখন প্রশ্ন একটাই-সরকারি মহলের
হস্তক্ষেপে কি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে? নাকি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময়
এক শুটারের পথ আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য থেমে থাকবে? সময়ই দেবে তার উত্তর।
আরকে/প্রবা