প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:২১ পিএম
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:২৩ পিএম
১০ ম্যাচের সবগুলোতে জয়, প্রতিপক্ষের জালে ৯০ গোলের উৎসব, ‘ক্লিনশিট’ নিয়ে আসর শেষÑ সব মিলিয়ে উইমেন’স ফুটবল লিগের এবারের আসরে রাজশাহী স্টারস ছিল দুর্বার। প্রথমবারের মতো লিগে খেলতে এসেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর শিউলি-ঋতুপর্ণা-আফঈদারা বললেন, গতবারের তুলনায় এবারের লিগ ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
এবারের মতো গতবারও অবশ্য শিরোপা লড়াইয়ে ছিল তিন দল। তিন পয়েন্টের ব্যবধানে এআরবি
কলেজকে পেছনে ফেলে সেরা হয়েছিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দল নাসরিন একাডেমি।
১৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ নিয়ে রাজশাহীর কোচ মাহমুদা শরীফা অদিতি বলেন,
‘আমাদের পরিকল্পনাই ছিল ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ আমরা ৩ পয়েন্ট করে নেব। এ ম্যাচেও ড্রয়ের
কথা মাথায় আনিনি। জয়ের জন্য, ৩ পয়েন্টের জন্য আমরা মাঠে নেমেছিলাম। ড্র করার কোনো চিন্তাও
ছিল না আমাদের।’
রাজশাহী অধিনায়ক শিউলি আজিম বলেন, ‘ফরাশগঞ্জ এবং সেনাবাহিনীÑ এই দুইটা টিমই
আমার কাছে মনে হয়েছে যে, খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। ফুটবলটা তো আনপ্রেডিক্টেবল। যে যত
ভালো দলই হোক, আসলে রুখে দেওয়া সম্ভব যেকোনো দলের জন্যই। আমরা ওইটা মাথায় রেখেই মাঠে
নেমেছি। আমরা জানি, সেনাবাহিনী একটা ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভালো দল। আমরা ওইটা মাথায় রেখেই
খেলেছি। এবারের লিগটা অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। কেননা জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা
চারটা-পাঁচটা টিমে ভাগ হয়ে গেছে। তাই প্রতিটা ম্যাচেই কিন্তু অনেক লড়াই হয়েছে। আগের
মতো একপাক্ষিক খেলা হয়নি।’
অধিনায়কের সুরে সুর মিলিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন, ‘অপরাজিত
চ্যাম্পিয়ন হওয়া সহজ ছিল না অবশ্যই। বিগত লিগের চেয়ে এই লিগটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ
হয়েছে এবং আমাদের এবং ক্লাবেরও লক্ষ্য ছিল শিরোপা জয়। সেটা পূরণ করতে পেরেছি। আমরা
খুশি।’
রাজশাহী স্টার্সের ডিফেন্ডার ও জাতীয় দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, ‘লিগ
হওয়ায় সুবিধা অনেক হয়েছে। কারণ যেহেতু এশিয়া কাপের খেলা আছে, আমরা খেলার ভেতরে থাকতে
পারি, গেম টাইম পাই, তাহলে ম্যাচগুলো থেকে আমাদের ভুলগুলা শিখতে পারব। এখানে যে ভুলগুলো
হয়েছে, সেগুলো শুধরে এশিয়া কাপের জন্য তৈরি হতে পারব। চীন, কোরিয়া ওরা তো খুবই ভালো
দল, এশিয়ার মধ্যে সেরা তারা। ওদের সঙ্গে খেলতে পারব। ওদের সঙ্গে খেলে অনেক অভিজ্ঞতা
অর্জন করতে পারব। ওদের পর্যায়ে যেতে গেলে আমাদের আরও কত পরিশ্রম করতে হবেÑ কঠোর পরিশ্রম।
অবশ্যই চেষ্টা করব ওখানে ওদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আর ওপরওয়ালা তো আছেনই।’
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। ১
মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাম্প শুরু। টুর্নামেন্টের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। বাংলাদেশ
দল আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রস্তুতি শুরু করেনি। অস্ট্রেলিয়ায় ঘাসের মাঠে খেলা, সেখানে
বাংলাদেশের ফুটবলাররা এখনও ক্লাবের হয়ে টার্ফে খেলে যাচ্ছেন। শিরোপা উদযাপন মুহূর্তে
তাই জাতীয় দলের প্রসঙ্গও এলে ঋতুপর্ণার মন্তব্য, ‘নো কমেন্টস প্লিজ! নো কমেন্টস। তবে
আমরা যে খেলার ওপরে থাকতে পেরেছি, আমাদের ফিটনেস ধরে রাখতে পেরেছি, এটা আমাদের জন্য
অনেক ভালো।’
আরকে/প্রবা