প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৭ এএম
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৭ এএম
১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কলম্বোতে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। ছবি: ইএসপিএনক্রিকইনফো
ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানো নিয়ে টানা দশ দিনের অচলাবসানের অবসান হয়েছে। অবশেষে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান গ্রুপ ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সোমবার রাতে প্রায় একই সময়ে পাকিস্তান সরকার ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পৃথক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক আইসিসি সদস্য দেশ ম্যাচটি বয়কট না করার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) অনুরোধ জানায়। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে, ম্যাচটি না হলে অন্য দেশগুলোর আর্থিক ক্ষতি হবে। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে আলোচনা করেন বলেও জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বহুপাক্ষিক আলোচনার ফলাফল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আইসিসি মেনস টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামার নির্দেশ দিচ্ছে। ক্রিকেটের চেতনা রক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী এই খেলাটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে”।
আইসিসিও জানায়, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, আইসিসি ও পিসিবির মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ হয়েছে, যেখানে ক্রিকেটের স্বার্থ, নিরপেক্ষতা, ঐক্য ও সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আলোচনার ফল হিসেবে আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ব্যাপারে সব সদস্য দেশ একমত হয়েছে।
এদিকে, ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে আইসিসি। নিজেদের দাবিতে অটল থেকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করবে না আইসিসি। উল্টো বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের স্বাগতিক করা হবে বাংলাদেশকে।
এর আগে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার এই ইস্যুকে সামনে রেখে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি একে আইসিসির ‘দ্বৈত নীতি’ ও ‘অবিচার’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানায়, আলোচনার সময় আইসিসির রাজস্ব বণ্টন আরও ন্যায্য করার প্রসঙ্গও তোলে পিসিবি, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি। ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনকে শর্ত হিসেবে দেওয়ার গুঞ্জনও পিসিবি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
রবিবার লাহোরে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং আইসিসি পরিচালক ইমরান খাজা বৈঠকে বসেন। বলে রাখা ভালো আইসিসি বোর্ড সভায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার বিপক্ষে একমাত্র ভোট দিয়েছিল পিসিবিই।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানানোর পর সোমবার আইসিসির সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভা হয়। বৈঠকে আইসিসি বাংলাদেশকে শাস্তি না দেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং ২০২৮–২০৩১ চক্রে একটি অতিরিক্ত আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দেয় বিসিবিকে।
এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। পাকিস্তানের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব আরও জোরদার করার কথাও জানিয়েছেন বাংলাদেশের বোর্ড প্রধান। সোমবার সন্ধ্যায় দেশের ফেরার পর রাত সাড়ে ১০টায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সফরের বৃত্তান্ত জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।