সাবিনাদের সাফল্যে এবার কি মন গলবে বাটলারের?
রুমেল খান
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৪ পিএম
দক্ষিণ এশিয়ার নতুন টুর্নামেন্ট সাফ
ফুটসালের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছে বাংলাদেশ নারী দল। তাদের এমন
চোখ ধাঁধাঁনো সাফল্যে ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন, সাবিনাদের জাতীয় ফুটবল দলে ফেরানোর ব্যাপারে
এবার কি কোচ পিটার বাটলারের মন গলবে?
বাটলারের অধীনে গত বছর নারী ফুটবল প্রথমবারের
মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্তপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস সৃষ্টি করে।
অথচ সেই দলে ছিলেন না সাবিনা, মাসুরা, কৃষ্ণা, সানজিদা, সুমাইয়ারা। কেননা এর আগে তারা
বিভিন্ন ইস্যুতে বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। বাটলার তাদেরকে দল থেকে বাদ দেন।
স্বভাবতই তখন প্রশ্ন উঠেছিল সাবিনাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কি তাহলে খতম হয়ে গেল?
কিন্তু এখন থাই-ভূমিতে সাফ নারী ফুটসালে সাবিনাদের অপরাজিত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনে আরেক
নতুন প্রশ্ন চলে এসেছে-এবার কি পিটারের কঠিন হৃদয় শীতল হবে?
২০২৪ নারী সাফের শিরোপা বাংলাদেশ জিতেছিল
এই বাটলারের অধীনেই। এরপরেই সাবিনার নেতৃত্বে একঝাঁক ফুটবলার বিদ্রোহ করেন পিটারের
বিরুদ্ধে। তারপরের কাহিনী সবারই জানা। সাবিনাসহ পাঁচ ফুটবলারকে বাদ দিয়ে বাকিদের দ্রুতই
দলে ফেরান পিটার। আর তাদের নিয়েই এশিয়ান কাপের
চূড়ান্তপর্বে সাফল্য কুড়িয়ে নেন।
২০২৪ সালের মার্চে বাফুফে এলিট ফুটবল
একাডেমি থেকে জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বাটলারকে। তারপর মে
মাসে ঢাকায় চাইনিজ তাইপের সঙ্গে কমলাপুর স্টেডিয়ামে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ,
বাটলারের অধীনে। দুটিতেই তারা হেরে যায়। ওই সময়েই গুঞ্জন ছড়ায়, জাতীয় দলে অসন্তোষ বিরাজ
করছে। এর যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল। কেননা ম্যাচ দুটিতে বাটলার অধিনায়ক সাবিনাকে প্রথম
একাদশেই রাখেননি। আগের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও কখনো এমনটা করেননি।
সাবিনাকে না রাখার কারণ হিসেবে বাটলারের
ব্যাখ্যা ছিল-সাবিনার ফর্ম-ফিটনেসে ঘাটতি আছে, এজন্য তরুণ-সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের প্রথম
একাদশে খেলিয়ে তাদের সুযোগ দিতে চান। সেই থেকেই মূলত গণ্ডগোলের সূত্রপাত।
এর চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০২৪ সাফ ওমেন্স
চ্যাম্পিয়নশিপে, নেপালে। সাবিনাসহ কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় কোচের অনুশীলন পদ্ধতি, দল পরিচালনার
ধরণ এবং আচরণগত নানা বিষয় নিয়ে সরব হয়ে উঠেছিলেন। সেই সময় সাবিনা-মাসুরা-কৃষ্ণারা পিটার
বাটলারের বিরুদ্ধে একপ্রকার ‘ভেতরে ভেতরে বিদ্রোহ’ গড়ে তুলেছিলেন।
তারপরও এত সমস্যা নিয়েও বাটলার এই দলকেই
সাফের শিরোপা এনে দেন ছোটনের মতো। কিন্তু তারপরও দলের ভেতরে কোন্দলের পরিসমাপ্তি ঘটেনি।
দেশে ফিরে সাবিনারা বোমা ফাটান। তারা ১৮ জন মিলে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন বাটলার তাদের
বডি শেমিং করেছেন, খারাপ ব্যবহার করেছেন, ব্যক্তি স্বাধীনতায় বাধা দিয়েছেন। তারা কেউই
এই কোচের অধীনে খেলতে চান না। হয় তারা থাকবেন, নয়তো কোচ থাকবেন!
কিন্তু বাফুফে কোচের পক্ষই নেয় এবং
তার সঙ্গে চুক্তির নবায়ন করে। কোচও একপর্যায়ে কোচ কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সাবিনাসহ
১৮ ‘বিদ্রোহী’কে দল থেকে বাদ দেন! তিনি স্পষ্ট করে দেন, দল চাইলে তার নিয়মে খেলতে হবে।
যারা মানতে পারবেন না, তারা বাইরে। পরে অবশ্য ১৩ জনকে দলে ফিরিয়ে নেন, যাদেরকে তিনি
দলের মধ্যে ‘শৃঙ্খলার জন্য হুমকি’ মনে করেননি।
বাটলার পুরোপুরি বদলে দেন দলের কাঠামো।
আনেন নতুন মুখ, তরুণ খেলোয়াড়দের। অভিজ্ঞতা নয়, গুরুত্ব দেন ফিটনেস, পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার
ওপর। এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েই তিনি গড়েন এক নতুন বাংলাদেশ নারী দল। এই দলই এশিয়ান
কাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেয়, হারায় তুলনামূলক শক্তিশালী দলগুলোকে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে-সাফ ফুটসালের পর সাবিনাদের
আবারও বিবেচনা করবেন কি না পিটার। অনেকেই মনে করেন, পিটার তার আগের সিদ্ধান্তেই অনড়
থাকবেন। কেননা এক্ষেত্রে পিটার যুক্তি দিতে পারেন দলের সেট-আপ, টিম কম্বিনেশন, পরিকল্পনা
ব্যাহত হবে যদি সাবিনারা দলে ঢোকেন। আবারও এটাও বলতে পারেন, সাবিনারা যেহেতু ফুটসালে
ভালো করছে, সেহেতু তারা ফুটসালেই থাকুক, ফুটসালে আসার দরকার কি? এমনটা পিটার করেন কি
না, সেটা আপাতত জানার উপায় নেই। তবে এটা স্পষ্ট-সাবিনাদের সাফল্যে পিটারের ওপর চাপ
অনেক বেড়ে গেল!
আরকে/প্রবা