বিপিএল
শেখ সাদী
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:২০ এএম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩০ এএম
বিপিএলের ১২তম আসরের কাঙ্ক্ষিত শিরোপা নিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ক্রিকেটারদের ফটোসেশন। ছবি: বাসস
চট্টগ্রাম রয়্যালসকে উড়িয়ে দিয়ে বিপিএলে দ্বিতীয় শিরোপা জিতল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। গতকাল শুক্রবার মিরপুরে ব্যাট-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে চট্টগ্রামে ৬৩ রানে হারিয়ে বিপিএলের ১২তম আসরের শিরোপা জিতেছে নাজমুল হাসান শান্তর দল। দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে ফাইনালকে নিজের করে রাখলেন বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।
শিরোপার লড়াইয়ে রাজশাহীর দেওয়া ১৭৫ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে বিনুরা ফার্নান্ডোর ও হাসান মুরাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। বিনুরা ফার্নান্ডো ইনিংসের তৃতীয় ওভারে জোড়া আঘাত হানেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তৃতীয় বলে ওপেনার নাঈম শেখ ৯ রানে বোল্ড। পঞ্চম বলে মাহমুদুল হাসান জয় শূন্য রানে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। দলীয় ১৮ রানে দুই উইকেট হারায় তারা। এরপর দ্রতই আরও দুই উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। হাসান নওয়াজ ১১ ও জাহিদুজ্জামান ১১ রান করে বিদায় নেন। ফাইনালে অধিনায়ক শেখ মাহেদীও দলের বিপদে সুবিধা করতে পারেনি। ৫ বলে মাত্র ৪ রানে হাসান মুরাদের বলে তানজিমের তালুবন্দি হন। ১১.৩ ওভারে ৫ উইকেটে চট্টগ্রামের রান তখন ৭২।
ফাইনালে চট্টগ্রামের ওপেনার মির্জা বেগ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করে বিদায় নেন দলীয় ৯২ রানের মাথায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান আসে আসিফ আলীর ব্যাট থেকে। এ ছাড়া আর কেউ চট্টগ্রামের হাল ধরতে পারেনি। বাকিদের মধ্যে আমির জামাল ৮, শরিফুল ইসলাম শূন্য ও মুকিদুল ইসলাম শেষ ব্যাটার হিসেবে ১ রান করে সাকলাইনের বলে সাজঘরে ফেরেন। রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্ডোর ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে একাই নেন চার উইকেট। এ ছাড়া হাসান মুরাদ ৪ ওভারে ১৫ রানে তুলে নেন তিন উইকেট। জিমি নিশাম ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট।
এর আগে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু পায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ তামিম পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে স্কোর বোর্ডে ৪০ রান তোলেন। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ৮৩ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। সাহিবজাদা কিছুটা দেখেশুনে ধীরস্থির ব্যাটিং করেছেন। তিনি ৩০ বলে দুই চার ও এক ছয়ে মুকিদুলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩০ রানে। তবে ওপেনার তানজিদ শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে আরও ৪৭ রান যোগ করেন এই ওপেনার। মাত্র ২৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করে এগিয়ে যেতে থাকেন সেঞ্চুরির দিকে। কেন উইলিয়ামসন দারুণ শুরুর পর ১৫ বলে দুই চার ও এক ছয়ে ২৪ রান করে শরিফুলের বলে বিদায় নেন। ১৫.৪ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে রাজশাহীর রান তখন ১৩০। এরপর জিমি নিশামকে সঙ্গে নিয়ে ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধবর পেস থেকে ১ রান নিয়ে শতক পূর্ণ করেন তামিম।
৬১ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। বিপিএলে টি-২০ এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এ নিয়ে বিপিএলের টানা তিন আসরেই সেঞ্চুরির দেখা পেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। বিপিএল আসরে এ নিয়ে তিনটি সেঞ্চুরি দেখা গেল। আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেটে প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পরেরটি করেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের আফগান তরুণ হাসান ঈসাখিল। সেঞ্চুরি উদযাপনের পরবর্তী বলেই তানজিদ সাজঘরে ফেরেন। শরিফুলের করা ইনিংসের শেষ বলে ৭ বলে ১১ রানে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
শেষ পর্যন্ত রাজশাহী ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান তোলে। বল হাতে দুই উইকেট নিয়ে শরিফুলে ভেঙেছেন তাসকিনের রেকর্ড। গত আসরে সর্বোচ্চ ২৫ উইকেট পাওয়া তাসকিনকে ছাড়িয়ে বিপিএলে এবার ২৬ উইকেট শিকার করলেন শরিফুল ইসলাম। এ ছাড়া দুটি উইকেট নেন মুকিদুল ইসলাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ২০ ওভারে ১৭৪/৪
চট্টগ্রাম রয়্যালস ১৭.৫ ওভারে ১১১/১০
রাজশাহী ৬৩ রানে জয়ী
ফাইনাল সেরা তানজিদ হাসান তামিম