জাতীয় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২১ পিএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৪ পিএম
২০০৩ সাল থেকে জাতীয় তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষ বিভাগে সেরা দল ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কিন্তু সার্ভিসেস সেই দলটিই এবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে পারছে না। মানববন্ধন করায় এই বাহিনীর আট তায়কোয়ানেডাকে বহিষ্কার করায় খেলতে পারছে না সেনাবাহিনী। এই বাহিনীর কোচ সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘খেলার আগের দিন (বুধবার) আমাদের খেলোয়াড়দের বহিষ্কার করা হয়। আগে হলেও মনকে মানাতে পারতাম। তাই দীর্ঘ ২২ বছর পর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার সেনাবাহিনী অংশ নিতে পারছে না।’
গত
বছরের ১৫ অক্টোবর শৃংখলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে ফেডারেশন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল দীপু
চাকমাকে। নেপাল এসএ গেমসে দেশের হয়ে প্রথম এই স্বর্ণজয়ীকে বহিষ্কার করায় ক্ষেপে যান
সতীর্থরা। প্রতিবাদে ২২ অক্টোবর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের সামনে রীতিমতো ব্যানার
নিয়ে মানববন্ধন করেন তায়কোয়ানডোকোরা। যেখানে সেনাবাহিনী, আনসার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের
ক্রীড়াবিদরাও ছিলেন। এরপর শাস্তির খড়্গ নামে এই খেলোয়াড়দের ওপর। গত ২৫ ডিসেম্বর সেনাবাহিনীর
সাত খেলোয়াড়কে চিঠি দিয়ে বহিষ্কার করে ফেডারেশন। যার প্রেক্ষিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ
থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় চ্যাম্পিয়ন সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর
কোচ মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘টুর্নামেন্টের একদিন আগে নির্বাহী কমিটির সভায়
হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে বহিষ্কারাদেশের বহাল থাকায় রাখা হয়। যে আদেশের মধ্যে সেনাবাহিনীর
তারকা খেলোয়াড়রা ছিল। ফলে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় সেনাাবহিনী।’
ফেডারেশনের
সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) এরশাদুল হকের কথা, ‘এসএ গেমসের ক্যাম্প থেকে বের হয়ে
মানববন্ধন করে শৃংখলাভঙ্গ করেছে ওই তায়কোয়ান্দোকারা। তাদেরকে আগে বহিস্কার করা হয়েছিল।
তবে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলানো যায় কিনা এ নিয়ে মঙ্গলবার নির্বাহী কমিটির সভা হয়েছে।
সভায় ৯০ ভাগ সদস্য হাজির ছিলেন। সেখানেই ১৪-৩ ভোটে বহিষ্কারকৃত খেলোয়াড়দের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে
খেলতে না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
তিনি
যোগ করেন, ‘সভায় ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মো. হাবিব উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। ডিসিপ্লিনভঙ্গকারীদের
ব্যাপারে এমন সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানান। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ দিয়ে বিকেএসপিতে
এসএ গেমসের অনুশীলন করানো হয়েছিল। যদিও গেমস স্থগিত হওয়ায় পুরো টাকাটাই জলে গেছে। উপরন্তু
তাদের এমন ঘটনা আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। তাই এমন সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বাধ্য হয়েছি।
তবে অবাক হয়েছি, সেনাবাহিনীর অন্যরা কেন খেলতে আসেনি এবং নাম নিবন্ধন করেও কেন পরে
তা প্রত্যাহার করেছে।’
আরকে/প্রবা