বিপিএল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৭ পিএম
প্রবা ফটো
বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফাইয়ারে রাজশাহী ওয়ারির্সকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। গতকাল মঙ্গলবার মিরপুরে তিন বল বাকি থাকতেই রাজশাহীকে ৬ উইকেটে হারায় শেখ মাহেদীর চট্টগ্রাম। তবে এ ম্যাচে হারলেও ফাইনালে খেলার সুযোগ আছে রাজশাহীর। আজ দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে তারা। এই ম্যাচে জয়ী দলই আগামী শুক্রবার বিপিএলের ১২তম ফাইনালে চট্টগ্রামের মুখোমুখি হবে।
এদিন রাজশাহীর দেওয়া
১৩৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে নাঈম শেখ ও মির্জা বেগ ওপেনিং জুটিতে দারুণ শুরু
করেন। শুরুতে দেখেশুনে খেলে ১১ ওভারে বিনা উইকেটে ৬২ রান তোলে তারা। অবশেষে এ জুটি
ভাঙেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ১২তম ওভারে নাঈম শেখ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। ৩৮ বলে তিন
বাউন্ডারিতে ৩০ রান করেন তিনি। এরপর হাসান নওয়াজকে সাথে নিয়ে ২৪ বলে ৩৪ রানের জুটি
গড়েন মির্জা। কিন্তু ইনিংসের ১৬তম ওভারে দলীয় ৯৮ রানে বিদায় নেন নওয়াজ। ১৪ বলে দুই
ছয়ে ২০ রান করেন তিনি। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে আসিফ আলী বিদায় নেন ১১ রানে। চট্টগ্রামের
রান তখন ১৭.২ ওভারে তিন উইকেটে ১১২ রান। ১৯তম ওভারে বিদায় নেন মির্জা বেগ। এই ওপেনার
৪৭ বলে চার বাউন্ডারিতে ৪৫ রান করেন। এরপর ক্রিজে নামেন অধিনায়ক শেখ মাহেদী ও আমের
জামাল। জিততে শেষ ৬ বলে চট্টগ্রামের দরকার ছিল ৯ রান। রিপন মন্ডলের করা ওভারের প্রথম
বলে ১ রান নিয়ে পরের বলে ছক্কা মারেন মেহেদী। চার বলে তখন প্রয়োজন ২। পরের বলেই ২ রান
নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক। মাহেদী ১৯ ও জামাল ২ রান করে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে মিরপুরে টস হেরে
ব্যাটিংয়ে নেমে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের শেষের ঝড়ে ১৩৩ রানের পুঁজি পায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
এদিন রাজশাহীর শুরুটা ছিল একটু ধীরগতির। পাওয়ার প্লেতে তারা তুলতে পারে মাত্র ৩৭ রান।
উদ্বোধনী জুটিতে শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম যোগ করেন ৩০ রান। তবে ১৯ বলে
২১ রান করা শাহিবজাদাকে ফেরান তানভীর ইসলাম। এরপর দলীয় ৪৯ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন
অধিনায়ক নাজমুল ইসলাম শান্ত। ১১ বলে ৮ রান করে শেখ মেহেদীর বলে বোল্ড আউট হয়ে ফেরেন
রাজশাহী অধিনায়ক। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম বড়
ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেনি। ফেরেন গোল্ডেন ডাক মেরে। আকবর আলী খেলেন অনেকটা স্লো মোশনে।
১০ বল খেলে মাত্র ৩ রান করে মুকিদুল ইসলামের বলে ক্যাচ দেন তানভীরের হাতে। সতীর্থদের
আসা যাওয়ার মাঝে এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন তানজিদ তামিম। তবে তিনিও আর বেশিক্ষণ
টিকতে পারেনি। ৩৭ বলে ৪১ রান করে হাসান নাওয়াজের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন বাঁহাতি
এই ব্যাটার। জেমস নিশামও আউট হয়েছেন দ্রুত। ৯ বলে ৬ রান করা এই কিউই অলরাউন্ডারকে সাজঘরে
ফেরান মির্জা বেগ। পরের ওভারে রায়ান বার্লকে সাজঘরে ফেরান বিপিএলে দুর্দান্ত ছন্দে
থাকা শরিফুল ইসলাম। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে সাকলাইনকে ফেরান আমের জামাল। ইনিংসের
শেষ বলে দুই রান নিতে গিয়ে রানআউটে কাটা পড়েন বিনুরা ফার্নান্দো। আর তাতেই ১৩৩ রানে
অলআউট হয় রাজশাহী। বল হাতে চট্টগ্রামের হয়ে শেখ মেহেদী ও আমের জামাল নেন ২টি করে উইকেট।
এছাড়া পেসার শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম, তানভীর ইসলাম, মির্জা বেগ ও হাসান নাওয়াজ
নেন ১টি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ২০
ওভারে ১৩৩/১০
চট্টগ্রাম রয়্যালস
১৯.৩ ওভারে ১৩৪/৪
চট্টগ্রাম ৬ উইকেটে
জয়ী