প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৫ পিএম
সাবেক শুটার জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি শুটারদের লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক আরও কিছু বিষয় আমলে নিয়ে এক মাসের বেশি সময় তদন্ত করে। তাদের সেই তদন্তের প্রতিবেদন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা হয়েছে।
তদন্ত
প্রতিবেদনের আগেই অবশ্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাজ্জাদকে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক থেকে
অব্যাহতি প্রদান করে। এরপরও নানা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি ৯ পাতার একটি
রিপোর্ট প্রদান করেছে। অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সেই প্রতিবেদনে আটটি সুপারিশ
রয়েছে। তথ্য-বক্তব্য পর্যালোচনা করে সাজ্জাদের আচরণ, শুটারদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, ভয়-ভীতি
প্রদর্শন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্দিষ্ট শুটারকে হেনস্থা করা যা ফেডারেশনের কর্মকর্তার
দায়িত্ব ও শালীনতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়েছে কমিটির কাছে। এজন্য তাকে দীর্ঘমেয়াদী
বা ১০ বছর শুটিং থেকে বহিষ্কার বা শুটিং অঙ্গনের বাইরে রাখার সুপারিশ এসেছে। বিশেষ
করে ভবিষ্যতে তিনি যেন নারী শুটার কিংবা কোচের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ না রাখতে পারেন,
এজন্য নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কমিটি।
তদন্ত
কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশে, অভিযোগকারী শুটারের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে
উঠে এসেছে। প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তারা যেন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ
থেকে বঞ্চিত না হন সেটি নিশ্চিত করার কথা রয়েছে প্রতিবেদনে। প্রয়োজনে নারী খেলোয়াড়দের
কাউন্সেলিংয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। একজন নারী সদস্য, আইনজ্ঞ ও ক্রীড়া প্রশাসনে অভিজ্ঞ
ব্যক্তিকে নিয়ে একটি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেল গঠনের প্রস্তাব এসেছে। ক্যাম্পের পরিবেশ
বিশেষত ক্যাম্প এলাকায় সক্রিয় ও মনিরটরকৃত সিসিটিভি ব্যবস্থা নিশ্চিতের সুপারিশ করা
হয়েছে।
শুটিং
অত্যন্ত সংবেদনশীল খেলা। শুটিং ফেডারেশনে অস্ত্র-গুলির রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতিতে গোলমাল
খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। মজুদাগারের পাসওয়ার্ড শুধু যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দারের
কাছে ছিল এবং সেই ফুটেজ এক সপ্তাহ সময়ের বেশি থাকে না। এজন্য ন্যূনতম তিন মাসের ফুটেজ
রাখার সুপারিশ এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
আরকে/প্রবা