× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গোলরক্ষণে ক্রান্তিকাল : বাফুফের ভরসা হতে পারেন বিপ্লব

রুমেল খান

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৬ এএম

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৮ এএম

গোলরক্ষণে ক্রান্তিকাল : বাফুফের ভরসা হতে পারেন বিপ্লব

ফুটবলে গোল করাটা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে গোল ঠেকানোটাও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর গোল ঠেকানোর কাজটা করেন যে অতন্দ্র প্রহরী, তার পজিশনের নাম গোলরক্ষক। আর এই গোলরক্ষককে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে-অনুশীলন করিয়ে শাণিত-অভিজ্ঞ করে তোলেন একজন গোলরক্ষক কোচ। ম্যাচে পেনাল্টি ঠেকালে কিংবা যেকোন আক্রমণ নসাৎ করে দিলে গোলরক্ষক প্রশংসিত হন, কিন্তু তার এই সাফল্যের প্রকৃত নেপথ্য কারিগর গোলরক্ষক কোচ।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র পুরুষ ও নারী জাতীয় ফুটবল দল বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু কোনোটিতেই তারা প্রত্যাশা সাফল্য অর্জন করতে পারেনি (ব্যতিক্রম শুধু নারী দলের এএফসি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে উত্তীর্ণ হওয়া)। এর প্রধান কারণ গোলরক্ষণে দূর্বলতা। পুরুষ ও নারী দলগুলোতে একাধিক বিদেশী গোলরক্ষক কোচ কাজ করছেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে-এসব কোচ এনে কি লাভ হচ্ছে? ফুটবলপ্রেমীরা বলছেন বিদেশী এসব কোচ এসে শুধু নিজের পকেটই ভারী করছেন, কিন্তু ভবিষ্যতের দক্ষ গোলরক্ষক তৈরি করতে পারছেন না!

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) চাইলে একজনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে। তিনি বিপ্লব ভট্টাচার্য।

বিপ্লব জাতীয় দলের হয়ে ১৯৯৯ সালে এসএ গেমস ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন, ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন, ২০১০ সালে সাউথ এশিয়ান বিচ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এই দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ফাইনালে টাইব্রেকারে ৪টি শট রুখে দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

ক্লাব পর্যায়ে ২৩ বছর খেলেছেন আবাহনী, শেখ রাসেল, মুক্তিযোদ্ধা, ব্রাদার্স, মোহামেডান ও ফরাশগঞ্জে। আনুমানিক ২০-২৫টি শিরোপা জিতেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় হচ্ছে ২০১২-১৩ মৌসুমে রাসেলের হয়ে জয় ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়। একমাত্র ফরাশগঞ্জ বাদে আর বাকি সব ক্লাবের হয়েই লিগ-শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। এছাড়া তিনিই সম্ভবত বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ফুটবলার, যিনি সবচেয়ে বেশি লিগ ম্যাচ খেলেছেন। সংখ্যাটা ১০০০ বা তার কাছাকাছি হবে!

অবশ্য জাতীয় ফুটবল দলের (১৯৯৭-২০১৩) সাবেক ও তারকা এই গোলরক্ষক আগেও একবার বাফুফেতে কাজ করেছেন। সেটা ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। তিনি বাফুফের জাতীয় পর্যায়ের একাধিক দল নিয়ে (জাতীয় ফুটবল দল, নারী দল ও এলিট একাডেমিতে) কাজ করেন।

অবশ্য খেলোয়াড় থাকা অবস্থাতেই ২০১৪ সালের আগস্টে বিপ্লব জাতীয় দলের তৎকালীন কোচ লোডভিক ডি ক্রুইয়ের ডাকে অনুর্ধ-২৩ জাতীয় দলের গোলরক্ষক কোচ হিসেবে মাসখানেক কাজ করেছিলেন। তখন বিপ্লব শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের অধিনায়ক।

২০২১ থেকে ২০২২ সালের ২১ মাসের ওই সময়টাতে প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় কাটান সর্বাধিক ৮ বার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা রেকর্ডধারী সাবেক ফুটবলার বিপ্লব। সে সময় এই প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে দেখেছেন বিপ্লবের রুটিনটা ছিল এরকম : ভোর ৫টায় নারী দলের গোলকিপার রূপনা, মিলি, সাথী, স্বর্ণাদের ট্রেনিং করানো, সেটা শেষ করে সকালে বয়সভিত্তিক ছেলে দলের আসিফ, মাহীন, ইমন, সৌহানদের অনুশীলন করানো, দুপুরে জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের গোলকিপারদের পারফরমেন্স দেখার জন্য প্রিমিয়ার লিগের খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে চলে যাওয়া, বিসিএল ফুটবল দলের গোলকিপারদের স্কাউটিং করানো এবং প্রত্যেকটি ক্লাবের জুনিয়র গোলকিপারদের একটা শর্ট লিস্ট তৈরি করে সপ্তাহে তাদের একদিন ট্রেনিং করানো ইত্যাদি।

ফেডারেশনে ২১ মাস কাজ করার পর আবারও ক্লাব কোচিংয়ে (শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব) ফিরে যান বিপ্লব। কিন্তু আর্থিক কারণে চলমান মৌসুমে তার ক্লাব লিগে অংশ না নেওয়ায় বেকার হয়ে পড়েন তিনি! ফলে এ বছরের জানুয়ারিতে দেশ ছেড়ে কাজের খোঁজে পাড়ি জমিয়েছিলেন কম্বোডিয়ায়। সেখানে ৩মাস একটি স্কুলের ফুটবল একাডেমিতে কাজও করেন।

প্রশ্ন উঠতে পারে বিপ্লব বাফুফের চাকরি ছেড়েছিলেন কেন? এর উত্তর জানার জন্য বিপ্লবকে ফোন করলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়Ñবিপ্লবের বেতন তখন বাফুফে বাড়ায়নি, ওই সময় তার কাছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ভালো বেতনের প্রস্তাব পাঠায়। তখন বিপ্লব বাফুফের তৎকালীন সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনের কাছে বিষয়টি জানালে সালাউদ্দিন বিপ্লবকে শেখ জামালের হয়ে কাজ করতে অনুমতি দেন।

বাস্তবতা হচ্ছে-বিপ্লব বাফুফে ছেড়ে চলে আসার পর এলিট একাডেমি থেকে আর কয়টা আসিফ, মাহীন, ইমন আর সৌহান তৈরি হয়েছে? এই যে বিদেশী গোলকিপার কোচরা আসেন, তারা সেটা করতে পেরেছেন কি? মনে রাখতে হবে বিপ্লবের অধীনে থেকেই আনিসুর রহমান জিকো দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোলকিপার হয়েছিলেন। বিপ্লব জাতীয় ফুটবল দল থেকে যাওয়ার পর জিকোকেও দল থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মিতুল মারমা সেভাবে পারফর্ম করতে পারছেন না। ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বাস বিপ্লবকে আবারো জাতীয় ফুটবল দল পাশাপাশি এলিট একাডেমির গোলকিপারদের ডেভলপিংয়ের জায়গায় নিয়োগ দিলে আবারও বাংলাদেশের গোলপোস্টে আস্থাভাজন গোলকিপার পাওয়া যাবে।

একজন ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে মনে করি যেহেতু বাফুফে এর আগে একবার বিপ্লবকে কাজে লাগিয়েছিল, সেহেতু বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গোলরক্ষক তৈরি করার জন্য বিপ্লবকে আবারও কাজে লাগানো। মোট কথা, দেশীয় গোলরক্ষকদের জন্য বিপ্লব ভট্টাচার্যই হতে পারেন উপযুক্ত গোলরক্ষক- দ্রোণাচার্য্য। সেটা বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন, এটাই ফুটবলপ্রেমীদের নিগুঢ় প্রতাশা। 

আরকে/প্রবা

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা