প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:০৫ পিএম
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:০৭ পিএম
বিমানবন্দর থেকে ছাদ খোলা বাসে করে ফুটবলারদের নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানী রাবাতের প্রাণকেন্দ্রে।
কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস তৈরি করলেও স্বপ্ন পূরণ হয়নি মরক্কোর আশরাফ হাকিমিদের। শেষ চারের লড়াইয়ের পর তৃতীয় স্থানের ম্যাচেও মরক্কো হেরেছে ক্রোয়েশিয়ার কাছে। তাই শেষটাও ভাল হয়নি তাদের। তারপরও দেশের মানুষের কাছে নায়কোচিত সম্মান পেলেন মরক্কোর ফুটবলাররা।
ডেইলি মেইল জানিয়েছে, বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দেশে ফেরা মরক্কোর ফুটবলারদের স্বাগত জানাতে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন সেখানকার ফুটবলপ্রেমীরা। বিমানবন্দর থেকে ছাদ খোলা বাসে করে ফুটবলারদের নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানী রাবাতের প্রাণকেন্দ্রে। যাত্রা পথের দুদিকে এ সময় হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন ফুটবলারদের স্বাগত জানানোর জন্য। রাবাতের প্রধান সড়কে এদিন যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আর ফুটবলারদের বাস ঘিরে রেখেছিল পুলিশ।
জাতীয় পতাকা, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফুটবলপ্রেমীরা উৎসবে মাতেন এ সময়। অনেকে এসেছিলেন ড্রাম নিয়ে। আনন্দে মাতোয়ারা বহু মানুষকে নাচতেও দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার আতসবাজি ফাটিয়েছেন। অনেকে ফুটবলারদের ছোঁয়ার চেষ্টা করছিলেন। যদিও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ফুটবলারদের কাছাকাছি কাউকে যেতে দেওয়া হয়নি। উচ্ছ্বসিত ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ছিলেন প্রচুর নারী এবং শিশুও। সকলেই দলের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত। ফুটবলারদের লড়াইয়ের প্রশংসা করছেন তারা।
চতুর্থ স্থানে শেষ করলেও মরক্কোর সাধারণ মানুষের কোনও আক্ষেপ নেই তাতে। ফুটবলারদের জাতীয় নায়কের চোখেই দেখছে দেশবাসী। সাধারণ মানুষের উন্মাদনায় আপ্লুত মরক্কোর কোচ, ফুটবলাররাও। হাসি মুখে হাত নেড়ে তারা মানুষের আবেগ, ভালবাসার জবাব দিয়েছেন। কয়েকজন ফুটবলার জনতার দিকে চুম্বনও ছুঁড়ে দেন।
কাতার বিশ্বকাপের সেরা চমক ছিল মরক্কো। অনেক বিশ্লেষকেরই হিসাব বদলে দিয়েছে তারা। আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসাবে প্রথমে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এবং পরে সেমিফাইনালে উঠেছেন হাকিমিরা।
বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগালের মতো ফুটবল বিশ্বের প্রথমসারির দলকে হারিয়েছেন তারা। অথচ বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বের কোনও বিশ্লেষকই মনে করেননি মরক্কো গ্রুপের বাধা অতিক্রম করতে পারবে।
বিশ্বকাপে মরক্কোর এ বারের সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে। এক সময় ফ্রান্সের শাসনে থাকা মরক্কো এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ খেলল। কাতারের আগে তাদের সেরা ফল ছিল ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছানো। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। তাই এ বার মরক্কোর সাফল্য একদিকে পুরো ফুটবলবিশ্বকে চমকে দিয়েছে। অন্য দিকে, নিজ দেশে তৈরি করেছে উৎসবের পরিবেশ।