প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২০ পিএম
আলোড়ন তুলে বহুল আলোচিত ‘লাতিন-বাংলা সুপার কাপ’ আয়োজন করে এএফবি বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। তবে নানা অব্যবস্থাপনা, আর্থিক অনিয়ম এবং সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়েছে আয়োজকরা। এমন বিশৃঙ্খলা কারণে মাঝপথে বাতিল হয়ে যায় টুর্নামেন্টটি। গত ১১ ডিসেম্বর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার অ্যাটলেটিকো চার্লোন ও ব্রাজিলের সাও বার্নান্দো খেলা মাঠে গড়ানোর কথা ছিল। তবে তা স্থগিত হয়ে যায়। টুর্নামেন্ট স্থগিত হলেও দুই বিদেশি দল ১২ ডিসেম্বর নির্ধারিত ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, আয়োজকেরা বিমান টিকিট ও হোটেল বিল পরিশোধ না করায় এই দেশে ফিরতে পারেননি দুই দেশের ফুটবলাররা! বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্লাবকে এরই মাঝে হোটেল পরিবর্তন করতে হয়। এখন পর্যন্ত হোটেলেই আটকে আছে তারা। সোমবার তাদের সম্ভাব্য ফ্লাইট।
এমন অব্যবস্থাপনার কারণে লাতিন বাংলার
আয়োজকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের
(এনএসসি) নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বাফুফে ভবনে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,
‘একটা দেশের খেলোয়াড়দের ডেকে এনে এভাবে আপনি রাস্তায় ছেড়ে দেবেন, টিকেট দেবেন না, এটা
তো ছেলেখেলা নয়। আমরা তাদেরকে সময় দিয়েছি যে আজকের টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য।
এই টিকেটের ব্যবস্থা যদি ওনারা না করে দেয়, উপদেষ্টা ও সচিব মহোদয় আছেন, তাদের সঙ্গে
আলাপ করে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’
এর আগেরদিন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব বার্নান্দো কোচ এদসনও ক্ষোভ প্রকাশ
করেন। জানান বাংলাদেশে আসার আগে দুবার ভাববেন তারা। বিমানবন্দরে চেক–ইনের সময়ই
ব্রাজিলিয়ান দল জানতে পারে তাদের ফেরার টিকেট বাতিল করা হয়েছে। কোনো সমাধান না পেয়ে
ক্লাবটিকে অতিরিক্ত খরচে নতুন করে টিকেট কিনতে বাধ্য হয়।
গত ৫ ডিসেম্বর শুরু হয় লাতিন বাংলা
সুপার কাপ। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ক্লাবের সঙ্গে খেলার জন্য বাফুফে রেড অ্যান্ড গ্রিন
ফিউচার স্টার নামে একটি দল পাঠায়। টুর্নামেন্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্লাব
ও দর্শকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে শুরু থেকেই। জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা এবং
বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের দ্বারা সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনার পর জাতীয়
ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) জাতীয় স্টেডিয়ামের বরাদ্দ বাতিল করে দেয়।
পেশাদার বক্সিং সংগঠক আসাদুজ্জামান
এই টুর্নামেন্টের শেষ দিকে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দুই তারকা কাফু ও ক্যানিজিয়াকে আনার
ঘোষণা দেন। এজন্য টিকেটের বড় দামও নির্ধারণ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাদের আনতে পারেননি।
আসাদুজ্জামান মূলত বক্সিং সংগঠক। ফুটবলের
জন্য তার ভেন্যু বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন,
‘এই যে বক্সিং প্রমোশন, আমরা কিন্তু তাদেরকে চিনি না। এবং আমরা তাদেরকে মাঠ এভাবে দিতামও
না। বাফুফে আমাদেরকে চিঠি দিয়েছে। তারা বলেছে, আমাদেরকে জানিয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতেই
কিন্তু আমরা তাদেরকে দিয়েছি। সুতরাং এখন বাফুফের তাদের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, আমরা জানি
না। আমরা আমাদের সঙ্গে বক্সিং প্রমোশন বা অর্গানাইজেশনকে যে শর্ত আমরা দিয়েছিলাম, তারা
সেই শর্ত ভঙ্গ করেছে। এবং সেই কারণেই আজকে তাদের এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমরা
আপনাকে জানাতে চাই যে বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো অর্গানাইজেশন, যারা দেশের সুনাম নিয়ে
আপনাকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করছে, আমরা আইনগতভাবে তাদের কোনো ছাড় দেব না।’
ক্রীড়াঙ্গনে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যেহেতু
বাফুফের কথায় লাতিন-বাংলা কর্তৃপক্ষকে মাঠ দিয়েছে এসএসসি, এখন এই আসর প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াতে
দায়ী করা হতে পারে বাফুফেকেও। সেক্ষেত্রে ফেঁসে যেতে পারে দেশয়ি ফুটবলের সর্বোচ্চ এই
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আরকে/প্রবা