প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৮ পিএম
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ ঘোষণার পরই শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কোন গ্রুপটিকে ‘মৃত্যুকূপ’ বলা যায়? ৪৮ দলের এই নতুন ফরম্যাটে সরাসরি কোনো গ্রুপকেই পুরোপুরি সমান শক্তির বলা না গেলেও অন্তত দুইটি গ্রুপ বিশেষভাবে আলোচনায় ‘আই’ ও ‘এল’। এই দুই গ্রুপেই অন্তত তিনটি করে দল আছে, যাদের মাঝে শক্তির পার্থক্য ন্যূনতম এবং যারা যে কাউকে হারানোর ক্ষমতা রাখে।
তবে মনে রাখতে হবে, প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি যাবে শেষ ৩২ এ, সঙ্গে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা আট দলও পাবে নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ। তাই কোনো গ্রুপে তিন দল শক্তিশালী হলেও সেটাকে পুরনো ধাঁচের ‘মৃত্যুকূপ’ বলা কঠিন। তবুও প্রতিটি ম্যাচই থাকবে সমানে সমান, কারণ বিশ্বকাপে সামান্য ভুলও দলের স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে।
‘এল’ গ্রুপ সবচেয়ে কঠিন
রয়টার্সের দৃষ্টিতে কাগজে-কলমে এবারের সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ ‘এল’। ইংল্যান্ড,
ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামাকে নিয়ে গঠিত এই গ্রুপের লড়াই হবে নিঃসন্দেহে শ্বাসরুদ্ধকর।
শীর্ষ দুই স্থান নিয়ে লড়াই মূলত ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও ঘানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে
বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ঘানা এখন ৭২তম হলেও আফ্রিকার চারবারের চ্যাম্পিয়ন
দলটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউরোপ-ভিত্তিক অভিজ্ঞ স্কোয়াড, ২০১০ বিশ্বকাপে
কোয়ার্টার ফাইনালের অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে তারা বড় দলের জন্য ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে
পানামা ২০১৮-এর পর এবার দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে খেলতে আসছে। র্যাঙ্কিংয়ে তারা ঘানার
ওপরে (৩০তম), তবে শক্তির তুলনায় তাদেরই সবচেয়ে দুর্বল ধরা হচ্ছে।
গ্রুপের অন্য দুই দল ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে নতুন করে বলার
কিছু নেই। র্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা ইংল্যান্ড তারকায় ভরপুর, কোচ টমাস টুখেলের
নেতৃত্বে হ্যারি কেইন–বেলিংহামদের নিয়ে শক্তিশালী এক স্কোয়াড। আর ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপের
পরিচিত মহাযোদ্ধা। ২০১৮-এর ফাইনালিস্ট, ২০২২-এর সেমিফাইনালিস্ট দলটিতে এখনও আছেন লুকা
মদরিচ, সঙ্গে পেরিসিচ, গাভারদিওল ও ক্রামারিকদের মতো অভিজ্ঞ নাম।
ড্র–এর পর প্রথম ম্যাচেই ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়া লড়াই পড়ে গেছে। টুখেল
খোলাসা করেই বললেন, ‘কঠিন গ্রুপ, কঠিন প্রতিপক্ষ।’ অপরদিকে ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো
দালিচ জানান, ‘টুখেল বলেছেন, এই ম্যাচটা যেন প্রথম রাউন্ড নয়, কোয়ার্টার ফাইনালে হওয়া
উচিত ছিল!’
‘আই’ গ্রুপ’ জমজমাট প্রতিযোগিতা
ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে ও প্লে-অফজয়ী দল (ইরাক/বলিভিয়া/সুরিনাম)Ñ
এই চার দল নিয়ে গঠিত ‘আই’ গ্রুপও মৃত্যুকূপের আলোচনায় আছে। বিশেষ করে ফ্রান্স, সেনেগাল
ও নরওয়ে যেকোনো দলের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ।
র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স
এবারও অন্যতম ফেভারিট। সেনেগালও পিছিয়ে নেই, ২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই ফ্রান্সকে
হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটি এখন আফ্রিকার অন্যতম সেরা, র্যাঙ্কিংয়ে ১৯-এ। নরওয়ে
সম্ভবত গ্রুপের সবচেয়ে আলোচিত দল, কারণ এতে আছেন বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম স্ট্রাইকার
আর্লিং হালান্ড। ইউরোপ বাছাই পর্বে ৮ ম্যাচে ৩৭ গোল করা দলটি ড্রয়ের পর জানিয়েছে, ‘আরেকটু
ভাগ্য পেলে গ্রুপটা আরও সহজ হতে পারত’। এই গ্রুপে এমবাপ্পে-হালান্ডের মুখোমুখি লড়াই
হবে বিশেষ আকর্ষণ।
গ্রুপ ‘এ’-এর সম্ভাব্য উত্তেজনা
মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে ইউরোপীয়
প্লে-অফজয়ী দল (ডেনমার্ক/নর্থ মেসিডোনিয়া/চেক রিপাবলিক/আয়ারল্যান্ড)। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ড
যদি জায়গা করে নেয়, গ্রুপটি আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। কারণ তারা দুর্দান্ত ফর্মে
আছেÑ বাছাই পর্বে পর্তুগালকে হারানোর মতো বড় সাফল্যও রয়েছে।
গ্রুপ ‘এফ’ পোল্যান্ড এলে উত্তাপ আরও বাড়বে
নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে আরেক ইউরোপীয় প্লে-অফ
দলের (ইউক্রেন/সুইডেন/পোল্যান্ড/আলবেনিয়া) একজন। বিশেষত, পোল্যান্ড চূড়ান্ত পর্বে উঠলে
গ্রুপটি অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠবে, কারণ দলে রয়েছেন বার্সেলোনার তারকা রবার্ট লেভানডস্কি।