ট্রাই নেশন সিরিজ
রুমেল খান
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ২১:২৯ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৫৪ পিএম
ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হাজার পাঁচেকের বেশি দর্শক হয়নি। কিন্তু
তাদের যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা পূরণ হয়নি। কেননা বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল যে হেরেছে!
বুধবার (২৬ নভেম্বর) ত্রিদেশীয় নারী ফুটবল সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ
শুরু করেছে আক্ষেপের হার দিয়ে। প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া জেতে ১-০ গোলে।
সবশেষ ২০১৩ সালের ২৫ মে ফিলিপাইনের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে এই মাঠে খেলেছিল বাংলার বাঘিনীরা। দীর্ঘ এক যুগ পর এই মাঠে খেলতে এসে খুব একটা মন্দ খেলেনি তারা।
কিন্তু গোলরক্ষক রূপনা চাতকমার এক ভুলেই সর্বনাশটা হয়! সেই সঙ্গে কোচ পিটার বাটলারের
‘হাই-লাইন ডিফেন্স’ নীতি ঠিকঠাক প্রয়োগ করতে না পারাটাও ভুগিয়েছে লাল-সবুজ বাহিনীকে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের (১০৪) চেয়ে ১২ ধাপ এগিয়ে মালয়েশিয়া (৯২)। অথচ পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষ দল
খেলে রক্ষণাত্নকভাবে। তাদের এই রক্ষণদুর্গ আর ভাঙ্গতে পারেনি স্বাগতিক দল। অথচ কমলাপুর
স্টেডিয়ামে এই মালয়েশিয়াকেই ২০২২ সালের ২৩ জুন ৬-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ!
বুধবার খেলার ৭ মিনিটে সুলতানার কাছ থেকে পাস পেয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে শামসুন্নাহার
জুনিয়র বক্সে ঢুকে উঁচু ক্রস করেন। কিন্তু মনিকা চাকমা মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। ৮ মিনিটে
ঋতুপর্ণা চাকমার কর্নার থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
২৯ মিনিটে খেলার ধারার বিরুদ্ধে আচমকা গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। বা প্রান্তে
সতীর্থের কাছ থেকে লম্বা-গড়ানো থ্রু পাস পান নূর আইনসিয়া। তার সঙ্গে লেগে ছিলেন বাংলাদেশ
ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকু। কিন্তু তিনি নূরকে ঠিকমতো আটকাতে পারেননি। এদিকে গোলরক্ষক
রূপনা চাকমা বড় ধরনের ভুল করে বসেন। পজিশন সেন্স ঠিক না রেখে অযথাই বল বিপদমুক্ত করতে
পোস্ট ছেড়ে অনেক সামনে এগিয়ে আসেন। নূর অনায়াসেই রূপনাকে ডজ দিয়ে ফাঁকা পোস্টে বল ঠেলে
দেন নূর এবং সতীর্থদের সঙ্গে মেতে ওঠেন উল্লাসে (১-০)।
দ্বিতীয়ার্ধে মুনকি আক্তার, সুলতানা ও শামসুন্নাহার জুনিয়রের বদলি নামেন
স্বপ্না রানী, তহুরা খাতুন ও সাগরিকা। তবে বাংলাদেশের খেলায় ধার ফিরেনি।
এ অর্ধের শুরুতে রক্ষণে তালগোল পাকিয়ে বল হারিয়ে বিপদ ডেকে আনতে বসেছিলেন
শিউলি আজিম। তবে হেনরিটা জাস্টিনের দুর্বল শট রূপনা সহজেই ফেরান। ৫৭ মিনিটে নুর নাজওয়ার
শট সরাসরি যায় গোলকিপারের কাছে।
৬২ মিনিটে রূপনার দারুণ সেভে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক
গলে বেরিয়ে নূর আইনসাহর শট লাফিয়ে গ্লাভসে জমান তিনি। ছয় মিনিটে পর সমতার সুবর্ণ সুযোগ
নষ্ট করেন সাগরিকা। তহুরার সাথে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ক্রস বাড়ান ঋতুপর্ণা, ফাঁকায়
থাকা সাগরিকার হেড হতাশা বাড়িয়ে যায় পোস্টের বাইরে।
পরের মিনিটেই মালয়েশিয়ার আক্রমণ ঠেকাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে যান রূপনা।
বল গ্লাভসে জমালেও নুর আদ্রিয়েনা বিনতে জামজাহিরির সাথে সংঘর্ষে ব্যথা পান তিনি। চিকিৎসা
নিয়ে অবশ্য খেলা চালিয়ে যান রূপনা।
৭৬ মিনিটে ঋতুপর্ণা ও শামসুন্নাহার সিনিয়রকে তুলে মামনি চাকমা ও জয়নব
বিবি রিতাকে নামান পিটার জেমস বাটলার। তিন মিনিট পর রূপনাকে একা পেয়ে যাওয়া আইনসাহ
শট নেওয়ার আগেই কোহাতি নিখুঁত ট্যাকলে বল ক্লিয়ার করেন।
খেলার শেষদিকে বাংলাদেশ প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। বেশ কটি বিপজ্জনক আক্রমণ করে তারা। কিন্ত মালয় গোলরক্ষক নূরুল আজুরিনের দৃঢ়তায় সব প্রচেষ্টা নসাৎ করে দেন। ভুটানি রেফারি চোকি ওম খেলা শেষের বাঁশি বাজালে জয়ের চিত্তসুখ নিয়ে মালয়েশিয়া এবং হারের বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। আগামী ২ ডিসেম্বর আজারবাইজানের বিপক্ষে খেলবেন আফঈদারা। তার আগে শনিবার লড়বে মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান।
আরকে/প্রবা