ট্রাই নেশন সিরিজ
রুমেল খান
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৪২ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৫৪ পিএম
প্রতিপক্ষ দুই অধিনায়ক আজারবাইজানের সেভিঞ্জ জাফরজাদে (বায়ে) এবং মালয়েশিয়ার নূর লিয়ানার (ডানে) সঙ্গে বাংলাদেশের আফঈদা খন্দকারের করমর্দন ও ফটোসেশন। ছবি : প্রবা ফটো
ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে কাল বুধবার (২৬ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার বিপক্ষে (আসরের অন্য দল ইউরোপের আজারবাইজান) ম্যাচ দিয়ে ত্রিদেশীয় কাপ জেতার মিশন শুরু করবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচ দিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় পর এই আঙিনায় প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলবে মেয়েরা। সবশেষ ২০১৩ সালের ২৫ মে ফিলিপাইনের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে এই মাঠে খেলেছিল বাংলার বাঘিনীরা।
টুর্নামেন্ট
উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ম্যাচ ভেন্যুর সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে
উপস্থিত ছিলেন অংশগ্রহণকারী তিন দলের কোচ ও অধিনায়করা। ‘সিঙ্গেল লিগভিত্তিক’ এই আসরে
আজারবাইজান ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলার আশাবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের কোচ ও
অধিনায়ক। 
আজারবাইজানের
বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হবে।
কেননা ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে আগে কখনো খেলেনি তারা। অস্ট্রেলিয়াতে আগামী বছর মার্চে
অনুষ্ঠেয় এশিয়ান উইমেন’স কাপ সামনে রেখে ঢাকায় এই প্রতিযোগিতায় খেলছে বাংলাদেশ। লাল-সবুজ
বাহিনীর জন্য এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি শাণিয়ে নেওয়া, কোচের কৌশল ঠিকঠাক বুঝে নেওয়ার
উপলক্ষ্য এই টুর্নামেন্ট।
বাটলারের
হাইলাইন ডিফেন্স কৌশল নিয়ে গত অক্টোবরে বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল আফঈদা খন্দকারদের। দুই
ম্যাচ মিলিয়ে গোল হজম করেছিল ৮টি, দিয়েছিল মাত্র ১টি। অধিনায়ক আফঈদা সংবাদ সম্মেলনে
বলেন, ‘কোচ আমাদের যেভাবে খেলার জন্য বলেছেন, আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব আজারবাইজান আর
মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভালো খেলার জন্য। সকালে আমরা অনুশীলন করেছি। কোচ আমাদের বলে দিয়েছেন
কীভাবে খেলতে হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা ভালো কিছু করব। বাংলাদেশের মানুষকে ভালো খেলা উপহার
দেব।’
হাইলাইন
ডিফেন্সের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে আফঈদা বলেন, ‘সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। আমরা
অবশ্যই চেষ্টা করব হাইলাইন ডিফেন্সের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার। এর আগে তো আমরা ওভাবে খেলিনি।
তবে আমরা কিন্তু এভাবে খেলেই এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ কোয়ালিফাই করছি। সিনিয়র টিমেও এশিয়ান
কাপে কোয়ালিফাই করেছি। এখন কোচ সেভাবে খেলাচ্ছেন, চেষ্টা করছি কোচের কথা মতো চলার।
ইনশাআল্লাহ, ভালো ফল পাব।’
ফিফা
র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের (১০৪) চেয়ে এগিয়ে আজারবাইজান (৭৪) ও মালয়েশিয়া (৯২)। তবে এ
নিয়ে ভাবিত নন আফঈদা, ‘আজারবাইজান ও মালয়েশিয়া যে দল নিয়ে আসুক না কেন, তারা র্যাঙ্কিংও
এগিয়ে আছে, তবে আমরা চেষ্টা করব আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে ম্যাচগুলো জয়ের।’
আগামী
শনিবার মুখোমুখি হবে আজারবাইজান ও মালয়েশিয়া। ২ ডিসেম্বর আজারবাইজানের বিপক্ষে খেলবে
বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের কোরিয়ান ইপিজেডে কোচ পিটার বাটলারের কোচিংয়ে চলছে বাংলাদেশের
অনুশীলন। গত অক্টোবরে থাইল্যান্ড সফরের আগেও সেখানে ক্যাম্প করেছিল দল। সফর শেষ করে
ফিরে সেখানেই চলেছে ক্যাম্প। ত্রিদেশীয় কাপ খেলতে চট্টগ্রাম থেকে রবিবার ঢাকায় আসেন
ঋতুপর্ণারা।
কোচ
বাটলার বলেন, ‘র্যাঙ্কিং অনেক কিছু আড়াল করতে পারে এবং আমি বিশ্বাস করি, র্যাঙ্কিং
কোনো বিষয় নয়। আমি বাস্তববাদী, আমি কোনোভাবেই আমার পরিকল্পনা থেকে সরব না, যেমন আমাদের
দলে অনূর্ধ্ব-১৭, ২০ দলের খেলোয়াড় আছে। উত্থান-পতন যাই হোক, আমরা জিতি বা হারি কিংবা
ড্র করি, যে পরিকল্পনা আমাদেরকে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ, এশিয়ান কাপের মঞ্চে নিয়ে গেছে,
সেটা চালিয়ে যাব। মেয়েরা চমৎকার করছে।’
বাটলার
আরও বলেন, ‘আমরা বড় দল নই। সম্ভবত মালয়েশিয়ার মতোই। আজারবাইজান শারীরিকভাবে শক্তিশালী
দল, তবে আমাদের এশিয়ান কাপে উত্তর কোরিয়া, চীনের মতো শক্তিশালী এবং র্যাঙ্কিংয়ে উপরে
থাকা দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। সম্প্রতি আমরা থাইল্যান্ডের
বিপক্ষে ভিন্ন ধাঁচের ফুটবল খেলেছি। ভালো একটা প্রস্তুতি হয়েছে। আপনারাও জানেন, অস্ট্রেলিয়াতে
আমাদের পুরোপুরি ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। সেখানে যেতে পারাও একটা সাফল্য।
তবে, আমাদের একটা লক্ষ্য নিয়ে সেখানে যেতে হবে।’
মালয়েশিয়া
কোচ জোয়েল কর্নেলি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, সি-গেমসের
মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্টে আমাদের খেলতে হবে। এজন্য এখানে শক্তিশালী দলের
বিপক্ষে খেলা আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাংলাদেশকে জানি, অনেক তরুণ খেলোয়াড়
নিয়ে অবশ্যই ওরা শক্তিশালী দল। আশা করি, টুর্নামেন্টটা আমরা উপভোগ করতে পারব এবং প্রস্তুতি
ভালোভাবে নিতে পারব।’
আজারবাইজান
কোচ সিয়াসাত আসগারোভ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সবশেষ ম্যাচগুলো দেখেছি। ওদের নিয়ে খবর
পড়েছি এবং নারী ফুটবল নিয়ে এই দেশের আগ্রহ সম্পর্কে জেনেছি। বাংলাদেশ উইমেন’স এশিয়ান
কাপ ও উইমেন’স অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে অংশ নেবে। এই আসর দিয়ে আমরাও বিশেষ প্রস্তুতি
নেব বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য। এখান থেকেই আমাদের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ক্যাম্প এবং প্রস্তুতি
শুরু হবে।’
আরকে/প্রবা