বাংলাদেশ ফুটবল লিগ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৪৭ পিএম
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীকে হারিয়ে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ খ্যাত মোহামেডানের উল্লাস। ছবি : প্রবা ফটো
কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) গতকাল সোমবার মৌসুমের প্রথম ‘ঢাকা ডার্বি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনী লিমিটেড মুখোমুখি হয় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। পাঁচ গোলের রোমাঞ্চকর-তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিাপূর্ণ এই ম্যাচে জয়ের হাসি হেসেছে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ খ্যাত মোহামেডান। তারা ৩-২ গোলে হারিয়েছে ‘দ্য স্কাই ব্লু ব্রিগেড’ খ্যাত আবাহনীকে। মৌসুমে সাদা-কালোদের এটা প্রথম জয়। ক্লাবের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধ নিয়ে জটিলতা, খেপ কেলতে গিয়ে খেলোয়াড়ের আহত হওয়া … এসব সমস্যা নিয়েও মোহামেডান দেখিয়ে দিয়েছে আবাহনীর বিরুদ্ধে খেলার সময় এগুলো কোন প্রভাব ফেলে না।
দিনের
অন্য ম্যাচে ডরিয়েল্টনের জোড়া গোলে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে ২-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের
শীর্ষে উঠেছে বসুন্ধরা কিংস। তাদের পয়েন্ট ৭। ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুলকে ২-০ গোলে
হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব গোলশূন্য ড্র করে ফর্টিস
ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে।
তবে
মোহামেডান জিতলেও তাদের মোটেও স্বস্তি দেয়নি আবাহনী। খেলার শেষদিকে তিন গোলে এগিয়ে
থাকা মোহামেডানের সীমানায় প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি করে আকাশি-নীল শিবির৷ একপর্যায়ে দুই
গোল শোধও দিয়ে ফেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি তারা।
১৯৭২
সাল থেকে অদ্যাবধি সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই দু’দল পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে ১৪০
ম্যাচে। জয়ের পাল্লা আবাহনীরই ভারী, তারা জিতেছে ৫০ ম্যাচে। তবে পিছিয়ে নেই মোহামেডানও।
তারা জিতেছে ৪৯ ম্যাচে। ড্র হয়েছে ৩৫ ম্যাচে। পরিত্যক্ত হয়েছে ৫ ম্যাচ। ওয়াকওভারে সমাপ্তি
১ ম্যাচ। ১৪০ ম্যাচে আবাহনীর ১৪০ গোলের বিপরীতে মোহামেডানের গোলসংখ্যা ১৩৩। লিগে আবাহনী
৩ ম্যাচে আগের এক পয়েন্ট নিয়েই রইলো। মোহামেডান সমান ম্যাচে চার পয়েন্ট পেয়েছে।
ম্যাচের
শুরুর ১০ মিনিট একের পর এক আক্রমণ শাণায় আবাহনী। ৩ মিনিটে হাসান মুরাদের দূরপাল্লার
শট উঁচু কর্নার দিয়ে জালে পড়ার উপক্রম। তবে মোহামেডান গোলরক্ষক লাফিয়ে উঠে ঠেকিয়ে দেন
তা। ২০ মিনিটে আবাহনীর রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় মোহামেডান। ডান প্রান্ত
দিয়ে আক্রমণে ওঠা স্যামুয়েল বোয়াটেংকে ঠেকাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন আবাহনী গোলরক্ষক
মিতুল মারমা। তিনি কোনো চ্যালেঞ্জ জানানোর আগে কাটব্যাক করেন বোয়াটেং। যদিও তা গিয়ে
পড়ে ইয়াসিন খানের পায়ে। তাতে আবাহনীর বিপদ কেটে গেছে বলেই ধরা হচ্ছিল। কিন্তু সুযোগ
সন্ধানী ফরোয়ার্ডের মতো ইয়াসিনের কাছ থেকে ছোঁ মেরে বল কেড়ে নেন রহিম উদ্দিন।এরপর ফাঁকা
পোস্টে বল জালে পাঠাতে কোনো ভুল করেননি তিনি।
৩১
মিনিটে মুজাফফর মুজাফফরভের কর্নারে পা ছুঁইয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলি কেকে এমানুয়েল।
বিরতির পর ৫৮ মিনিটে জাহিদ হাসান শান্তর ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন স্যামুয়েল
বোয়াটেং।
এরপর ম্যাচের ফিরতে আপ্রাণ চেষ্টা চালায় আবাহনী। ৭২ মিনিটে কাজেম শাহের পাসে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক গোল করেন পাপন সিংহ। ৭৮ মিনিটে জটলার মধ্য থেকে ব্যবধান আরও কমান শেখ মোরসালিন। পরে আরও কয়েকবার চেষ্টা করেও সমতায় ফিরতে পারেনি আবাহনী। ৩ ম্যাচ শেষে তাই জয়শূন্য থাকল তারা।
আবাহনী-মোহামেডান ফুটবল দ্বৈরথ
ম্যাচ : ১৪০
আবাহনী জয় : ৫০
মোহামেডান জয় : ৪৯
ড্র : ৩৫
পরিত্যক্ত : ৫
ওয়াকওভারে সমাপ্তি : ১
আবাহনী গোল : ১৪০
মোহামেডান গোল : ১৩৩
আরকে/প্রবা