প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩১ পিএম
২৪তম এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে প্রথমবার ঢাকায় এসেছেন দুই পাকিস্তানি আরচার। র্যাঙ্কিং রাউন্ড শেষ করে রবিবার (৯ নভেম্বর) শেষ বিকালে ঢাকা স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে পায়চারি করছিলেন পাক আরচার আমান উল্লাহ ও আসিফ মাহমুদ।
আসিফের বাড়ি ফয়সালাবাদ ও আমান উল্লাহর মুলতান। নিতান্ত শখের বশেই আরচারি খেলেন এ দুজন। আসিফ বছর তিনেক আগে আর আমান খেলছেন পাঁচ বছর।
খেলোয়াড় হলেও মূলত তাদের বড় পরিচয় দুজনই কৃষক। স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে আমান উল্লাহ বলছিলেন, আমরা আসলে পাঞ্জাবের কৃষক। ক্ষেত-খামারে কাজ করি। দুজনেরই পেশা কৃষিকাজ। আমাদের ধান, গম, ভুট্টা, আখের জমি আছে। এগুলো বেশি চাষ হয় আমাদের ওখানে। বেশিরভাগ সময় মাঠে কাজ করি। এর ফাঁকে ফাঁকে আর্চারি অনুশীলন করি।
পাকিস্তান থেকে তিন আরচারি এসেছেন ঢাকায়। আরেকজন রিজওয়ান ফাহিম। মাত্র ৫০ দিনের অনুশীলনে ঢাকা এসেছেন বলে জানালেন আসিফ। অল্প অনুশীলনে বড় মঞ্চে যে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি সেটা স্কোরবোর্ডেই প্রমাণ।
তিনজনই অংশ নিয়েছেন পুরুষ রিকার্ভ ইভেন্টে। যেখানে ৬২ জনের মধ্যে ৫৩তম হয়েছেন আমান উল্লাহ। স্কোর করেছেন ৫৮৮। আর আসিফ মাহমুদ ৫৭৯ স্কোর করে ৫৭তম হয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানে আরচারি মোটেও জনপ্রিয় খেলা নয়। সব মিলিয়ে ৫০০ আরচার সে দেশে নিয়মিত আর্চারি খেলেন। পাকিস্তান আরচারি ফেডারেশনও খেলাটি জনপ্রিয় করার কোনো উদ্যোগ নেয় না বলে জানালেন আমান, তিনি বলেন, আসলে আমাদের ফেডারেশন কখনোই ভাবে না আর্চারিটা উন্নতি হোক। আমাদের অবস্থা দেখেই নিশ্চয় তা বুঝতে পারছেন।
প্রথমবারের মত ঢাকা এসে উচ্ছ্বসিত আসিফ। তিনি বলেন , করাচি ও ঢাকার মধ্যে কোনো তফাত নেই। আমার তো মনে হচ্ছে করাচিতেই আছি। ট্রাফিক ও জনসংখ্যাও মনে হয় একই রকম হবে। তবে বাংলাদেশের মানুষ খুব ভালো। অতিথিপরায়ণ। আর আমরা তো ভাই ভাই। যখন কোনো ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের দেখা হয় তখন তো ভালোই লাগে।
পাকিস্তানে ক্রিকেট জনপ্রিয়। এরপরই হকি। কিন্তু এতো খেলা থাকতে কেন তীর-ধনুকের প্রেমে পড়লেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ হেসে বলেন, ইন্টারনেটে একদিন আরচারি খেলা দেখে ভালো লেগে যায়। এরপর আমার ওস্তাদ যখন আমাকে বলেন, তখন খেলাটা শিখি। এখানে প্রথমবার এসে হয়তো ভালো করিনি। পরের বার সোনা জিতব।
আমাদের নবী করিমের সুন্নত এটা। আমরা মুসলিম। সেই সুন্নতের কথা ভেবেই আরচারি খেলি, যোগ করেন আমান।
পাকিস্তানে যতোই খেলাটা অজনপ্রিয় হোক না কেন একদিন তীর-ধনুকে অলিম্পিকে খেলতে চান বলছিলেন আমান। তিনি বলেন, একদিন আমরা অলিম্পিকে সোনা জিতব। এটা আমাদের স্বপ্ন। সেই চেষ্টা করব আমরা। তবে সেক্ষেত্রে পাকিস্তানি আরচারি ফেডারেশন যদি সমর্থন দেয় আর কোচ যদি আমাদের ওপর ভরসা করে তাহলে ইনশাল্লাহ একদিন অলিম্পিক থেকে পদক নিয়ে আসব।
পাকিস্তানের মুলতান আর ফয়সালাবাদের মাঠে দিনরাত ফসল ফলানো এই দুই কৃষক এখন তীর-ধনুকে স্বপ্ন বুনছেন। স্কোরবোর্ডে সাফল্য না থাকলেও তাদের চোখে আছে অদম্য জেদ, বিশ্বাস আর নিজের সীমা পেরোনোর ইচ্ছা। ক্রিকেটপ্রেমী এক দেশে আরচারিকে ভালোবেসে তারা দেখিয়ে দিয়েছেন—মঞ্চ ছোট হোক বা বড়, স্বপ্নের আকাশ সবার জন্যই সমান বিস্তৃত। একদিন হয়তো সত্যিই কোনো অলিম্পিক মাঠে ওদের তীর গিয়ে লাগবে সোনার নিশানায়।