× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কাঠগড়ায় মিরাজের অধিনায়কত্ব

শেখ সাদী

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৫৯ এএম

মেহেদী হাসান মিরাজ। ফাইল ফটো

মেহেদী হাসান মিরাজ। ফাইল ফটো

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় নাজমুল হোসেন শান্তকে। পরে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব পান অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন ওয়ানডে ক্রিকেট ভুলতেই বসেছে। মিরাজের অধীনে এখন পর্যন্ত ১১টি ম্যাচ খেলে ৯টিতেই হেরেছে টাইগাররা। 

সবশেষ ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে একাধিকবার জয়ের সুযোগ পেয়েও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এক কথায় মিরাজের ভুল সিদ্ধান্তেই টাইগারদের হার। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৮৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে জিতেছে ৫০টিতে। এরপর হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৬৯টি ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে ২৯ ওয়ানডেতে। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। তার নেতৃত্বে ৬২ ম্যাচে জয় ২৭। তামিমের নেতৃত্বে ৩৭ ম্যাচে জয় ২১টিতে। আর মুশফিকের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ জিতেছে ১১ ম্যাচে।

ক্রিকেট মাঠে অনেক সময়ই অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধার অবকাশ থাকে। কিন্তু সবশেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সুপার ওভারে ব্যাটিং করবেন কে? এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশই থাকার কথা নয়। একজন নামলেও সেটি হওয়ার কথা রিশাদ হোসেন। অথচ তাকে ব্যাটিংয়ে নামানোই হলো না!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নানা বাঁক পেরোনো ম্যাচে বাংলাদেশের অনেক কিছু নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায়। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন নিঃসন্দেহে এটিই। রিশাদকে কেন সুপার ওভারে ব্যাটিংয়ে নামানো হলো না। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলও অবাক বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের। ক্যারবিয়ানদের সুপার ওভারের নায়ক আকিল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে অকপটেই বলেছেন, রিশাদকে না নামানোর ব্যাপারটি তাদের পক্ষেই গেছে।

ব্যাটসম্যানদের চরম ভোগান্তির উইকেটেও দারুণ ব্যাটিংয়ে ১৪ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন রিশাদ। সেই ব্যাটসম্যানকে ডাগআউটে বসিয়ে রেখে সুপার ওভারে ১১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ। কোচ-অধিনায়ক-টিম ম্যানেজমেন্টকে নিয়ে তাই বয়ে যাচ্ছে প্রশ্ন ও সমালোচনার ঝড়। কিন্তু তাদের কাছ থেকে উত্তর মেলেনি। তারা কেউই যে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হননি! ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পাঠানো হয় সৌম্য সরকারকে। তার কাছে প্রথম প্রশ্নই ছুটে গেল সুপার ওভারে রিশাদের অনুপস্থিতি নিয়ে। তিনি জানালেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ ও অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘কোচ আর অধিনায়ক পরিকল্পনা করেছেন। এটা তাদের পরিকল্পনার একটা অংশ ছিল। উনারা চিন্তা করেছেন যে, মূল ব্যাটসম্যানদের পাঠাবেন এই সময়টাতে।’

সুপার ওভারে শুরুতে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয় সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানকে, তিনে নামানো হয় নাজমুল হোসেন শান্তকে। বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনের সামনে ডানহাতি ব্যাটসম্যান রিশাদকে না পাঠিয়ে বাঁহাতি বলেই শান্তকে পাঠানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন উঠল। সৌম্য এখানেও বললেন কোচ-অধিনায়কের কথা। তিনি বলেন, ‘এটা একটা ভালো প্রশ্ন। সত্যি বলতে কী, এটা নিয়ে তো সবাই আমরা চিন্তা করি নাই। এটা কোচ-অধিনায়ক চিন্তা করেছেন। ওখানে আমরা কিন্তু জানতাম না যে আকিল হোসেন বল করবে। যদি আমরা দুটো বাঁহাতি নেমে যেতাম, ওই সময় যদি কোনো অফ-স্পিনার আসত, তখন কিন্তু আমরা বিপদে থাকতাম। এজন্য ডানহাতি-বাঁহাতি ছিল।’

রিশাদকে না নামানোর পরও অবশ্য জয়ের সুবর্ণ সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। সুপার ওভারে কোনো বৈধ ডেলিভারি হওয়ার আগেই ওয়াইড-নো বলের সৌজন্যে চার রান পেয়ে যায় তারা। তখন ছয় বলে প্রয়োজন ছিল স্রেফ সাত রানের। পাশাপাশি ছিল একটি ফ্রি হিটও। সেই ফ্রি হিটে মাত্র ১ রান নিতে পারেন সৌম্য। পরের বলে সাইফ পারেননি রান নিতে। এরপর তিনিও নেন সিঙ্গল। চতুর্থ বলে বড় শটের চেষ্টায় আউট হয়ে যান সৌম্য। আকিল পরে ওয়াইড করেন আরও একটি। কিন্তু সাইফ ও শান্ত শেষ পর্যন্ত পারেননি সমীকরণ মেলাতে। তিনি বলেন, ‘এটা বলতে পারেন আমার জন্য আমিই ব্যর্থ। বাঁহাতি স্পিনার ছিল আমারও নিজের আত্মবিশ্বাস ছিল যে, একটা বাউন্ডারি এখান থেকে আদায় করতে পারব। এটাও ঠিক, উইকেট ওরকম ছিল না যে, সহজে চার বা ছক্কা মারা যাবে। বলটাও অনেক পুরনো হয়ে গেছে, ৫০ ওভারের পরের বল। বলটা একটু ধীরগতিতে আসছিল এবং টার্নও ছিল অনেক বেশি। সো, হ্যাঁ, নেক্সট টাইম যদি কখনও এ রকম উইকেট থাকে, অবশ্যই ওই রকমভাবে প্র্যাকটিসটাও করতে হবে যে এই উইকেটে ছয় মারতে হবে কীভাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা