প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৬ পিএম
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৮ পিএম
খেলাধুলার জগতে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞ এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এমন দাবি তোলেন। তাদের মতে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্রীড়াঙ্গনে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত করা উচিত। এবার একই দাবিতে মুখ খুলেছেন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের আরও অনেক পরিচিত মুখ।
তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম হাজিওসমানোউলু সম্প্রতি
ফিফা, উয়েফা ও বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল সংস্থার প্রধানদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ইসরায়েলকে
ফুটবল প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এবার সেই দাবিকে আরও জোরালো
করেছেন ৫০ জন সাবেক ও বর্তমান পেশাদার ক্রীড়াবিদ। তারা সবাই মিলে সই করা একটি চিঠি
ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফায় পাঠিয়েছেন, যেখানে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে
ইসরায়েলকে উয়েফার সব প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হোক।
এই ক্রীড়াবিদদের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার মঈন আলী,
ব্রিটিশ বক্সার জ্যাক চেল্লি, মোনাকোর ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা, ব্রিটিশ হিজাবধারী
ঘোড়দৌড়বিদ খাদিজা মেল্লা, ক্রিস্টাল প্যালেসের মালিয়ান মিডফিল্ডার চিয়েক ডৌকুরে, চেলসির
সাবেক মরোক্কান উইঙ্গার হাকিম জিয়েশ, অ্যাস্টন ভিলার ডাচ উইঙ্গার আনোয়ার এল ঘাজি এবং
লেস্টার সিটির সাবেক কোচ নাইজেল পিয়ার্সন।
চিঠিতে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে ফিলিস্তিনের প্রয়াত ফুটবলার
সুলেইমান আল-ওবেইদকে, যিনি ‘ফিলিস্তিনি পেলে’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। চিঠিতে উল্লেখ করা
হয়, ‘বেঁচে থাকতে খেলাধুলার মাধ্যমে আশার সঞ্চার করেছেন তিনি। আর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে
মনে করিয়ে দিয়েছেন, কেন এখনই ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’
চিঠির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন,
যেখানে বলা হয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশ্য হলো গাজার ফিলিস্তিনিদের
আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার একটি গণহত্যামূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
চিঠির শেষাংশে লেখা হয়, ‘আমরা উয়েফাকে আহ্বান জানাই, অবিলম্বে যেন
ইসরায়েলকে সব ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
চিঠিটি ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থার (উয়েফা) দপ্তরে জমা দিয়েছে ব্রিটেনভিত্তিক
সংস্থা ‘নুজুম স্পোর্টস’। ‘অ্যাথলেটস ফর পিস’ ব্যানারে পাঠানো এই চিঠিতে বলা হয়, ধর্ম,
জাতীয়তা বা বিশ্বাস নির্বিশেষে বহু ক্রীড়াবিদ ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে তাদের সঙ্গে
যোগাযোগ করেছেন। এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলও ইসরায়েলকে ফুটবল থেকে সাময়িক
বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছে। সর্বশেষ দুটি ফিফা কংগ্রেসেও, যেখানে প্যালেস্টাইন ফুটবল
অ্যাসোসিয়েশন এই বিষয়টি উত্থাপন করে।
তবে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসি স্পোর্টকে জানান, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ইসরায়েলকে
নিষিদ্ধ করার যে কোনো উদ্যোগ প্রতিহত করতে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। মার্কিন সরকারের
ভাষ্য, “ইসরায়েলের
জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার কোনো উদ্যোগ সফল না হয়, তা নিশ্চিত করতে
আমরা সচেষ্ট থাকব।”