লিগস কাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ২০:৩৫ পিএম
মেসি করেছেন জোড়া গোল, খেলেছেন পুরো ৯০ মিনিট, আর নেতৃত্ব দিয়েছেন এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের
চোটের কারণে টানা দুই ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন। আগের পাঁচ ম্যাচে মাত্র ৪৫ মিনিট খেলেছেন। মাঠে ফেরার আগেই শঙ্কা ছিল কী অবস্থা মেসির? অনেকেই ভাবছিলেন, আরও কিছুদিন বিশ্রাম নিলে ভালো হতো। কিন্তু লিওনেল মেসি তো ফুটবল ইতিহাসের সেই ব্যতিক্রমী চরিত্র, যার নামের পাশে সবসময়ই লেখা থাকে ‘অসম্ভবকে সম্ভব করার মানুষ’। চোট কাটিয়ে ফিরে যেন আরও একবার প্রমাণ করলেন, পুরনো সেই জাদুকর এখনও অমলিন।
লিগস কাপের সেমিফাইনালে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে
ইন্টার মিয়ামি। শুরুতে পিছিয়ে পড়া দলটি শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে নেয় ৩-১ গোলে। ম্যাচের
নায়ক নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসি, করেছেন জোড়া গোল, খেলেছেন পুরো ৯০ মিনিট, আর নেতৃত্ব
দিয়েছেন এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল করে অরল্যান্ডো সিটিকে ১-০ ব্যবধানে
এগিয়ে দেন মার্কো পাসালিচ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটি একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা
পাচ্ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পাল্টে দেন আর্জেন্টাইন তারকা মেসি। ৭৭ মিনিটে
পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরান। এরপর ৮৮ মিনিটে বাঁ পায়ে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করে দলকে
এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ে, ৯০ মিনিটের পর ১ মিনিটে তেলাস্কো সেগোভিয়া করেন দলের তৃতীয়
গোল, অ্যাসিস্ট দেন লুইস সুয়ারেজ।
৭৬ মিনিটে জোরালো এক আক্রমণে গোলের কাছাকাছি চলে যায় মিয়ামি। জর্দি
আলবার ক্রস থেকে হেড করেছিলেন তাদেও আইয়েন্দে। গোলরক্ষক বল ধরে ফেললেও রেফারি বাঁশি
বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলের দিকেই ঝাঁপাতে গিয়ে আইয়েন্দেকে
ধাক্কা দিয়েছিলেন ডিফেন্ডার ডেভিড ব্রেকালো। একই সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ
ছাড়েন তিনি। এক ঝটকায় ম্যাচে ফিরে আসে মেসির দল।
পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতায় ফেরার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি ইন্টার
মিয়ামিকে। বারবার আক্রমণে উঠতে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটি এবং একের পর এক তৈরি করতে
থাকে সুযোগ। আর শেষ দিকে সেই সুযোগগুলোকে নিখুঁত
পরিণতিতে রূপ দেন লিও মেসি।
ম্যাচ শেষে অ্যাপল টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি জানান
মেসি। বলেন, ‘আমি এই ম্যাচে খেলতেই চেয়েছিলাম। এলএ গ্যালাক্সির বিপক্ষে কিছুটা অস্বস্তি
ছিল, কিন্তু জানতাম এই ম্যাচটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমার্ধে কিছুটা ভয়ে ছিলাম, তবে
ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে গেছি।’
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মেসির ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা
এখন ৮৭৭। ৯০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছাতে দরকার আর মাত্র ২৩টি গোল। পাশাপাশি ৪০০তম অ্যাসিস্টের
আগে আছেন মাত্র ১১টি অ্যাসিস্ট দূরে। সব মিলিয়ে ১৩০০ গোল অবদানের অনন্য রেকর্ড গড়তে
প্রয়োজন আর ৩৪টি অবদান।
এই ম্যাচ দিয়েই মেসি ক্যারিয়ারে পৌঁছে গেলেন ৪৪তম ফাইনালে। এর আগে
৩১টি ফাইনাল জিতেছেন, হেরেছেন ১২টি। ফাইনালে তার গোলসংখ্যা ৩৭, যার মধ্যে ৩৫টিই করেছেন
পেশাদার ক্যারিয়ারে।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির ফাইনালের শুরুটা হয়েছিল হতাশায়। ২০০৭ কোপা আমেরিকা,
২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ এবং ২০১৬ কোপা আমেরিকায় হারের স্বাদ পান। তবে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা
জয় দিয়ে বদলে যায় গল্প। এরপর একে একে জেতেন ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা
আমেরিকা। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ১০টি ফাইনালে খেলেছেন, যার মধ্যে জয় ৬টি।
মেসি সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলেছেন বার্সেলোনার হয়ে। ৩১টি, যার মধ্যে জয় ২৩টিতে। তিনবার
ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন, তিনবারই জিতেছেন। কোপা দেল রে-তে ১০টি ফাইনালে জিতে
নিয়েছেন ৭টি, স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছেন ৭ বার, উয়েফা সুপার কাপেও তিনবার জয়ের স্বাদ
পেয়েছেন।
পিএসজিতে যোগ দিয়ে ২০২২ সালে জেতেন ফ্রেঞ্চ সুপার কাপ। এরপর ২০২৩
সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়েন লিগস কাপ জয় করে। এবার সেই একই মঞ্চে দ্বিতীয়বারের
মতো ফাইনালে উঠল তার দল।
ম্যাচে ইন্টার মিয়ামির ডাগআউটে ছিলেন সহকারী কোচ হাভিয়ের মোরালেস।
কারণ প্রধান কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন। ম্যাচশেষে মেসির পারফরম্যান্স
নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ঝরেছে মোরালেসের কণ্ঠে। ‘লিও সম্পর্কে কিছু বলার আগে মনে হয়,
শব্দই কম পড়ে যায়। ঠিকভাবে অনুশীলন করতে পারেনি, কিন্তু তারপরও পুরো ৯০ মিনিট খেলেছে।
আমাদের জন্য যেমন সৌভাগ্যের, তেমনি দর্শকদের জন্যও বড় আনন্দের বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে শুধু মাঠেই না, মাঠের বাইরেও একজন নেতা। ওর কাছ
থেকে শেখার বিষয়টা শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়, নেতৃত্বেও।’
রবিবার অনুষ্ঠেয় লিগস কাপের ফাইনালে ইন্টার মিয়ামির প্রতিপক্ষ সিয়াটল
সাউন্ডার্স। সেমিফাইনালে তারা হারিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সিকে। যুক্তরাষ্ট্র ও
মেক্সিকোর ক্লাবগুলোকে নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের তিন আসরে মিয়ামির এটি দ্বিতীয়
ফাইনাল। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দলটি সরাসরি খেলবে আগামী বছরের কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস
কাপের শেষ ষোলোয়।