প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১০:৪৮ এএম
এশিয়া কাপের আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেস উন্নতিতে কাজ করে যাচ্ছেন স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিং কোচ নাথান কেলি। প্রবা ফটো
যেকোনো খেলায় সাফল্য পেতে হলে প্রথম ও প্রধান শর্ত শারীরিক ফিটনেস। একজন খেলোয়াড়ের পারদর্শিতা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার শরীর থাকে সুস্থ, সচল ও শক্তিশালী। ফিটনেস না থাকলে প্রতিভা ও প্রশিক্ষণও মাঠে ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। বিসিবি অবশ্য জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ফিটনেসের দিকে সবসময় নজর রেখে আসছে। আসন্ন নেদারল্যান্ডস সিরিজ ও এশিয়া কাপের আগে সুযোগ পেয়ে লম্বা সময়ের জন্য একটা ফিটনেস ক্যাম্প চালিয়ে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। বিসিবির স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিং কোচ নাথান কেলি একদল ক্রিকেটার নিয়ে ছুটে চলেছেন জিম, মাঠ আর পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে। তার একটাই লক্ষ্য- ক্রিকেটারদের ফিটনেসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, যাতে তারা শুধু ভালো খেলোয়াড়ই নয়, পরিণত হয় পরিপূর্ণ অ্যাথলেটে।
আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ফিটনেস ক্যাম্প। এরপর শুরু হবে স্কিল ট্রেনিং। ২০ আগস্ট থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে প্রস্তুতি ক্যাম্প। সেখানেই ৩০ আগস্ট, ১ ও ৩ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। এরপর দল উড়াল দেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে, যেখানে ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এশিয়া কাপ। আবুধাবিতে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে।
মঙ্গলবার মিরপুরে ফিটনেস ট্রেনিং শেষে জাতীয় দলের স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিং কোচ নাথান কেলি বলেছেন, আমরা সারা বছর ক্রিকেট খেলি। অন্য দেশগুলোর মতো বড় বিরতির সুযোগ আমাদের নেই। তাই সিরিজ শেষের এই ফাঁকা সময়টাই কাজে লাগাই। এবারও সেটাই করেছি। বিরতিতে উন্নতির সুযোগ থাকে বেশি। কেউ টাইম ট্রায়ালে ভালো করতে পারেনি, কিন্তু জিম সেশনে দুর্দান্ত করেছে। ফিটনেস ক্যাম্প মানে শুধু পাস বা ফেল নয়; বরং কার কোথায় শক্তি আর কোথায় দুর্বলতা। ফিটনেস কেমন তা বুঝতে পারাই মূল লক্ষ্য। জাতীয় স্টেডিয়ামেও কিছু টেস্ট হয়েছে। স্প্লিন্ট, কন্ট্রোল... নাহিদ অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। গ্রুপ হিসেবে আরও ভালো হওয়ার চেষ্টা করছি। এখানেও কিছু স্ট্রেংথ টেস্টিংয়ের পরামর্শ দিয়েছি। ছেলেদের অনেক উন্নতি হয়েছে।
ক্রিকেট একটু ভিন্ন হলেও যথাযথ অ্যাথলেট হয়ে ওঠা জরুরি বলে মনে করেন কেলি, ছেলেরা এখন অনেক টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলে। তাদের শুধু ক্রিকেটে উন্নতি করলেই হবে না, অ্যাথলেট হিসেবেও উন্নতির জায়গা আছে। ছেলেরা অনেক কঠোর পরিশ্রম করছে। ওই কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে আমরা কাজ করেছি। আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, বড় সময় ধরে ফিজিক্যাল ওয়ার্ক করতে না পারা। আপনি যে স্পোর্টসেই খেলুন না কেন, আপনাকে ভালো অ্যাথলেট হতে হবে। আপনাকে ফিট হতে হবে, পাওয়ারফুল হতে হবে।
খেলোয়াড়দের আরও অ্যাথলেটিক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে কেলি বলেন, অ্যাথলেটদের নেচার দিন শেষে একরকম। আমরা অ্যাথলেটিক ক্রিকেট প্লেয়ার চাই। যা তাদের ভালো খেলার স্বাধীনতা দেবে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংও আরও ভালো হবে। মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে। ফাস্ট বোলারদের দীর্ঘ স্পেল করতে হবে। এটা শুধু ক্রিকেট দিয়ে কথা নয়, সব খেলাতেই অ্যাথলেটিক ফিটনেস প্রয়োজন।
আগে বিপ টেস্ট হলেও গত কিছুদিন ধরে টাইম ট্রায়ালের মাধ্যমে ফিটনেস যাচাই করা হচ্ছে। ‘টাইম ট্রায়াল’কে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে কেলি বলেছেন, এটার ফল নিয়ে কম বিতর্ক হয়। যখন আপনি ইয়ো-ইয়ো বা বিপ টেস্ট করান, কখনও কখনও খেলোয়াড়েরা খুব অল্পের জন্য পিছিয়ে যায়, কিন্তু তখন তাদের থামিয়ে দিয়ে বলাটা কঠিন হয়ে যায় যে, তোমার টেস্ট শেষ। টাইম ট্রায়ালের ভালো জিনিস হচ্ছে, ঘড়ি মিথ্যা কথা বলে না। আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, যারা ইয়ো ইয়ো বা বিপ টেস্টে পাস করে, তারা টাইম ট্রায়ালেও জেতে। যারা ওখানে (বিপ বা ইয়ো ইয়ো) ভালো না, তারা এখানেও (টাইম ট্রায়াল) না।
ফিটনেস টেস্টে নিজেদের শতভাগ নিংড়ে দিচ্ছেন উল্লেখ করে কেলি আরও বলেছেন, ক্রিকেটাররা খুব মোটিভেটেড। ওরা সবাই প্রচণ্ড পরিশ্রমী এবং নিজেদের সেরা বানাতে চায়। আমি কখনও আমাদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ফিটনেস নিয়ে অভিযোগ পাইনি। তারা পুরোপুরি যুক্ত হয়েছে, উন্নতির চেষ্টা করছে এবং তাদের এনার্জি ও উৎসাহ দারুণ।