প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ২০:২২ পিএম
কাজেমরা চেষ্টা করেছিলেন। যদিও ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি । প্রবা ফটো
ঘরের মাঠে খেলা। হারলে বিদায়, জিতলে গ্রুপ পর্বে ওঠার সুযোগ। নিজেদের সমর্থকদের সামনে চ্যালেঞ্জটা নিতে চেয়েছিল ঢাকা আবাহনী। কিন্তু কিরগিস্তানের ক্লাব মুরাস ইউনাইটেডের সঙ্গে পেরে উঠল না আকাশি-নীলরা। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অব স্টেজ থেকে হেরেই বিদায় নিল মারুফুল হকের দল।
মঙ্গলবার পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে
মুরাস ইউনাইটেডকে আতিথেয়তা দেয় আবাহনী। যেখানে অতিথিদের বিপক্ষে ০-২ গোলে হেরেছে আবাহনী।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে হয় দুটি গোল। দুই গোলই আসে মুরাসের মিডফিল্ডার
আতায় ঝুমাশেভের থেকে।
এদিন শুরুতেই একের পর এক আক্রমণে
আবাহনীকে ভড়কে দেয় মুরাস। প্রতিপক্ষ দলের ফরোয়ার্ডদের আক্রমণের সামনে অনেকটা একাই লড়াই
করেন আবাহনী গোলরক্ষক মিতুল মারমা। সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ক্লিনশিট
রাখা এই গোলরক্ষক এদিনও ছিলেন নিজের সেরা ছন্দে; কিন্তু তার সঙ্গে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডে
নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারেনি। যে কারণে প্রতিপক্ষের কাছে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হন
মিতুল।
খেলার ষষ্ঠ মিনিটে গোল মিস
করে মুরাস। পোস্টের সামনে থেকে নেওয়া ওলে মারচুকের বাম পায়ের নিচু শট বেরিয়ে যায় বক্সের
ডান পাশ ঘেঁষে। অথচ বল গোলে ঢোকানোর নিশ্চিত সুযোগ ছিল এই ফরোয়ার্ডের সামনে।
এ যাত্রায় আবাহনীকে বাঁচিয়ে
দেন মিতুল। আবার পোস্টে চাভেল গোমেসের গতিময় সোজা শট ফিস্ট করে বের করে দেন তিনি। দুই
মিনিট পর পোস্টের সামনে থেকে আলিগুলভ মাকসাতের শট কর্নারের বিনিময়ে আরেকবার ঠেকিয়ে
দেন মিতুল।
অতিথিদের আক্রমণের গোলা সামলে
ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেয় আবাহনী। ১৩ মিনিটে শাকিল হোসেনের গতিময় শট ঠেকিয়ে দেন
মুরাসের গোলরক্ষক ওরেস কোস্তিক। মোরছালিনের ফিরতি শট প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের গায়ে
লেগে বেরিয়ে যায়। কর্নার পায় আবাহনী। ৫ মিনিট পর বামপ্রান্ত দিয়ে দুজনকে কাটিয়ে বল
নিয়ে ওঠেন সুলেমান দিয়াবাতে। বক্সে এক ডিফেন্ডারের বাধার সম্মুখীন হন, উঠে নিজেকে সামলে
শট নিলে বল যায় বক্সের সামান্য ওপর দিয়ে।
২১ মিনিটে আরেকবার গোল সেভ
করেন মিতুল। পরের মিনিটে বল নিয়ে একাই ওপরে উঠছিলেন আবাহনীর ফরোয়ার্ড আল আমিন। তবে
তার পেছনে ছিলেন মুরাসের ডিফেন্ডার অ্যান্দ্রি বাতসুলা। সামনে গোলরক্ষক একা, তবে পোস্টে
শট নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কর্নারের বিনিময়ে পেছন থেকে বল ক্লিয়ার করেন মুরাসের ওই ইউক্রেনীয়
ডিফেন্ডার। দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হয় আবাহনীর।
৩০ মিনিটে মুরাসের রক্ষণের
ভালোই পরীক্ষা নেয় আবাহনী। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে কয়েকজনকে কাটান দিয়াবাতে। বাধার সামনে
এক দফায় মাটিতে পড়েও যান, তবে উঠে দাঁড়িয়ে বামদিকে ক্রস দেন ইব্রাহীমকে দেখে। পোস্টের
একদম কাছ থেকেই এই ফরোয়ার্ডের শট ছিল না লক্ষ্যে। বল কাঁপায় বক্সের পেছনের জাল। ওই
সময় পর্যন্ত ম্যাচের সবচেয়ে ভালো সুযোগটা হাতছাড়া করে আবাহনী। গোলশূন্য ড্র নিয়ে বিরতিতে
যায় দুই দল।
প্রথমার্ধে আটকে রাখা মুরাসের
বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল হজম করে বসে আবাহনী। ৪৮ মিনিটে বামপ্রান্ত ধরে আক্রমণে
উঠে খানিকটা জায়গা করেই লম্বা ক্রস দেন মুরাসের ইউক্রেনিয়ান ডিফেন্ডার বাতসুলা। আবাহনীর
গোলমুখ অনেকটা আনমার্কিংয়ে থাকা আতায় ঝুমাশেভ সেই ক্রস থেকে হেডে আবাহনীর জাল কাঁপান।
১-০ গোলে এগিয়ে যায় অতিথিরা।
গোল হজমের পর মুরাসের রক্ষণে
চাপ বাড়ায় আবাহনী। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখাই মেলেনি। ম্যাচে সমতায় ফেরার আশায় থাকা
আবাহনীকে ম্যাচের অন্তিম সময়ে চূড়ান্ত হতাশায় ডুবিয়ে দেয় মুরাস। ৯০ মিনিটে দলটির হয়ে
ব্যবধান দিগুণ করেন আতায় ঝুমাশেভ। ডানদিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ডান পায়ে জোরালো শটে মিতুলকে
পরাস্ত করেন এই মিডফিল্ডার। ম্যাচে দুটি গোলই করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হেরে
জাতীয় স্টেডিয়ামে ফেরার স্মৃতি সুখকর রাখতে পারল না আকাশি-নীল জার্সিধারীরা।