× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাক্ষাৎকার

মা চাইতেন ক্রিকেটার হই: আল আমিন

রেহান রুবেল

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৫ ২০:১১ পিএম

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৫ ২০:১২ পিএম

আল আমিন

আল আমিন

চলমান দল বদলে পুলিশ এফসি থেকে আল আমিনকে দলে টেনেছে ঢাকা আবাহনী। ১২ আগস্ট, জাতীয় স্টেডিয়ামে চ্যালেঞ্জ লিগে ম্যাচ আছে আবাহনীর। ধানমন্ডির ক্লাব আঙিনায় প্রধান কোচ মারুফুল হকের অধীনে নিবিড় অনুশীলন করছেন আকাশি-নীলরা। নতুন ক্লাবে আসা এবং প্রত্যাশা নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বুধবার একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জাতীয় দলের ২১ বছর বয়সি এই স্ট্রাইকার। এদিন বিকালে ক্লাব আঙিনায় বসে আল আমিনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুবেল রেহান।

প্রবা : আবাহনীতে আসার অনুভূতিটা কেমন?

আল আমিন : সবাই ভালো ক্লাবে যেতে চায়। বড় ক্লাবে যেতে চায় এটা সব ফুটবলারেরই স্বপ্ন। আর আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল গড়ে। তো আমার স্বপ্ন ছিল আবাহনী, মোহামেডান, বসুন্ধরা কিংসের মতো এমন কোনো দলে খেলা। প্রস্তাব ছিল আরও অনেক ক্লাবের, কিন্তু আবাহনী বেছে নেওয়ার কারণ হলো- আমার পছন্দের কোচদের মধ্যে… বাংলাদেশের সেরা কোচ মারুফুল হক স্যার, ওনার অধীনে এক বছর থাকব। কিছু করতে পারি বা পারি শিখতে পারব। এটা বিবেচনা করেই আবাহনীতে আসা।

প্রবা : পুলিশ এফসিতে সবশেষ মৌসুমটা আপনার দারুণ কেটেছে। লিগের প্রথমার্ধ শেষে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার ছিলেন। ফেলে আসা ক্লাব নিয়ে কী বলবেন?

আল আমিন : আমি পুলিশের (এফসি) কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। ওনারা আমাকে অনেক সুযোগ করে দিয়েছেন। জয়ন্ত দাদা, ইসা ফয়সাল ওনাদের মাধ্যমে পুলিশ টিমে যাওয়া। শুরুটা হয়তো ভালো ছিল না, তবে পরে মানিয়ে নিতে পেরেছে। অনেক সুন্দর একটা মৌসুম গেছে। পুলিশের কোচিং স্টাফ থেকে অফিসিয়ালাদের অনেক ধন্যবাদ জানাই। এখন টাকাপয়সার একটা ব্যাপার আছে। এ ছাড়া সবার স্বপ্ন থাকে বড় ক্লাবে খেলার। এখন আমার সুযোগ আছে সেটাই নিয়েছি। আর জুয়েল স্যারের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।

প্রবা : দলবদলের মৌসুমে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আলোচনা হয়, কে কোথায গেল তা নিয়ে আলোড়ন হয়। বাংলাদেশে তেমনটা নেই। যতটুকু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তো আবাহনীর সমর্থকরা আপনাকে কীভাবে নিচ্ছে…

আল আমিন : যখন আবাহনীতে আসলাম, প্রথম প্র্যাকটিসের সময় আবাহনীর সমর্থকরা এসে স্বাগত জানায়, আসলে সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চেষ্টা থাকবে সমর্থকদের চাওয়া যেন পূরণ করতে পারি।

প্রবা : চ্যালেঞ্জ লিগে আবাহনীর ম্যাচ আগামী ১২ আগস্ট, জাতীয় স্টেডিয়ামে। ওই ম্যাচ নিয়ে প্রত্যাশা কী?

আল আমিন : আমাদের লক্ষ্য এই ম্যাচটা জেতা। এটা জিতলে সামনে আরও ম্যাচ পাব, অ্যাওয়ে ম্যাচ হবে, তো মারুফ স্যার চায় এই ম্যাচটা যেন আমরা জিতিয়ে দেখাই।

প্রবা : আবাহনীর প্রতিপক্ষ কিরগিস্তানের ক্লাব এফসি মুরাস ইউনাইটেড। বাস্তবতার বিচারে তাদেরকে হারানো কতটা সম্ভব?

আল আমিন : এটা খেলাই বলে দেবে কে জিতবে, আসলে আমরা প্রস্তুত।

প্রবা : দেশের বাইরে কোন ক্লাব আপনাকে ডাকলে খুশি হবেন?

আল আমিন : দেখেন আমার স্বপ্ন আসলে অতদূরে নেই। আর এই স্বপ্ন দেখেও লাভ নেই। বাংলাদেশিদের বাইরের দেশে নিতে চায় না। তারপরও যদি বলি তবে বলব রিয়াল মাদ্রিদে খেলতে পারলে খুশি হব। অন্তত একটা ম্যাচ হলেও যদি খেলতে পারি তবে সার্থক (হাসি)।

প্রবা : নীলফামারীর প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখান থেকে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটা কে বুনে দিয়েছিল?

আল আমিন : ২০১৬ সালের কথা, নীলফামারী একটা স্কুল পর্যায়ের খেলা হয়, তখন খালি পায়ে খেলি, তারপর আমাদের দীপক রয় নামের এলাকায় একজন খেলোয়াড় আছে, ও যখন শুরু করে, দেখি বাইরে যায়, ঢাকায় আসে, তাকে দেখে খেলার ইচ্ছা জাগে। আমার একটা বন্ধু ছিল, যার কাছে একটা প্যান্টের জন্য এক মাস ঘুরেছি, ওর বাসায় যেতাম, ওরে সাইকেলে করে মাঠে নিয়ে যেতাম এরপর আস্তে আস্তে প্রাকটিস করা শুরু করলাম।

প্রবা : পরিবারের সাপোর্ট ছিল?

আল আমিন : বাবার সাপোর্ট ছিল, কিন্তু মা চাইতেন ক্রিকেটার হই। কারণ ফুটবলের এক জোড়া বুট কিনতে অনেক টাকা লাগে সেটা বাসা থেকে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। মা বলে যে ফুটবলে যাওন লাগবে না, রিস্ক আছে। ক্রিকেটে টাকা আছে। মা ক্রিকেট দেখতেন টিভিতে। সাকিব আল হাসানকে দেখতেন যে বিজ্ঞাপন করেন, আরও কতকিছু। আমার পছন্দের খেলোয়াড় সাকিব। তখন মা বলত- বড় হয়ে সাকিবের মতো ক্রিকেটার হও। ক্রিকেটার হতে যা লাগে সব দেব, কিন্তু ফুটবলার হতে চাইলে কিছুই পাবে না। তারপরও যখন স্কুল থেকে শুরু করে সব ফেলে ফুটবল প্র্যাকটিস করা শুরু করি এমনও হয়েছে যে বাসায় ভাত দেওয়া বন্ধ হয়েছে। কিন্তু তবুও আমি ফুটবল ছাড়িনি।

প্রবা : আপনার শক্তির দিক কোনটা?

আল আমিন : আমি বল পেলেই দেখি পোস্ট কোথায়, সুযোগ আছে কি না। শট মেরে দেই।

প্রবা : সর্বশেষ মৌসুমে আপনি পুলিশে নম্বর নাইন হিসেবে খেলেছেন, তাতে সাফল্যও পেয়েছেন। পরে দেখা গেল আপনাকে উইংয়ে, মিডফিল্ডে খেলানো হলো। তাতে ছন্দটাও হারাল, হয়েছিল কী?

আল আমিন : ওই সময় পুলিশে নতুন স্ট্রাইকার আনা হলো, হয়তো সে কারণে আমাকে ওই পজিশনে খেলানো হয়নি। এ নিয়ে কিছু বলি নাই। কিন্তু আমি তো প্রোপার নম্বর নাইন। কিন্তু আমাকে যদি প্র্যাকটিসে নম্বর টেন, উইং- এমনসব বিভিন্ন পজিশনে প্র্যাকটিস করানো হলো, প্র্যাকটিসে একপ্রকার টর্চার করা হলো। সব পজিশনে প্র্যাকটিস করানো হয় কিন্তু নম্বর নাইনে প্র্যাকটিস করানো হলো না। পরে যখন এ নিয়ে অনেক কথা হলো, আলোচনা হলো- পরে ঠিক হয়ে যায়। আমি কিন্তু পুলিশ টিমে ঝামেলা করে দুইবার বাড়ি চলে গিয়েছিলাম।

প্রবা : আবাহনীতে মারুফুল হকের সঙ্গে প্র্যাকটিস কীভাবে করছেন, আর কী কথা হয়েছে?

আল আমিন : মারুফ স্যারকে বলেছি- আমি জানি না ম্যাচ টাইম পাব কি না। তবে স্যার আমাকে আস্বস্ত করেছেন। ভালো খেললে অবশ্যই সুযোগ পাব। আর স্যার আমাকে নম্বর নাইন হিসেবে প্র্যাকটিস করাচ্ছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা