প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৫ ২২:০৩ পিএম
মুখোমুখি দেখায় জয়ের ব্যবধানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশ (৯) থেকে এগিয়ে তারা (৬)। দুদলের সবশেষ টেস্টও হয়েছিল গলে, যেখানে জয় এসেছে স্বাগতিকদের। তবু শ্রীলঙ্কার মাটিতে নতুন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্র শুরু করে ভিন্ন বার্তা দিল বাংলাদেশ। গলে সিরিজের প্রথম টেস্টে পয়েন্ট ভাগাভাগির ম্যাচে ব্যাট-বলে দৃঢ়তা দেখিয়েছে সফরকারীরা। আত্মবিশ্বাস নিয়েই আগামী ২৫ জুন কলম্বোতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে শান্ত বাহিনী।
গতকাল কলম্বো পৌঁছেন নাজমুল-লিটন দাসরা। এদিন কোনো ক্রিকেটার অনুশীলন করেননি। ব্যক্তি উদ্যোগে ঘুরে বেড়িয়েছেন অনেকে। কয়েকজনের সঙ্গে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরাও। ছুটি কাটিয়ে আজ অনুশীলনে নামবেন ক্রিকেটাররা। কলম্বো টেস্টে ফেরার অপেক্ষায় মেহেদী হাসান মিরাজ। ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ফিরলে সফরকারী দল হয়ে উঠবে আরও দুর্ভেদ্য। তারকা অলরাউন্ডারের ফেরার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী অধিনায়ক। বলেছেন, ‘গল টেস্টের ফল আত্মবিশ্বাস দেবে। মেহেদী হাসান মিরাজ পুরোপুরি সুস্থ। আশা করি পরের ম্যাচে খেলতে পারবে।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় চক্রে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১২ ম্যাচের বিপরীতে আটটিতেই হেরেছেন শান্তরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে শান মাসুদদের সিরিজ (২ টেস্ট) হারানো ছাড়া বাকি দলগুলোর বিপক্ষে ঘরে-বাইরে সুবিধা করতে পারেননি তারা। তবে নতুন চক্রের প্রথম ম্যাচেই যেন নতুন উদ্যমে জেগে উঠল তারা। গলে শান্তর জোড়া সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৪৯৫ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৫ (ডিক্লেয়ার) রান তোলে বাংলাদেশ। বৃষ্টি বাধায় ওভার কমে আসা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হয় ড্র।
ম্যাচটি মুশফিকুর রহিম, নাঈম হাসান, লিটনের জন্য বিশেষ। একটু বেশি বিশেষ শান্তর জন্য। প্রথম ইনিংসে তার ১৪৮ রানের ইনিংসটি ছিল স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে। টপঅর্ডার যখন ভেঙে টুকরো, অভিজ্ঞ মুশফিকুরের বলিষ্ঠ হাত ধরে দলকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছেন তিনি। দুজন রেকর্ড জুটি গড়েন। দ্বিতীয় ইনিংসে অর্ধশতকের এক রান আগে আউট হওয়া মুশফিক নিজেও প্রথম ইনিংসে দেড়শোর্ধ্ব রান তোলেন। এই টেস্ট দিয়ে অস্তিত্বের জানান দেন শান্তরা।
গল টেস্টের আগে নানা ইস্যুতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলেন শান্ত। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ড্র, তার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিপক্ষে হার নিয়েও কথা কম হয়নি। এসব একটু দূরে ঠেলে দিলেন। একটু ধারাবাহিক হলে বা দু-তিনটি ভালো ইনিংস খেললে, তাকে নিয়ে হয়তো ট্রল হবে না। যেমনটি গতকাল মিরপুরে বলেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন।
অধিনায়ক হিসেবে জোড়া সেঞ্চুরি, ব্যাটার হিসেবে দুই টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি, মুশফিকের সঙ্গে জুটির রেকর্ডÑ এতসব ভালোর মাঝেও কথা হচ্ছে শান্ত-মুশফিককে নিয়ে। চায়ের টেবিলে আলোচনা, গলে মুশফিক ও শান্ত ব্যক্তিগত মাইলফলকের জন্য খেলেছেন! দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিক হাফ সেঞ্চুরি ছুঁতে গিয়ে রানআউট হয়েছেন। শান্ত নিজের সেঞ্চুরির জন্য খেলতে গিয়ে পরে করলেন স্লো ব্যাটিং। বৃষ্টির কারণে এমনিতেই সময় কমে যায়। বৃষ্টি কমার পরও অধিনায়ক ইনিংস ঘোষণা করেননি; যা ছিল বিস্ময়কর। শান্ত ১৯০ বল খেলে সেঞ্চুরি তুলেন। পরের ৯ বলে করেন ২৫! অথচ এই ব্যাটিংটাই মুশফিক ও শান্ত সকালে করতে পারলে অনায়াসেই আগে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠানো যেত।
বিষয়টি নিয়ে অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন শান্ত। ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন, বৃষ্টি বাগড়া না দিলে আরও আগেই তিনি ইনিংস ঘোষণা করতেন। তবে এটা ঠিক যে, বাংলাদেশ অধিনায়ক সমালোচনা মোটেও পাত্তা দেন না। যেমনটা বলেছিলেন, সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শান্ত নিজেও বলেছেন, ‘কে আমাকে নিয়ে ভালো বলল, কে খারাপ, সেদিকে মনোযোগ দিই না। আমি কেবল ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবি।’
টুকটাক ভুল থাকলেও গলে শান্ত এবং তার দল এক নতুন বার্তা দিয়েছেন— এই বাংলাদেশ সহজে হার মানবে না। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্রে যদি ধারাবাহিকতা রাখা যায়, তাহলে লাল-সবুজ দলের সামনে খুলে যেতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।