সিলেট টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৫ ২১:০৫ পিএম
টেস্ট ক্যারিয়ারে ১১তম বার ৫ উইকেট শিকার করেন অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ; ছবি- ইএসপিএন ক্রিকইনফো
প্রথম দিনটা যদি হয় জিম্বাবুয়ের, তাহলে দ্বিতীয় দিনটা নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের। সিলেট টেস্টে সফরকারীদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নাজমুল হোসেন শান্তরা প্রথম দিন গুটিয়ে গিয়েছিল ২০০-এর নিচেই। এরপর দিনের শেষবেলায় জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনারকে কোনো পরীক্ষাতেই ফেলতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। দ্বিতীয় দিনে মেহেদি হাসান মিরাজ, নাহিদ রানারা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও জিম্বাবুয়ের লিড আটকানো যায়নি। প্রথম ইনিংসে বাজে ব্যাটিংয়ের মাশুল দিতে হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দিন শেষে এখনও পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা।
সোমবার (২১ এপ্রিল) বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা জিম্বাবুয়ে
অলআউট হয় ২৭৩ রানে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ১৯১ রানে গুঁটিয়ে যাওয়ায় ৮২ রানের
লিড পায় ক্রেইগ আরভিনের দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে সাদমান ইসলামকে দ্রুত হারালেও
মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক আর ক্ষতি হতে দেননি। ১৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ১
উইকেটে ৫৭। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে এখনও সফরকারীদের চেয়ে ২৫ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। মাহমুদুল
২৮ ও মুমিনুল ১৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করবেন।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষবেলায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে
নেমে চতুর্থ ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওপেনার সাদমান ইসলাম ১০ বলে ৪ রান করে জিম্বাবুয়ের
পেসার ব্লেসিং মুজারাবানির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে দ্বিতীয় স্লিপে শন উইলিয়ামসের হাতে
ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে বেশ ভাগ্যবান বলা যেতে পারে আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান
জয়কে। সেই মুজারাবানির লাফিয়ে ওঠা বল উইকেটকিপার নিয়াশা মায়াভো গ্লাভসবন্দি করতে না
পারায় কিছুটা স্বস্তি নিয়ে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা।
এর আগে দিনের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের ইনিংসে ঝড় তোলেন টাইগার গতি তারকা
নাহিদ রানা। তার গতিতে খাবি খেয়ে প্রথম সেশনেই চার উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে, যার তিনটিই
তুলে নিয়েছেন তিনি। দিনের তৃতীয় ওভারে নাহিদের বাউন্সে শর্ট লেগে মুমিনুল হকের হাতে
ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৫৫ বলে ১৮ রান করা বেন কারেন। আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেটের ব্যাট
থেকে আসে ৬৪ বলে ১০টি বাউন্ডারিসহ ৫৭ রান। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক
ক্রেইগ আরভিনকে ৮ রানে উইকেটরক্ষক জাকের আলীর ক্যাচে বিদায় করেন নাহিদ।
তবে একপ্রান্ত আগলে ধরে দলকে টেনে নিয়ে যান শন উইলিয়ামস। পঞ্চম উইকেটে
ওয়েসলি ম্যাধেভেরেকে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি গড়ে। ২৪ রান করা ম্যাধেভেরেকে বোল্ড করে এই
জুটি ভাঙেন পেসার খালেদ আহমেদ। আঠার মতো উইকেটে টিকে থাকা উইলিয়ামস তার ক্যারিয়ারের
চতুর্থ ফিফটি পূর্ণ করেন। ১০৮ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত তাকে আউট করেন স্পিনার
মেহেদি হাসান মিরাজ। লোয়ার মিডলঅর্ডারে নায়াশা মায়াভো ৩৫, রিচার্ড এনগারাভা ৪৪ বলে
অপরাজিত ২৮ এবং ব্লেসিং মুজারাবানি ১৬ বলে ১৭ রান করে জিম্বাবুয়ের লিড ৮৭ পর্যন্ত টেনে
নিয়ে যান।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ১১তম বার ৫ উইকেট শিকার করেন অফস্পিনার মিরাজ। এই
কীর্তি গড়ে টাইগার অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, ম্যাচটা বাংলাদেশের পক্ষে জেতা সম্ভব। এ জন্য
দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫০ থেকে ৪০০ রানের স্কোর গড়তে হবে তাদের। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে
বাংলাদেশ দলের সহঅধিনায়ক বলেছেন, ‘প্রথমে আমাদের লিডটা পার করতে হবে। আমাদের প্রথম
লক্ষ্য থাকবে লিড যেন পার করতে পারি। তারপর ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে যেন একটা স্কোর
করতে পারি।’
মিরাজ বলেছেন, উইকেট এখনও ব্যাটিং সহায়ক, ভালো ব্যাটিং করলেই ভালো
স্কোর সম্ভব, ‘এখন যে উইকেট আছে, আমার মনে হয়, আমরা যদি ভালোভাবে ব্যাটিং করতে পারি,
ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করব, ৩৫০ থেকে যদি ৪০০ রান করতে পারি, এটা আমাদের দলের জন্য
অনেক ভালো হবে।’
মিরাজের কথায় ৩০০ থেকে ৩৫০ রান জিম্বাবুয়েকে লক্ষ্য দিতে পারলে সিলেট
টেস্টে জিততে পারে বাংলাদেশ, ‘আর টেস্ট ক্রিকেটে যদি ৩০০ রান লক্ষ্য দেওয়া হয়, চতুর্থ
ইনিংসে এটা প্রতিপক্ষের জন্য অনেক কঠিন। কারণ উইকেটে অনেক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এটা
আমাদের ব্যাটারদের ওই দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে।’
চিন্তার ব্যাপার, সিলেটের মাঠে টেস্টে ৪০০ দূরে, ৩৫০ রানও করতে পারেনি
বাংলাদেশ। এ পর্যন্ত ইনিংস ব্যাটিং করে ৫ বারই অলআউট হয়েছে ২০০ রানের আগে। সর্বোচ্চ
স্কোর ৩৩৮ ও ৩১০ রানÑ ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিল তারা। মিরাজরা আসলে
দায়িত্ব নিয়ে কতটা ভালো ব্যাটিং করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
সংক্ষিপ্ত স্কোরবাংলাদেশ : ১৯১ ও ১৩ ওভারে ৫৭/১ (সাদমান ৪, জয় ২৮*, মুমিনুল ১৫*; মুজারাবানি ১/২১) নিয়াউচি ০/১১, এনগারাভা ০/২০)জিম্বাবুয়ে : ১ম ইনিংসে ৮০.২ ওভারে ২৭৩ (উইলিয়ামস ৫৯, বেনেট ৫৭, মায়াভো ৩৫; মিরাজ ৫/৫২, নাহিদ ৩/৭৪)