রুবেল রেহান, শিলং থেকে
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৫ ২১:৪৭ পিএম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৫ ২৩:৩২ পিএম
ছবি : আ. ই. আলীম, শিলং থেকে
বাংলাদেশ-ভারত আগুনে লড়াই পাশে রেখে এই ম্যাচটি ছিল হামজা চৌধুরী বনাম সুনীল ছেত্রির ম্যাচ। দ্বৈত লড়াইয়ে নিশ্চিতভাবে ছেত্রির চেয়ে এগিয়ে গেছেন হামজা। ভারতের কিংবদন্তি ফুটবলার বদলি হিসেবে উঠে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে খোলসে বন্দি রাখে বাংলাদেশ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা বাংলাদেশি তারকা খেললেন নিজের সহজাত খেলা। কিন্তু দেশের ফুটবলের পুরনো রোগ থেকে এদিনও সেড়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। গোল মিসের মহড়াই করে করে গেল প্রায় পুরোটা ম্যাচে। তাতে হামজার অভিষেক ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরল বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার ভারতের মেঘালয়ের জওহর লাল নেহেরু স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূণ্য ড্র করে বাংলাদেশ। এ নিয়ে ভারতের মাটি থেকে সর্বশেষ টানা তিন ম্যাচে ড্র নিয়ে ফিরল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। দুই দলের মধ্যকার ফিরতি লেগ মাঠে গড়াবে আগামী ১৮ নভেম্বর। এর আগেই অবশ্য ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হোম ম্যাচে মাঠে নামবে হাভিয়ের কাবরেরার দল।
মঙ্গলবার বাংলাদেশে-ভারতের ম্যাচ উপভোগ করতে মাঠে আসেন প্রায় ১৫ হাজার দর্শক। ম্যাচের আগে প্লেয়ার লিস্টে হামজার নাম বলার পর পুরো স্টেডিয়াম করতালি দিয়ে হামজাকে স্বাগত জানায়। ম্যাচ শুরুর পর দৃশ্যপট যায় বদলে। হামজা বলে স্পর্শ করে খেলা শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। ১১ মিনিটে বাংলাদেশ পায় কর্নার। সেটি নিতে এগিয়ে আসেন হামজা। সেসময় তাকে দুয়ো দেন ভারতের সমর্থকেরা। তবে প্রিমিয়ার লিগ তারকাকে এসবে আটকে রাখা যায়নি। খেলেছেন নিজের খেলাটাই। কিন্তু শাহরিয়ার ইমন, মোহাম্মদ হৃদয়, মজিবর রহমান জনিরা করেছেন একের পর এক ভুল। শুরুর একাদশে জায়গা পেয়ে প্রত্যাশা পুরণ করতে পারেননি শেখ মোরছালিন। রাকিবের পায়ে গতি থাকলেও কার্যকরী মুহূর্তে গোলমেলে করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
বাংলাদেশের অদিনায়ক জামালকে ছাড়া একাদশ সাজান কাবরেরা। শেষ দিকে একাধিক পরিবর্তন করলেও মাঠে নামা হয়নি জামালের। তবে রক্ষণের ভার ভালোভাবেই সামলেছে তারিক কাজী, সাদ উদ্দিনরা। কিন্তু রক্ষণ সামলানো গেলেও গোলক্ষরা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেনি কাবরেরার শিষ্যরা। ম্যাচে বিশেষ করে প্রথমার্ধে প্রতাপ খাটিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে জামাল, মোরছালিনদের।
ম্যাচ শুরুর বাশি বাজার পর শাহরিয়ার ইমনের পা ঘুরে বলে দ্বিতীয় স্পর্শটি হামজার। লং বল উড়িয়ে মারেন জনির কাছে। অপ্রস্তুত থাকা জনির শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে বসেন ভারতের গোররক্ষক ভিশাল। দ্বিতীয় চেষ্টায় দুরুহ কোন থেকে জালের বাইরে কাঁপিয়েছেন কিংসের এই মিডফিল্ডার। সহজ সুযোগ মিস বাংলাদেশের। নবম মিনিটে রাকিবের পাস থেকে গোলে হেড নেন ইমন। কিন্তু সেটি যায় গোলবারের বা্ম পাস ঘেষে।
১১ মিনিটে কর্ণার কিক নেন হামজা। ম্যাচেরই এটি প্রথম কর্ণার। হামজার কর্নার গ্লাভসে নেওয়ার পর ভিশালের কল্যাণে সুযোগ আসে আবারও। তার গোল কিক শাকিল আহাদ তপুর পিঠে লেগে বল চলে যায় বক্সের ভেতরে থাকা হৃদয়ের পায়ে। এই মিডফিল্ডারের শট গোল লাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ভারতের ডিফেন্ডার শুভাশিষ বসু।
১৮ মিনিটে ইমনের হেড যায় গোলবারের পাস দিয়ে। হামজারর কর্ণার থেকে মোরছালিরে উড়িযে মারা বলে হেড নেন ইমন। হেড পোস্টে রাখতে পারলে নিশ্চিত গোল পেত বাংলাদেশ। ম্যাচের ২০ মিনিটে হ্যামস্ট্রিং চোটে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার তপু। তার পরিবর্তে নামেন রহমত মিয়। ২৩ মিনিটে হৃদয়ের হেডে গোল হজম করতে বসেছিল বাংলাদেশ। ভারতের ফ্রি কিক ক্লিয়ার কর গিয়ে হেড নেন, কিন্তু সেটি যায় গোলবারের সামান্য উপর দিয়ে।
২৬ মিনিটে ইমনের কাছ থেকে বল নিয়ে আক্রমণে উঠেন রাকিব। কিন্তু তার আক্রমণ কর্ণারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন ভারতের ডিফ্ডোর রাহুল। হামজার কর্ণার কিক থেকে বিপদে ফেলা যায়নি ভারতকে। ২৮ মিনিটে ভারতের লিস্টন কোলাসোর দুবল শট সহজেই ধরে ফেফলেন মিতুল। তিন মিনিট পর মিতুলের পরীক্ষা নেয় ভারত। বাম দিক থেকে লিস্টনের ক্রসে উদান্তা সিংয়ের হেড গোল লাইন থেকে ফেরান ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপু, এরপর ছোট বক্সের ভেতর থেকে ফারুক চৌধুরীর ফিরতি শট ঝাঁপিয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় আটকে কঠিন পরীক্ষায় উতরে যান মিতুল।
৩৭ মিনিটে ভাল সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। মাঝ মাঠে বল পেয়ে একাই আক্রমণে ওঠেন বাংলাদেশি ফরোয়ার্ড রাকিব। বক্সের বা কোন থেকে তার নেওয়া বা পায়ের শট লাফিয়ে আটকে দেন ভারতের গোলরক্ষক ভিশাল। ৪১ মিনিটে সহজেই গোল পেতে পারত বাংলাদেশ। বক্সে বল নিয়ে যখন জনি ঢুকলেন তার সামনে কেবলই ভারতের গোলরক্ষক। কিন্তু ওয়ান ওয়ান চান্সে ভিশালের সামনে গিয়ে শট নিতে তালগোল পাকিয়ে ফেললেন বসুন্ধরা কিংসের এই মিডফিল্ডার।
৪৮ মিনিটে রহমত মিয়িার কাছ থেকে বল কেড়ে নেন ভারতের লিসটন। তবে আক্রমণ নিয়ে তাকে তাকে বক্সের কাছেই যেতে দেননি হামজা। ৫১ মিনিটে রাকিবের জোরালো শট কাপায় বক্সের ডান পাস। ৫৩ মিনিটে কর্নারের কাছ থেকে লিস্টনের উড়িয়ে মারা বলে মাথা ছোয়াতে পারেননি ছেত্রি। একটু পর দারুণ ট্যাকেলে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন হামজা। এই সময় বাংলাদেশকে ভালোই চেপে ধরে ভারত। তিন মিনিট পর রাকিবের সেভে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
৬১ মিনিটে আবার জনি! বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারলেন না তিনি। এর খানিকবাদে জনি ও ইমনকে তুলে নেন কোচ। বদলি হিসেবে নামেন চন্দর রয় ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। ৭২ মিনিটে পড়ে গিয়ে ছেত্রির পায়ে বল তুলে দেন বাংলাদেশের হৃদয়। তার এমন ভুলে একটুর জন্য গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। ছেত্রির শট ডান দিকে লাফিয়ে কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন মিতুল। ৮৪ মিনিটে ছেত্রির দুর্বল হেড যায় বক্সের ডানপাস ঘেষে। ম্যাচের এক মিনিট আগে বাংলাদেশকে গোলবঞ্চিত রাখেন ভারতের গোলরক্ষক ভিশাল।