উয়েফা নেশন্স লিগ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৫ ১১:৪৭ এএম
আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৫ ১১:৫৭ এএম
৫-৪ ব্যবধানে জিতে উয়েফা নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠে গেল জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল
নিজেদের আঙিনায় শুরুটা স্বপ্নের মতো ছিল জার্মানদের। ডর্টমুন্ডে প্রথমার্ধে ইতালির জালে তিনবার বল জড়ান স্বাগতিকরা। অথচ দ্বিতীয়ার্ধে রক্তের নেশায় পেয়ে বসে লুসিয়ানো স্পালেত্তির শিষ্যদের। শেষ অর্ধে মরণ-জিয়ন খেলায় উত্তাল সমুদ্রে জাহাজ ভেড়ান তারা। তাতে অবশ্য সান্ত্বনা ৩-৩ ড্র। কিন্তু দুই লেগ মিলিয়ে ফল যায় ইতালির বিপক্ষে। ৫-৪ ব্যবধানে জিতে উয়েফা নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠে গেল জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল।
একই রাতে ভিন্ন ম্যাচে জয় তুলে নেশন্স কাপের সেমিতে উঠেছে ফ্রান্স-পর্তুগাল ও স্পেন। ক্রোয়েশিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়েছে ফরাসিরা। কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে ৩-৩, দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৫ ড্র হয়। পরে পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসকে ৫-৪ গোল হারিয়েছে স্পেন। আর পর্তুগিজদের শেষ চার নিশ্চিত হয়েছে ডেনমার্ককে হারিয়ে। প্রথম লেগে ১-০ গোলে হারের পর ফিরতি লেগে ৫-২ গোলে জিতেছে তারা। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ অগ্রগামিতায় পরের ধাপে পা রাখল প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
ডর্টমুন্ডে এদিন ম্যাচের একেবারে প্রথম মিনিট থেকে আক্রমণ শানায় জার্মান। ঘর সামলে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে ইতালি। আক্রমণ এতই ক্ষুরধার ছিল যে প্রথমার্ধে ৩ গোল হজম করে অতিথিরা। প্রথম গোলের দেখা মেলে ম্যাচঘড়ির ৩০তম মিনিটে। ইতালির মাঠে দলকে সমতায় ফেরানো টিম ক্লাইনডিন্সট ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন জসুয়া কিমিখ। ৬ মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ান জামাল মুসিয়ালা; ডি-বক্সের মধ্যে ডান পায়ের শটে গোলটি করেন বায়ার্ন মিউনিখ মিডফিল্ডার। আর ৪৫তম মিনিটে শেষ চারের টিকিট প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় জার্মানদের। কিমিখের ক্রসে কাছ থেকে হেডে গোলটি করেন বায়ার্ন মনশেনগ্লাডবাখের ফরোয়ার্ড ক্লাইনডিন্সট। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-১।
দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ১টি গোল শোধ করেন মোইজে কিন। ৬৯তম মিনিটে ব্যবধান আরেকটু কমান ফিওরেন্তিনার তরুণ এ ফরোয়ার্ড। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আরেকটি গোল শোধ করে আশা জাগানো রাসপাদোরি। এর পরই বেশ কিছুক্ষণ খেলা চলে, উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। কিন্তু আরেকবার জালে বল আর পাঠাতে পারেনি ইতালি।
গতকাল ফিরতে লিগে জয় তুলেছে এবং ট্রাইব্রেকারে ক্রোয়েশ্চিয়াকে হারিয়েছে ফ্রান্স। প্রথম লেগে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল ফরাসিরা। ফিরতি লিগে ঘরের মাঠে আক্রমণের বন্যা বইয়ে দিয়ে ৯০ মিনিটে ২-০ গোলে জিতে শেষ চার নিশ্চিত করে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দলকে এগিয়ে নেন মাইকেল ওলিসে। আর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। ক্লাব ফুটবলের মতো দেশের জার্সিতে সবটুকু উজাড় করে দিচ্ছেন দেম্বেলে।
২-২ ব্যবধানে শেষ হওয়া ম্যাচ গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। প্রথম তিন শটের দুটিতেই গোল করতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। পরের তিন শটে জালের দেখা পান মারিও পাসালিচ, ক্রিস্তিয়ান ইয়াকিচ ও দুয়ে চালাতা সার। সাডেন ডেথে স্তানিসিচের শট ঠেকিয়ে দেন মিয়াঁ।
ফ্রান্সের প্রথম দুটি শট নেন এমবাপে ও চুয়ামেনি, এ দুটি শটে হাত লাগালেও জালে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি লিভাকোভিচ। জুল কুন্দে মারেন বাইরে। রান্দাল কোলো মুয়ানি গোল করলে জয়ের দুয়ারে পৌঁছে যায় ফ্রান্স। কিন্তু সে যাত্রায় সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি এরনঁদেজ। দুয়ে নিজের শটে জাল খুঁজে নিতে না পারলে হেরেই যেত ফ্রান্স। তবে ঠান্ডা মাথায় কাজ সারেন তিনি। আর নিজের শটে দলকে শেষ চারে নিয়ে যান উপেমেকানো।
ফ্রান্স-ক্রোয়েশ্চিয়া ম্যাচের মতো স্পেন-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। ৯০ মিনিটে দুইবার, অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে তিনবার স্পেন এগিয়ে গেলেও প্রতিবার সমতা ফেরায় ডাচরা। তবে টাইব্রেকারে আর পেরে ওঠেনি তারা। ভালেন্সিয়ায় গতকাল রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৩-৩, দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৫ ড্র হয়। পরে পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৪ গোলের জয় পায় স্পেন। মূল ম্যাচে স্পেনের হয়ে জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল, একটি করেন লামিনে ইয়ামাল। নেদারল্যান্ডসের হয়ে একবার করে জালের দেখা পান মেমফিস ডিপাই, ইয়ান মাটসেন ও শাভি সিমন্স।
লিসবিনে গতকাল রাত ছিল কেবল পুর্তগিজদের। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি মিস ছাড়া পুরো সময়টা উপভোগ করেছে স্বাগতিকরা। প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে ১-০ গোলে হারের পর ফিরতি লেগে ৫-২ ব্যবধানে জিতেছে পর্তুগাল। পুর্তগিজদের হয়ে গোল করেন আন্ডেরসেন, রোনালদো , ট্রিনাকো ও রামোস। ডেনমার্কের হয়ে ক্রিস্টেনসেন ও এরিকসন।