ডিপিএল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৫ ০৭:২৭ এএম
সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত; ছবি: আ. ই. আলীম
লম্বা সময় ধরে রানখরায় ভুগছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। জাতীয় দলের অধিনায়কের ব্যাটিং নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও (ডিপিএল) হাসছিল না তার ব্যাট। শান্ত এসবে কর্ণপাত করেননি, নীরব থেকেছেন। কিন্তু দলের প্রয়োজনের সময়ে ঠিকই জ্বলে উঠেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ডিপিএলের ষষ্ঠ রাউন্ডে বাঁহাতি এই ব্যাটার পেয়েছেন ম্যাজিক্যাল তিন অঙ্কের দেখা। অসাধারণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়া ওপেনার এনামুল হক বিজয়ও। বড় সংগ্রহের দিনে রান খরচের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েছেন তাসকিন আহমেদ। অভিজ্ঞ এই পেসার ডিপিএলে তো বটেই, দেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেই সবচেয়ে খরুচে বোলিংয়ের বিব্রতকর রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন।
শান্তর সেঞ্চুরিতে শীর্ষেই রইল আবাহনী
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। টস হেরে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৯২ রান তোলে রূপগঞ্জ। জবাবে শান্তর সেঞ্চুরিতে ৮ বল বাকি থাকতেই জয় পেয়েছে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। হার দিয়ে মৌসুম শুরু করা আবাহনীর এটি টানা পঞ্চম জয়। ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শান্ত ব্রিগেড। সমান ৩টি করে জয়-পরাজয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে রুপগঞ্জ।
রূপগঞ্জের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন ওপেনার সাইফ হাসান। অবশ্য সেজন্য খেলেন ১০৩ বল, বাউন্ডারি মারেন ৮টি। ৫৪ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫৮ রান করেন মাহমুদুল হাসান জয়। আবাহনীর হয়ে দুইটি করে উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
রান তাড়ায় তিনে নেমে ১০১ রান করেন ম্যাচসেরা শান্ত। আবাহনীর অধিনায়কের ১০৮ বলের ইনিংসে ছিল ১২ চার ও ২ ছক্কার মার। জিসান আলম ৪৬, মোহাম্মদ মিথুন ৩৪, সৈকত ১৯, মেহরাব হোসেন ১৮ আউট হলেও মুমিনুল হক (৩৫*), মাহফুজুর রহমান রাব্বির (৩১*) ব্যাটে ৮ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় আবাহনী।
তামিমদের হারিয়ে দুইয়ে গাজী
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে তামিম ইকবালের মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৬৫ রানে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। টস হেরে আগে ব্যাট করে গাজী গ্রুপ তুলেছিল ৫ উইকেটে ৩৩৬ রান। ওপেনিংয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১৪৩ বলে ১২টি চার ও ৪ ছক্কায় ১৪৯ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন গাজীর অধিনায়ক বিজয়। ফিফটি করেছেন তোফায়েল আহমেদ (৬৩) ও সাদিকুর রহমান (৬০)।
বাবে রনি তালুকদার ৭৪, তামিম ৪৮ ও মুশফিক ৪৯ রান করলেও হার এড়াতে পারেনি মোহামেডান। লক্ষ্য তাড়ায় ৪৮.১ ওভারেই ২৭১ রানে গুঁটিয়ে যায় সাদা কালো শিবির। ৬ ম্যাচে পঞ্চম জয়ে আবাহনীর সমান ১০ পয়েন্ট নিয়েও নেট রানরেটে পিছিয়ে থাকায় দুইয়ে আছে গাজী গ্রুপ। সমান ম্যাচে ৪ জয় ও ২ হারে তিনে মোহামেডান।
এদিন মোহামেডানের হয়ে ৩ উইকেট শিকার করলেও ১০ ওভারে ১০৭ রান দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। যা গত বছরের লিগে স্বীকৃত ক্রিকেটে নিজের অভিষেক ম্যাচে ৯ ওভারে ১০৪ রান দিয়েছিলেন গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমির হয়ে খেলতে নামা ইকবাল। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’দলের বিপক্ষে শাহাদাত ১০ ওভারে খরচ করেছিলেন ১০৪ রান।
জয়ে ফিরল প্রাইম ব্যাংক
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের ৫৫ রানে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে চার ফিফটিতে ভর করে প্রাইম ব্যাংক তোলে ৫ উইকেটে ৩০৮ রানের বিশাল পুঁজি। জবাবে ধানমন্ডির পুরো ইনিংস থেমেছে ১ বল আগেই ২৭১ রানে। দুই দলেরই এখন ৬ ম্যাচে সমান ৩টি করে জয় হার। অবশ্য নেট রানরেটে এগিয়ে ছয়ে প্রাইম ব্যাংক, আর আট নম্বরে ধানমন্ডি।
ওপেনিংয়ে নেমে এদিন ঝড় তুলেছেন নাঈম শেখ। ফর্মে থাকা নাঈম ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে প্রথম ওভারেই তুলে ফেলেন ২৬ রান। ওপেনিং জুটি থেকে এসেছে ৬০ রান। ১৮ বলে ৩৭ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে বিদায় নেন নাঈম শেখ। এরপর সাব্বির হোসেনের সাথে এগিয়েছেন জাকির হাসান। নাঈমের বিদায়ের পর কমে আসে প্রাইম ব্যাংকের রানের গতি। সাব্বির এগিয়েছেন দেখেশুনে। সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন জাকিরও। দুজনই ছুঁয়েছেন ফিফটি। ৭০ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলে দলের ১১৯ রানের মাথাতে বিদায় নেন সাব্বির।
জাকির আরও কিছুক্ষণ টিকে ছিলেন। চারে নেমে সুবিধা করতে পারেননি শাহাদাত হোসেন দিপু। ২৬ বলে ১৪ রান করে বিদায় নেন তিনি। জাকির খেলেন ৮৬ বলে ৬৪ রানের ইনিংস। শেষ দিকে ক্রিজে নেমে ঝড় তোলেন ইরফান শুক্কুর। ৫২ বলে ৫৬ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলেন তিনিউ। আরও বেশি ঝড়ো ব্যাটিং চালিয়েছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। মাত্র ৩৭ বলে ৬২ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ দিকে ইরফান এবং শামীমের অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে আসে ৯৬ রান, মাত্র ৬২ বলে। ধানমন্ডির হয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন মইন খান। ১টি করে উইকেট তুলেছেন কামরুল ইসলাম রাব্বি এবং হাসান মুরাদ।
জবাব দিতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো হয়নি ধানমন্ডির। ৮ বলে ৪ রান করে দলীয় ১০ রানের মাথাতে সাজঘরে ফিরে যান হাবিবুর রহমান। আরেক ওপেনার জাকিরুল আহমেদও সুবিধা করতে পারেননি। ২৭ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপর ফজলে মাহমুদ রাব্বি এবং ইয়াসির আলী চৌধুরী ভালো একটি জুটি গড়েন। ফিফটির পথেই ছিলেন ইয়াসির। তবে থেমেছেন ফিফটির আগেই। ৫৬ বলে ৪৬ রান করে দলের ১২৫ রানের মাথায় আউট হন ইয়াসির।
সুবিধা করতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান। ৮ বলে ৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। এছাড়া মইন করেছেন ১৩ বলে ৭ রান। টপাটপ উইকেট হারাতেই থাকে ধানমন্ডি। ম্যাচটাও হাতছাড়া হয়ে যেতে থাকে। রাব্বি ফিফটি হাঁকিয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাতে দলের হারের ব্যবধানটাই কমেছে শুধু। আসেনি জয়। ১০৪ বলে ৭৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে আউট হয়েছেন রাব্বি। বাকিদের মধ্যে ২৩ বলে ১৭ রানের ইনিংস খেলেছেন জিয়াউর রহমান। এছাড়া ৩০ বলে ৩৭ রানের ক্যামিও ইনিংসে লড়াইয়ের ঝলক দেখিয়েছেন সানজামুল ইসলাম। তবে সবই বৃথা হয়েছে প্রাইম ব্যাংকের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যের সামনে।
৪৯.৫ ওভার শেষে ২৫৩ রান করে অলআউট হয়ে যায় ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব। প্রাইম ব্যাংক তুলে নেয় ৫৫ রানের সহজ জয়। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন হাসান মাহমুদ এবং আরাফাত সানি। ২ উইকেট নেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। ১টি করে উইকেট শিকার করেন শাহাদাত হোসেন দিপু এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন।