প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৫ ২০:৫৫ পিএম
ফুটবলটা ছোটবেলা থেকেই পছন্দ, ইংল্যান্ডে বড় হওয়ার কারণে শুরুটা ইংলিশ ফুটবলেই, বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলেছেন ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলে। এরপর প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটিতে অভিষেক, ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন এফএ কাপ শিরোপা। বর্তমানে ধারে আছেন ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে। বলছি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা দেওয়ান চৌধুরীর কথা। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এখন নিজের বাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জে। বলেছেন নতুন স্বপ্নের কথাও। বাংলাদেশকে এশিয়া কাপের মূলপর্বে নেওয়ার টার্গেট করেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম আলোচিত ডিফেন্ডার হামজা।
আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট বিমানবন্দরে নামেন হামজা। সেখানে বাফুফে (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন) এবং সমর্থকদের থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ার পর পুরো দিনই ছিলেন নিজের পৈত্রিক ভিটা হবিগঞ্জে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেছেন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ। দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন মন খুলে, জানিয়েছেন বাংলাদেশে আসার গল্প। প্রায় পুরোটা অংশ কথা বলেছেন সিলেটের স্থানীয় ভাষায়।
হামজাকে পাওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রথম প্রশ্নটা ছিল এ-রকম- কখনও কল্পনা করেছেন আপনাকে দেখতে এবং আপনার বাড়িতে এত মানুষ হবে? হামজার উত্তর- ‘জী বহুত ভালো লেগেছে। আমি কল্পনাও করিনি এত মানুষ আসবে।’ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার পর হামজা পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি ফুটবল সমর্থক থেকে শুরু করে সবাইকে জানিয়েছে শুভেচ্ছা। হামজা বাংলাদেশে এসেছেন স্ত্রী অলিভিয়া, দুই পুত্র এবং এক কন্যা সন্তান সঙ্গে করে। তার আসার বেশ কিছুদিন আগেই অবশ্য দেশে এসেছেন বাবা মোরশেদ দেওয়ান চৌধুরী।
হামজা এর আগে বাংলাদেশে একাধিকবার এলেও ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া তার স্ত্রী অলিভিয়া এবারই প্রথম এসেছেন হামজার সঙ্গে। হামজাকে দেখতে এত মানুষের ভিড়ে তিনি বিস্মিত। তার পক্ষ থেকে হামজা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে মানুষের এই ভালোবাসা তার জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা। এএফসি বাছাইপর্বে আগামী ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বাংলাদেশের। সবকিছু ঠিক থাকলে ওই ম্যাচেই অভিষেক হবে হামজার। তার আগে তাকে নিয়ে এত মানুষের আগ্রহে তিনি চাপ অনুভব করছেন কি না জানতে চাইলে হামজা বলেন, ‘Ñকোনো চাপ নেই। মানুষ এখানে এসেছে, তারা আমাকে ভালোবাসা দিচ্ছে এতে কোনো চাপ অনুভব করছি না বরং এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।’ আর সেই অনুপ্রেরণা থেকে ভারত ম্যাচে গোল করে বাংলাদেশকে জেতাতে চান ৮ নম্বর জার্সি পরে খেলতে চাওয়া ২৭ বছর বয়সি এ ফুটবলার।

বাংলাদেশ যখন হামজাকে নিয়ে ভারতবধে পরিকল্পনা সাজায় ঠিক তখনিই ভারত ফিরিয়েছে তাদের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার সুনীল ছেত্রিকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেওয়া এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে অবশ্য চিন্তিত নয় হামজা, ‘আমরা ভারত নিয়ে ভাবছি না। আমরা খালি আমরার কতা কনসানট্রেট করছি। দেখা যাক কিতা হয়।’ ভারতের বিপক্ষে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘ভেরি কনফিডেন্স’। ভারত ম্যাচ ছাপিয়ে হামজার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশকে আপাতত কোথায় দেখতে চান? হামজার ভাষ্য, ‘এশিয়ান গেমস ২০২৬ এ বাংলাদেশ দলকে নিয়ে যেতে চাই।’
হামজাকে নিয়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের চাওয়া আরও বড় সেটি বলাই যায়। হামজাও চান বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলুক। এর মধ্যেই ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তার তুলনা নিয়ে বলেছেন, ‘না আমি চাই না তুলনা হোক। সাকিব আল হাসান বিশ্ব ক্রিকেটে অনেক বছর ধরেই খেলেছেন, তাকে সবাই চেনে, সে তারকা খেলোয়াড়।’ সাকিবের প্রতি বিনয়ী হামজা নিজের সতীর্থদের সঙ্গে দেখা করার জন্য মুখিয়ে আছেন। তাদের সঙ্গে নিজের স্থানীয় সিলেটি ভাষায় কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন, ‘ইনশাল্লাহ সিলেটি ভাষায় কথা বলব, আমার শুদ্ধ ভাষা ভালো লাগে না।’
প্রসঙ্গতই আসে ইংল্যান্ড ছেড়ে বাংলাদেশে খেলার বিষয়টি। এ-রকম একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন ছিল কি না জানতে চাইলে হামজার সরল স্বীকারোক্তি, ‘না আসলে টাফ ছিল না।’ কারণটা বোঝা যায় সংবাদ সম্মেলনের শেষে তার বাবার কথা থেকেই। বাবা মোরশেদ দেওয়ান চাইতেন হামজা বাংলাদেশের হয়ে খেলুক, কিন্তু নিজের স্বপ্ন বা ইচ্ছাটা কখনও ছেলের ওপর চাপিয়ে দেননি। তার ভাষ্য মতে, ‘অনেক দিন ধরে স্বপ্ন ছিল হামজা বাংলাদেশের হয়ে খেলবে। কিন্তু আমি তো তাকে বলতে পারি নাই, বাংলাদেশের মানুষ ওকে কতটা ভালোবাসে, এখন নিয়ে এসে দেখিয়েছি। তার কথা পত্রিকায় আসে নিউজে আসে, সেগুলো আমি তাকে বাংলায় পড়ে শুনিয়েছি। এক পর্যায়ে এসে সেও বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করে। আগামী ২৫ তারিখ ভারতের বিপক্ষে খেলা আছে, আশা করি ও ভালো খেলবে। বাংলাদেশ জিতবে।’