চ্যাম্পিয়নস ট্রফি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৫ ১০:৫৯ এএম
বেশ একটা লম্বা সময় ধরেই বৈশ্বিক ক্রিকটে আসরগুলোতে সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলোর অন্যতম ভারত ও নিউজিল্যান্ড। যদিও এই দুটো দলের অর্জনের পার্থক্যটিও কিন্তু চোখে পড়ার মত। আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোতে ফাইনালে নিয়মিত দল ভারত। তবে শিরোাপর লড়াইয়ে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলত দলটি। আর সেকারণে ফাইনালের চোকার্স এই অপবাদও জুটে গিয়েছির ভারতের। তবে ২০২৪ সালে সর্বশেষ টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে সেই দুর্ণাম ঘুঁচিয়েছে ভারত। আর নিউজিল্যান্ডকে মনে করা হয়, সেমিফইনালের দল। তবে মাঝে মধ্যে ফাইনাল খেলে। চলতি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে সময়ের দুই সেরা দল।আজ রবিবার দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে তাপ ছড়ানো এই ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায়।
আইসিসির বাকি সব ইভেন্টের নিউজিল্যান্ড আর চ্রাম্পিয়ন্স ট্রফির নিউজিল্যান্ড কিন্তু এক নয়। ২০০০ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় আসরে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল কিউইরা। বলা বাহুল্য এটাই কোন আইসিসি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তাদের একমাত্র শিরোপা। নিজেদের অর্জনকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য ২৫ বছর আগের সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে কিউইদের। আর এটা সম্বব করতে পারলে নতুন দিনের উৎসবের উপলক্ষ্য পেয়ে যাবে তারা। কেননা চ্যম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে দুবারের বেশি ট্রফি জয়ের রেকর্ড নাই কোন দলের। এই আসরে সর্ব্বোচ্চ দুবার করে শিরোপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। আজ ভারতকে হারাতে পারলে তৃতয়ি দল হিসাবে দ্বিতীয় বার ট্রফি জিতবে কিউইরা। বিপরীতে ইতিহাস গড়ার সামনে ভারত। আজ ফাইনালে জিতলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম দল হিসাবে তৃতীয়বার শিরোপা উৎসব করবে ভারত।
শিরোপার লড়াইয়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় কিউদের চেয়ে সুবিধাজনক জায়গায় আছে ভারত। গ্রপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪৪ রানের ব্যভধানে হারিয়েছে ভারত। সেই টাটকা জয়ের স্বাদ নিয়েই আজ ট্রফির মিশনে নামবে রোহিত শর্মার দল। ভারতের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক দিকটি হল পুরো আসরজুড়েই এক্ ভেন্যুতে খেলা। ফাইনালসহ রোহিতদের সবগুলো মাচের ভেন্যুই দুবাই। এক কিলোমাটারও ভ্রমন করতে হযনি তাদের। বিপরীতে ভেন্যু থেকে ভেন্যুতে উড়তে হয়েছে কিউইদের। করাচি, রাওয়ালপিন্ডি , দুবাই থেকে লাহোর হয়ে আবার ফাইনাল খেরতে দুবাই আসতে হয়েছে মিচেল স্যান্টনারের দল। এই আসরে প্রায় ৮ হাজার কি.মি. বিমান ভমন করতে হয়েছে তাদের। আর প্রতিটা ম্যাচেই হোটেল থেকে মাঠ এর বেশি ভ্রমেন করতে হয়নি ভারতকে। এনিয়ে সমালোচানও কম হয়নি। ভারতকে বেশি সুবিধা দেয়া হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড শিবির থেকেও উঠেছে এমন অভিযোগ। ভারতের জন্য আরেক প।লাস পয়েন্ট, দুবাইয়ের শ্লথ উইকেট। শতভাগ স্পিনিং ট্র্যাকের ফায়দা রুটছে ভারত। কুলদিপ যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল বরুণ চক্রবর্তী এই চার স্পিনার নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ছেন বিপক্ষ দলের ব্যাটারদের। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ উইকেটের ৯টিই শিকার করেন ভারতীয় স্পিনাররা।
ভারতের শক্তির জায়গাগুলো মেনে নেয়ার পরও হাল ছাড়তে নারাজ নিউজিল্যান্ড। ২৫ বছরের স্মৃতি ফেরাতে মরীয়া কিউরা। ২৫ বছর আগে নিউজিল্যান্ডের ওই ট্রফি জয়ের সময় বর্তমান দরটির ওপেনার উইল ইয়াংয়ের বয়স ছিল মোটে আট। টিভির সামনে বসে দেখেছিলেন অগ্রজদের শিরোপা উৎসব। আইসিসির ওয়েবসাইটে ইয়াং বলেছেন, ‘ সেই দলে অনবদ্য কিছু ক্রিকেটার ছিল। এখনকার দলে যারা রয়েছে, তারা ওদের দেখেই বেড়ে উঠেছে। ২৫ বছর আগের সেই দিনটা ফেরাতে পারলে খুব ভাল লাগবে। সেই সময় আমার আট বছর বয়স ছিল। তখন থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা শুরু। যোগ করেন, আগেও নিউজিল্যান্ড এই ট্রফি জিতেছে। উনারা ব্যাটনটা আমাদের দিয়ে দিয়েছেন।এখন সেটা স্পর্শ করা আমাদের দায়িত্ব।’
এদিকে শিরোপার বাইরে কিছুই ভাবছেন না ভারত অধিনায়ক রোহিত। ফাইনালকে সামনে রেখে বলেন, ‘আমাদের সামনে আরও একটি ফাইনাল। টানা তিন বছর আইসিসির তিনটি ফাইনাল খেলছি। ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলেও টি-টোয়েন্টির শিরোপা জিতেছি। এবার লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা।’
শিরোপার লড়াইয়ের আগে পরিসংখ্যানের পাল্লা ঝুকে আছে রোহিতদের দিকে। দুদলের ১১৯ দেখায় নিউজিল্যান্ডের ৫০ জয়ের বিপরীতে ভাররত জিতেছে ৬১ ম্যাচে। বাকি ৮ ম্যাচের ৭টি নিষ্ফলা আর একটি ম্যাচের ফল টাই। আর চ্যম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুদলের লড়াই ১-১ সমতা। তবে এই আসরে ফাইনালের দ্বৈরথে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। আর তাই আজ ম্যাচটি রোহিতদের জন্য প্রতিশোধেরও। ফাইনালযুদ্ধে নিজেদের অক্ষত রাখার চ্যালেঞ্জ কিউইদের।